ফেনীর উপজেলা চেয়ারম্যান একরাম হত্যা মামলার রায়ে ৩৯ ফাঁসি

১৩ মার্চ,২০১৮

ফেনীর উপজেলা চেয়ারম্যান একরাম হত্যা মামলার রায়ে ৩৯ ফাঁসি

নিজস্ব প্রতিনিধি
আরটিএনএন
ফেনী: বহুল আলোচিত ফেনীর ফুুলগাজী উপজেলার তৎকালীন চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি একরামুল হক একরাম হত্যা মামলার রায়ে ৩৯ ফাঁসি আদেশ দিয়েছে আদালত। মামলাটির প্রধান আসামি ফেনী জেলা তাঁতী দলের আহ্বায়ক মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী মিনার ও ফেনী পৌর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউল আলম মিস্টারসহ ১৬ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আমিনুল হক এ রায় দেন। দুপুরে ফেনী কারাগার থেকে ৩৬ জন আসামিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আমিনুল হকের বরাত দিয়ে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হাফেজ আহাম্মদ একথা জানান।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আবিদুর রহমান আবিদ, জাহিদ হোসেন চৌধুরী জিহাদ, এমরান হোসেন রাসেল প্রকাশ ইঞ্জিনিয়ার রাসেল, জিয়াউল হক বাপ্পি, আজমীর হোসেন রায়হান, মো. শাহজালাল উদ্দিন শিপন, কাজী শাহনান মাহমুদ, নুর উদ্দিন মিয়া, আবদুল কাইয়ুম, সাজ্জাদুল ইসলাম পাটোয়ারী, জাহিদুল হাশেম সৈকত, মো. আবদুল্লাহিল মাহমুদ শিবলু, আবু বক্কর ছিদ্দিক প্রকাশ বক্কর, আরমান হোসেন কাওসার, চৌধুরী মো. নাফিজ উদ্দিন অনিক, জাহিদুল ইসলাম, ফেরদৌস মাহমুদ খান হীরা, সজীব, ইকবাল, জাহাঙ্গীর কবির আদেল, পাংকু আরিফ, ইসমাইল হোসেন চুট্টু, জসিম উদ্দিন নয়ন, মামুন, মো. সোহান চৌধুরী, মানিক, কফিল উদ্দিন মাহমুদ আবির, টিটু, নিজাম উদ্দিন আবু, রাহাত মো. এরফান, টিপু, আরিফ প্রকাশ নাতি আরিফ, রাশেদুল ইসলাম রাজু, রুবেল, বাবলু, শফিকুর রহমান ময়না, রিপন, একরাম হোসেন আকরাম, মহি উদ্দিন আনিস ও মোসলেহ উদ্দিন আসিফ।

ফেনী জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হাফেজ আহাম্মদ জানান, মামলায় আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ১৬ জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। এরা হলেন- বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ওরফে মিনার, যুবলীগ নেতা জিয়াউল আলম মিস্টার, আবদুর রহমান রউফ, হাজী বেলায়েত পাটোয়ারী প্রকাশ টুপি বেলাল, সাইদুল করিম পাপন, রিপন, ইকবাল হোসেন, শরিফুল জামিল পিয়াস (পলাতক), কালা মিয়া, মো. ইউনুস ভূঞা শামীম প্রকাশ টপ শামীম (পলাতক), আলমগীর প্রকাশ আলা উদ্দিন, কাদের, ফারুক, জাহিদ হোসেন ভূঞা, মো. মাসুদ ও মো. শাখাওয়াত।

এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আলোচিত এই মামলার দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য আজকের দিন (১৩ মার্চ) ধার্য করেন। এদিন সব আসামির জামিন বাতিল করেন। ৫৯ জন সাক্ষীর মধ্যে বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৫০ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার চার্জশিটভুক্ত ৫৬ জন আসামির মধ্যে ১৬ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

তাদের মধ্যে হেলাল উদ্দিন নামের একজন পরে রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করেন। এ ছাড়া মামলার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীরাও চেয়ারম্যান একরামুল হকের গাড়ির গতিরোধ, গুলি করে, কুপিয়ে ও গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন।

মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ৫৬ আসামির মধ্যে ১৪ জন কারাগারে ও ২৪ জন জামিনে ছিলেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি আদালত সকল আসামির জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠান। মামলার শুরু থেকে ১০ জন পলাতক রয়েছেন এবং জামিনে গিয়ে আরো ৭ জন পলাতক হয়েছেন। এছাড়া, জামিনে থাকা মো. সোহেল ওরফে রুটি সোহেল নামের একজন আসামি ইতোমধ্যে র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন।

২০১৪ সালের ২০ মে শহরের একাডেমি এলাকায় দিবালোকে তৎকালীন ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একরামুল হক একরামকে গুলি করে, কুপিয়ে ও গাড়িসহ পুড়িয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এঘটনায় চেয়ারম্যান একরামুল হকের ভাই রেজাউল হক জসিম বাদী হয়ে বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন ওরফে মিনার চৌধুরীসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করে ফেনী সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।

ওই বছরের ২৮ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। একই বছরের ১২ নভেম্বর মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত। হত্যার প্রায় দুই বছর পর ২০১৬ এর ১৫ মার্চ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু করে আদালত। এ বছরের ২৮ জানুয়ারি এ মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হয়। এ মামলায় বিভিন্ন সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।

অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়ায় একরামের লাশ তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ কংকাল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সেখানে একরামের লাশ শনাক্ত করা হয়। রাতেই লাশ ফেনীতে একরামের মাস্টারপাড়ার বাসায় নিয়ে আসা হয়। পরের দিন ফেনী মিজান ময়দানে প্রথম জানাজা এবং পরে আনন্দপুর স্কুল মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে আনন্দপুর গ্রামের বাড়ির সামনে লাশ দাফন করা হয়।

এদিকে, মামলার আসামিদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের মুক্তির দাবিতে আজ মঙ্গলবার সকালে আদালতের বাইরে পুরাতন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের খাজুরিয়ায় এলজিইডি ভবনের সামনে মানববন্ধন হয়েছে।

এ সময় শতাধিক কিশোরকে ব্যানার হাতে দেখা যায়। ব্যানারে ‘তৃণমূল ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ’ ও ‘জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ’র পক্ষ থেকে দলীয় নেতাদের মুক্তি দাবি করা হয়- বলে উল্লেখ করা হয়। সকাল ১০টার দিকে মানববন্ধন শুরু হলেও ১৫ মিনিটের মধ্যে পুলিশ তাদের ওই স্থান থেকে সরিয়ে দেয়।

মন্তব্য

মতামত দিন

দেশজুড়ে পাতার আরো খবর

আশুলিয়ায় গুলিবিদ্ধ ৪ হিজড়া

নিজস্ব প্রতিনিধিআরটিএনএনসাভার: সাভারের আশুলিয়ায় দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় ৪ হিজড়া গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুরুতর আহতাবস্থায় . . . বিস্তারিত

পুলিশি তদন্তে তাসফিয়ার আত্মহত্যা, নারাজি দেবে পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনচট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আমিনকে কেউ হত্যা করেনি। সে ‘আত্মহত্যা’ করে . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com