মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেপ্তার ৪৯

১৩ জুন,২০১৮

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেপ্তার ৪৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা:  মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১২ জুন) সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখা থেকে জানানো হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এই অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৯ জনের কাছ থেকে ৫ হাজার ৯৮৯টি ইয়াবা বড়ি, ১ কেজি ১৩৬ গ্রাম হেরোইনের ৬৬৪টি পুরিয়া, ৯৫০ গ্রাম গাঁজা, ২৭৫ বোতল ফেনসিডিল, ৭২ ক্যান বিয়ার ও ৮০টি নেশাজাতীয় ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫১টি মামলা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন...
রাজধানীতে ৩৬ হাজার ইয়াবাসহ সাতজন আটক
ঢাকা: রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পৃথক অভিযানে ৩৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ সাতজনকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

এ সময় একটি মিনি ট্রাকও জব্দ করা হয়। সোমবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক অভিযানে তাদেরকে আটক করা হয়েছে।

ডিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে যাত্রাবাড়ী থানার ঢাকা-মাওয়া রোডের পাশে মেট্রো সিএনজি স্টেশনের ভেতরে নামাজের জায়গায় ইয়াবা ক্রয়-বিক্রয়ের সময় চারজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন- শহিদুল্লাহ (৩০), শ্রী স্বপন দত্ত (৩২),মাহবুর সরদার (৩০) ও মাহমুদ হোসেন (৩০)। তাদের কাছ থেকে মোট ২৮ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া পৃথক অভিযানে যাত্রাবাড়ীর শনির আখরা ব্রিজ থেকে আরও তিনজনকে আটক করে ডিবি। তারা হলেন- মো. ইসমাইল হোসেন (৪৭), মো. কালা হাসান (৪৫) ও মো. বরকত আলী (৩৫)।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৮ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়। ডিবি বলছে, আটক ৭ জনই মাদক ব্যবসায়ী।

ডিবির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি ও টিম লিডার) মো. গোলাম সাকলায়েন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে শহিদুল্লাহর বাড়ি টেকনাফের সীমান্তবর্তী শাহ পরীর দ্বীপে। সে কোরআনে হাফেজ।

সীমান্তবর্তী বাড়ি হওয়ায় মিয়ানমার থেকে ইয়াবা এনে তা মো. তারেকর (৩২) মাধ্যমে ঢাকায় নিয়ে এসে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করতো। জিজ্ঞাসাবাদে শহিদুল্লাহ এসব স্বীকার করেছে। তবে ডিবির অভিযানের সময় তারেক পালিয়ে যায়। তাকে ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, শহিদুল্লাহ (৩০) ভারতের দেওবন্দ দারুল উলুম মাদরাসা থেকে থেকে দাউরায়ে হাদিস পাস ও কোরআনে হাফেজ। পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের চারজনই হাফেজ। হাফেজের পাশাপাশি তিনি খুব ভালো ক্বারিও। মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) বলছে, বর্তমানে তিনি ইয়াবা ব্যবসা চক্রের হোতা।

যাত্রাবাড়ীর শনিরআখরায় অভিযানের নেতৃত্বদানকারী ডিবি (উত্তর) বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মো. আব্দুস ছোবাহান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মো. ইসমাইল হোসেন জানায় যে, সে টেকনাফ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে মো. মাসুদ মিয়া (৩২) ও তার অন্যান্য সহযোগিদের মাধ্যমে ঢাকায় বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করতো। অভিযানের সময় মাসুদ মিয়া পালিয়ে যায়। তাকে গ্রেপ্তাতারে চেষ্টা চলছে।

পৃথক দুটি অভিযান সম্পর্কে এডিসি মো. শাহজাহান বলেন, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দুইটি স্পটে অভিযান চালায় এবং ইয়াবা ক্রয়-বিক্রয়ের সময় হাতেনাতে ধরে। অভিযানের সময় দুইজন পালিয়ে গেলেও তাদের ধরতে অভিযান চালানো হয়েছে। ডিবির এ মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তাদের আদালতে প্রেরণ করে রিমান্ড চাইবে ডিবি।

পুলিশের নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে রবিবার (৩ জুন) ভোর ৬টা থেকে সোমবার (৪ জুন) ভোর ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় পৃথক অভিযানে ৮৪ জনকে গ্রেপ্তাতার করেছে ডিএমপি।

এছাড়া সোমবার রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল ও মধুবাগ এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৫০ জন মাদক সেবনকারী ও মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।

মন্তব্য

মতামত দিন

মহানগর পাতার আরো খবর

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রথম মামলা

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: দেশে আইন হওয়ার তিন দিনের মাথায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রথম মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত . . . বিস্তারিত

নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দিল ‘জাবালে নূর’

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: বাসচাপায় নিহত শিক্ষার্থী আব্দুল করিম রাজিব ও দিয়া খানম মিমের পরিবারকে হাইকোর্টের নির্দেশ অ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com