সিজার নিখোঁজ: পুলিশ শুধু শোনায় ‘আশার বাণী’

১৪ নভেম্বর,২০১৭

সিজার নিখোঁজ: পুলিশের আছে শুধু ‘আশার বাণী’

নিউজ ডেস্ক
আরটিএনএন
ঢাকা: ছয় দিনেও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড. মোবাশ্বার হাসান সিজারের খোঁজ মেলেনি। তার নিখোঁজের কারণও বলতে পারছে না পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের শুধু ‘উদ্ধারের চেষ্টা’র কথাই জানানো হচ্ছে।

ড. মোবাশ্বার হাসান সিজার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক ছাত্র৷ সাংবাদিকতাও করেছেন তিনি। সিজারের সন্ধান দাবিতে রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক এবং বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।

সেখানে ছিলেন একই বিভাগের সাবেক ছাত্র এবং বেসরকারি টেলিভিশন ‘চ্যানেল আই’-এর বার্তা সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল। তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘সিজার আমাদের একই বিভাগের শুধু ছাত্রই ছিলেন না, আমার সহকর্মীও ছিলেন।

আমরা যখন বাংলাদেশের প্রথম সংবাদভিত্তিক অনলাইন (নিউজ পোর্টাল) বিডিনিউজ শুরু করি, সিজার সেখানে একজন উদ্যমী তরুণ সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতেন। তিনি তখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। পাস করে বের হওয়ার পর সিজার শিক্ষকতায় চলে যান। আমাদের কাছে মনে হয়ছে সিজারের জন্য আমাদেরও কিছু করার আছে।’

তিনি বলেন, ‘সিজার নিখোঁজ হওয়ার পিছনে যদি মত প্রকাশের কোনো কারণ থেকে থাকে, তাহলে তা তো সাংবাদিকদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। আর সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সিজারকে উদ্ধারের জন্য আরো চাপ সৃষ্টি করতে পারে।’

তবে জাহিদ নেওয়াজ খান বলেন, ‘এইসব ঘটনায় যেমন সামাজিক চাপ সৃষ্টি হওয়া দরকার, তেমন হচ্ছে না।’

বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোরডটকমের খবর অনুযায়ী, রবিবারের সমাবেশে সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মফিজুর রহমান বলেন, ‘কারো একার পক্ষে সিজারকে খুঁজে বের করা সম্ভব নয়। এই দায়িত্ব রাষ্ট্রের।’

অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘এ দেশে যুদ্ধাপরাধীর বিচার হয়েছে, জাতির জনকের হত্যার বিচার হয়েছে, মুবাশ্বার কী এমন অপরাধ করেছে, যেটির বিচার হওয়া সম্ভব নয়, তাকে অগোচরে শেষ করে দেওয়া হবে?’

সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শবনম আযীম বলেন, ‘কিছুদিন আগে সিজার একদিন ফোনে বলেছিল কিছু একটা ঘটবে, আমার ভালো লাগছে না।আজ সে নিখোঁজ। রাষ্ট্রযন্ত্রের কাছে অনুরোধ, সিজারের শাস্তি পাওনা হলে তাকে শাস্তি দেওয়া হোক, কিন্তু জীবিতভাবে সামনে আনা হোক।’

সমাবেশে অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন বলেন, ‘এই গুম আর বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’ সমাবেশে উপস্থিতরা ৭২ ঘন্টার মধ্যে সিজারকে উদ্ধারের দাবি জানান। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।

সিজার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড সোশিওলজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি যুক্তরাজ্যে মাস্টার্স ও অস্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি করেন।

দেশে ফিরে এসে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগ দেন। তার কর্মক্ষেত্র নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা এখন তাকে নিয়ে উদ্বেগ, উৎকন্ঠায় রয়েছেন। তবে ওই বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা এখনো কোনো প্রকাশ্য সমাবেশ বা র্যা লি করে প্রতিবাদ জানাননি।

জানা গেছে, মঙ্গলবার ছাত্রদের উদ্যোগে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি আহ্বান করা হয়েছিল। ফেসবুকে এ নিয়ে প্রচারও হয়। পরে অজ্ঞাত কারণে ওই কর্মসূচি বাতিল করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা বেলাল আহমেদ ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘সিজার যে বিভাগের শিক্ষক, সেই বিভাগের চেয়ারম্যান সিজারের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। সিজারের ব্যাপারে কোনো ধরনের তথ্য পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত কোনো আপডেট নাই।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সিজারকে উদ্ধারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষকরা কোনো ধরনের কর্মসূচি পালন করেনি। কোনো কর্মসূচি দেয়াও হয়নি।’

এদিকে ছয় দিনেও সন্তানের খোঁজ পাওয়া না যাওয়ায় সিজারের বাবা মোতাহার হোসেন ভেঙে পড়েছেন। ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা হয় সিজারের ছোট বোন তামান্না তাসনিমের। তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘আমরা তো একমাত্র আশাই করতে পারি। সিজারের ব্যাপারে কোনো তথ্য নাই, আপডেট নাই। আশা ছাড়া আমরা আর কী করতে পারি! আশাই তো আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ বা সরকারের দিক থেকে বলা হচ্ছে , আমরা চেষ্টা করছি, আশা হারাবেন না।’ তামান্না রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবেশে ছিলেন। সেখানে তিনি ‘অতি দ্রুত’ সিজারকে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি ভিত্তিহীন প্রচার না চালানোর আহ্বানও জানান তিনি।

ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘কিছু সংবাদ মাধ্যম এমন সব তথ্য দিচ্ছে, তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। যা সঠিক নয়, তা দেয়া ঠিক নয়। সিজারকে যাতে পাওয়া যায়, সেই উদ্দেশ্যেই কাজ করা উচিত।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমানের কাছে সিজারের ব্যাপারে সর্বশেষ তথ্য জানতে চাইলে ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে উদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। কিন্তু এখনো তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।’

তিনি জানান, সিজারকে উদ্ধার করার বিষয়ে ‘সব কলা কৌশল’ এবং ‘গোয়েন্দা তথ্য’ই কাজে লাগাচ্ছে পুলিশ।এদিকে রবিবার ঢাকার মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে সময় লাগবে। অপহৃতদের খুঁজে না পাওয়া ব্যর্থতা নয়। একটু সময় দিতে হবে। তাদেরকে ফিরে পাওয়া যাবে৷ তাদের উদ্ধারে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে সিজার নিখোঁজ। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার নিয়ে গবেষণাধর্মী কাজের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মীয় সম্পৃক্ততাও ছিল তার গবেষণার বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন’ প্রকল্পের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। তবে তার এক বন্ধু ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘সিজারের এসব কাজ ছিল পুরোপুরি গবেষণাধর্মী। এই গবেষণার মধ্যে জঙ্গি দমন বা এ জাতীয় কিছু ছিল না। তবে সে তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। এ কারণে সম্প্রতি সে তার বাসায় সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছিল।’

মন্তব্য

মতামত দিন

মহানগর পাতার আরো খবর

নগরজুড়ে তীব্র যানজট

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ইউনেস্কোর স্ . . . বিস্তারিত

বাবার হত্যাকাণ্ড দেখে ফেলায় মেয়েকেও খুন

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: বাবার হত্যাকাণ্ড দেখে ফেলায় নয় বছরের শিশু নুসরাত জাহানকেও হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com