আ.লীগের নির্বাচনী অঙ্গীকার রক্ষা নিয়ে সন্দেহ কোটা আন্দোলনকারীদের

১৯ ডিসেম্বর,২০১৮

আ.লীগের নির্বাচনী অঙ্গীকার রক্ষা নিয়ে সন্দেহ কোটা আন্দোলনকারীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ ও সংশয় প্রকাশ করেছে কোটা আন্দোলনের নেতারা। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের দুই নেতা এনিয়ে তাদের মন্তব্য দিয়েছেন।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর বলেন, ভালো লেগেছে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ব্লু-ইকোনমি, তরুণ যুব সমাজকে দক্ষ জনশক্তিকে রূপান্তরিত করা এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা, শিক্ষার সকল স্তরে মান বৃদ্ধিসহ বেশ কিছু চমৎকার প্রস্তাবনা রয়েছে।

তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, দক্ষ ও সেবামুখী জনপ্রশাসন এবং জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা গড়ে তোলা হবে বলে ইশতেহারে বলা হয়েছে। এটা নিয়ে প্রশ্ন নূরুল হক নূরের।

তিনি তার পোস্টে লিখেন, ‘এমন প্রতিটি দাবিই আওয়ামী লীগ চাইলে তাদের দুই মেয়াদের যে কোন এক মেয়াদেও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়ন করতে পারতো, কিন্তু করেনি। সুতরাং আগামীতে ক্ষমতায় এলে কতটুকু করবে তা নিয়ে সন্দেহ-সংশয় রয়েছে। তাছাড়া ছাত্রসংসদ নির্বাচনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের ইশতেহারে না দেখে হতাশ হয়েছেন’।

একই সংগঠনের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ রাশেদ খান বলেন, আওয়ামীলীগের কাছে আমাদের মূল দাবি ছিল, কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে ছাত্রদের নামে দায়ের করা সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে আমাদের স্বাভাবিক জীবনে চলাচলে সহায়তা করা। কিন্তু সে বিষয়ে তারা ইশতেহার কোনকিছু উল্লেখ করেনি। তাদের ইশতেহার তারুণ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, বেকারত্ব দূরীকরণেরও কথা বলা হয়েছে, গ্রামকে শহরে রুপান্তর করবে এ বিষয়েও বলেছে, যেগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর ক্ষেত্রে কোটা সংস্কারের একটি যৌক্তিক সমাধানের বিষয়ে বক্তব্য আসলে আরো ভালো লাগতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণায় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে দলটি। সেই সঙ্গে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। অঙ্গীকারের কথা জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে মেধা ও দক্ষতা বিবেচনায় রেখে বাস্তবতার নিরিখে যুক্তিসঙ্গত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রায় পাঁচ কোটি ৩০ লাখ তরুণদের উদ্দেশ্যে দলটির ইশতেহারে বলা হয়, সরকার ক্ষমতায় গেলে তরুণরা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রয়োজন এবং তরুণদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির জন্য আবেদন করার আহ্বান জানাতে পারবে। ২০২৩ সাল নাগাদ অতিরিক্ত এক কোটি ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে। এ ছাড়া এই সময়ের মধ্যে নতুনভাবে এক কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজার মানুষ শ্রমশক্তিতে যুক্ত হবে।

ইশতেহারে তরুণ সমাজকে উৎপাদনমুখী করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি গ্রামকে শহরে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। ইশতেহারে দেয়া হয়েছে এরকম মোট ২১টি বিশেষ অঙ্গীকার।

মন্তব্য

মতামত দিন

শিক্ষাঙ্গন পাতার আরো খবর

বাংলাদেশে কোচিং নির্ভরতা কেন এ পর্যায়?

ডেস্ক নিউজআরটিএনএনঢাকা: যেহেতু আমরা দুজনেই কর্মজীবী, সেজন্য আমরা বাচ্চাদের বাসায় সময় দিতে পারি না। যদি সময় দিতে পারতা . . . বিস্তারিত

নবাগতদের র‌্যাগিং: বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি’র ৬ শিক্ষার্থী আজীবন বহিষ্কার, মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধিআরটিএনএনগোপালগঞ্জ: নবাগত দুই  শিক্ষার্থীকে র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com