ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তিন, আহত ১০

১৩ ফেব্রুয়ারি,২০১৮

ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তিন, আহত ১০

নিজস্ব প্রতিনিধি
আরটিএনএন
ফেনী: ফেনীতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। সেই সাথে এই ঘটনায় আরো দশজন আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ধুমঘাট ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর মুহুরীগঞ্জ এলাকায় চট্টগ্রাম অভিমুখী জোনাকী পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী বাসের (লক্ষ্মীপুর ব-১১-০০০৯) সাথে বালুভর্তি একটি ট্রাকের (চট্ট মেট্রো ট-১১-৪০০২) মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মুহুরীগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো.মাহবুব জানান, চট্টগ্রামগামী জোনাকী পরিবহনের একটি বাসের সাথে বালু ভর্তি একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়।

ফেনীর মহিপাল হাইওয়ের থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আউয়াল জানান, নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি বলেও জানান তিনি।

ফেনীর একরাম হত্যা মামলার রায় ১৩ মার্চ
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা একরাম হত্যা মামলার রায় আগামী ১৩ মার্চ। একই সঙ্গে আদালত জামিনে থাকা সব আসামির জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার জেলা ও দায়রা জজ আমিনুল হক এ তারিখ ধার্য করেন।

ফেনী জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হাফেজ আহাম্মদ জানান, এ মামলায় ৫৯ জন সাক্ষীর মধ্যে বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৫০ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ৫৬ জন আসামির মধ্যে ১৬ জন বিচারিক হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডে ঘটনায় জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের মধ্যে হেলাল উদ্দিন নামের একজন পরে রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করেন। এ ছাড়া মামলার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীরাও চেয়ারম্যান একরামুল হকের গাড়ির গতিরোধ, গুলি করে, কুপিয়ে ও গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন।

মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ৫৬ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে ১৪ জন কারাগারে ও ২৪ জন জামিনে ছিলেন। মামলার শুরু থেকে ১০ জন পলাতক রয়েছেন এবং জামিনে গিয়ে আরও ৭ জন পলাতক হয়েছেন। এ ছাড়া জামিনে থাকা মো. সোহেল ওরফে রুটি সোহেল নামের একজন আসামি ইতিমধ্যে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন।

২০১৪ সালের ২০ মে ফেনী শহরের একাডেমি এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হককে গাড়ির গতিরোধ করে কুপিয়ে, গুলি করে ও গাড়িসহ পুড়িয়ে হত্যা করেন আসামিরা।

এ ঘটনায় চেয়ারম্যান একরামুল হকের ভাই রেজাউল হক জসিম বাদী হয়ে বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ওরফে মিনার চৌধুরীসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করে ফেনী সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। আসামিদের মধ্যে একমাত্র বিএনপি নেতা মিনার চৌধুরী ছাড়া অন্যরা সবাই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী।

এর আগে রুটি সোহেলের নির্দেশে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হককে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছিল র‌্যাবের হাতে আটক আবিদুল ইসলাম ওরফে আবিদ। রাজধানীর উত্তরায় র‌্যাব সদর দপ্তরে র‌্যাবের আনুষ্ঠানিক সংবাদ ব্রিফিংয়ের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

আবিদের দাবি, মূলত রুটি সোহেলের নির্দেশে তারা এ কাজটি করেছেন। তিনি নিজে গুলি করেননি। ফাঁকা গুলি ছোড়েন তিনি। আরিফ, সোহেল, পাঙ্খু আরিফ গুলি করেন একরাম চেয়ারম্যানকে। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি জানান, নিজাম হাজারী তার ফুফাতো ভাই। তাঁর মা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

অন্যদিকে র‌্যাবের হাতে আটক মো. শাহজালাল উদ্দিন ওরফে শিপন সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার দিন সকাল ১০টার দিকে ছাত্রলীগের একটি শো ডাউনের কথা বলে তাঁদের ওই এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁরা ৫০-৬০ জন সেখানে যান।

র‌্যাবের সদর দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আটজনকে আটকের তথ্য জানানো হয় র‌্যাবের পক্ষ থেকে। সে সময় বক্তব্য দেন র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার। তিনি দাবি করেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী আবিদুল ইসলাম আবিদসহ সাতজনকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে রাতে আটক করে র‌্যাব-১-এর একটি দল।

আটক ব্যক্তিরা হলেন আবিদুল ইসলাম ওরফে আবিদ, জাহিদুল ইসলাম ওরফে সৈকত, চৌধুরী মো. নাফিজ উদ্দিন ওরফে অনিক, কাজী শানান মাহমুদ, মো. সাজ্জাদুল ইসলাম পাটোয়ারী ওরফে সিফাত, মো. শাহজালাল উদ্দিন ওরফে শিপন ও হেলাল উদ্দিন। তাঁদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী র‌্যাব-৭-এর একটি দল ভোররাতে ফেনীর রামপুর এলাকা থেকে মো. জাহিদ হোসেনকে আটক করে।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জিহাদ চৌধুরী একরামুল হককে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এরই অংশ হিসেবে ১৯ মে রাতে সালাম জিমনেশিয়ামের একটি কক্ষে জিহাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে আরও কয়েকজনের উপস্থিতিতে একরামুলকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঘটনার দিন সকাল আটটার দিকে তারা সবাই শহরের অ্যাকাডেমি এলাকায় অবস্থান নেন। পরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।

মন্তব্য

মতামত দিন

দেশজুড়ে পাতার আরো খবর

দুই জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনটাঙ্গাইল: ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর . . . বিস্তারিত

চট্টগ্রামে পাহাড় ও দেয়াল ধসে নিহত ৪

নিজস্ব প্রতিনিধিআরটিএনএনচট্টগ্রাম: ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরের পৃথক দু’টি স্থানে পাহাড় ধস ও দেয়াল ধসে চার জন নিহত . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com