ভারত থেকে ১৯ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দিয়েছে বিএসএফ

১১ অক্টোবর,২০১৭

রোহিঙ্গা শরণার্থী

নিজস্ব প্রতিনিধি

আরটিএনএন

সাতক্ষীরা: ভারত থেকে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ১৯ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দিয়েছে বিএসএফ। অনুপ্রবেশকালে ওই রোহিঙ্গা সদস্যদের আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বুধবার ভোরে পদ্মশাকরা সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- মরিয়ম বেগম, আসমা খাতুন, রাশিদা খাতুন, সুমাইয়া বেগম, গুলশান আরা খাতুন, জাইনুল বেগম, মো. আলাউদ্দিন, আজি রহমান ও এনায়েত আলি। আটক ১০ শিশুর বয়স সর্বোচ্চ ছয় বছর।

বিজিবির পদ্মশাকরা বিওপি কমান্ডার সুবেদার মোশাররফ হোসেন তাদের বরাত দিয়ে জানান, রোহিঙ্গারা সবাই ভারত থেকে বিএসএফের সহায়তায় বাংলাদেশে এসেছে।

এর আগে ২০১২ ও ২০১৪ সালে দুই দফায় তারা মায়ানমার থেকে ভারতের দিল্লিতে যান। সেখানেই তারা বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় এবং খাদ্য বস্ত্র ও চিকিৎসা দিচ্ছে এ খবর পেয়ে তারা দিল্লি থেকে বাংলাদেশে চলে এসেছেন।

আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান মোশাররফ হোসেন।

পদ্মশাকরা থেকে সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক শরিফ এনামুল হক জানান, উদ্ধারকৃতরা বেশ ক্লান্ত। তাদের খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার কলারোয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ১৩ জন ও ৩ অক্টোবর কলারোয়ার হিজলদী সীমান্ত থেকে আরো ৭ রোহিঙ্গা সদস্যকে আটক করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদী’র সরকার ভারতে আশ্রয় নেয়া ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। এ নিয়ে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। কেন্দ্র চাইছিলো রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আদালত যেন নাক না গলায়। কেন্দ্রের যুক্তি, রোহিঙ্গাদের মধ্যে সন্ত্রাসবাদীরা থাকতে পারে।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র বলেন, সংবিধানের ৩২ ধারা (ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষা) অনুযায়ী এ ধরনের প্রশ্ন যখন সামনে আসে, তখন আদালত তার দায়িত্ব এড়াতে পারে না। এরপর আদালত মানবিকতা ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব মাথায় রেখে রোহিঙ্গা নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের ভারতের পক্ষে রক্ষা করা সম্ভব কি না তা সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে।

প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বেঞ্চ সরকারকে জানিয়ে দেয় যে  রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আবেদনের শুনানি হবে শুধুমাত্র আইনি যুক্তির মাপকাঠিতে।

এতে মানবিকতার প্রশ্ন জড়িয়ে থাকায় পিটিশনের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে কোনো প্রকার আবেগ টেনে না আনতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পারস্পরিক মর্যাদা দিয়ে বিষয়টি শোনা উচিত বলেও আদালত মন্তব্য করে।

আদালত দু’পক্ষকে সমস্ত নথি ও আন্তর্জাতিক কনভেনশনের বিশদ বিবরণ প্রস্তুত করে হাজির করা নির্দেশ দেয়। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো সম্পর্কিত সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিসহ এই মামলায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক বিস্তারিত শোনা হবে বলে আদালত জানিয়েছে।

অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকার বলছে, এই মামলায় আগে ঠিক করা হোক আদালত এতে হস্তক্ষেপ করতে পারে কী না।

রোহিঙ্গাদের পক্ষে মামলায় অংশ নেয়া সিনিয়র আইনজীবী ফলি এস নরিম্যান বলেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার নীতি কেন পরিবর্তন করেছে তা স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের আবেদন বিচারযোগ্য। কারণ সংবিধান ব্যক্তিগত অধিকারের নিশ্চয়তা দিয়েছে।

প্রধান বিচারপতির এজলাসে দাঁড়িয়ে নরিম্যান নিজেকে ব্রিটিশ বার্মা থেকে আসা শরণার্থী পরিচয় দিয়ে বলেন, এটি সংবিধানে প্রদত্ত জীবনের মৌলিক অধিকার। যারা নিজের দেশ থেকে প্রাণহানির ভয়ে পালিয়ে এসে আশ্রয় চাইছেন, সেই উদ্বাস্তুদেরও এই অধিকার প্রাপ্য।

২০১৫-তে মোদী সরকারই বিজ্ঞপ্তি জারি করে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে ধর্মীয় হানাহানির ভয়ে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পার্সি, জৈন ও শিখদের কথা স্পষ্টভাবে লেখা ছিল বিজ্ঞপ্তিতে।

কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করে, রোহিঙ্গারা ৩২ অনুচ্ছেদ নিয়ে যে আবেদন করেছে তা শুনানিযোগ্য নয়। কারণ ৩২ অনুচ্ছেদ দেশের নাগরিকদের জন্য; অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য নয়। রোহিঙ্গাদের যাতে ফেরত পাঠানো যায়, তার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতেও মায়ানমারকে চাপ দিচ্ছে ভারত।

ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ওই মামলায় পক্ষভুক্ত হতে আদালতে আবেদন জানিয়েছে। ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে।

রোহিঙ্গা মুসলিমরা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং তারা বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ও নানা বেআইনি কাজকর্মে জড়িত দাবি করে গত ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে সরকারপক্ষ থেকে হলফনামা দেয়া হয়। কিন্তু দুই রোহিঙ্গা সরকারের দাবির বিরোধিতা করে গত ২২ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা করে।

এদিকে ভারতের বিজেপি সরকার নানা কৌশলে রোহিঙ্গাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে তাদেরকে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

মন্তব্য

মতামত দিন

দেশজুড়ে পাতার আরো খবর

সিলেটে অভ্যন্তরীণ বিরোধে প্রাণ গেল আরেক ছাত্রলীগ নেতার

নিজস্ব প্রতিনিধিআরটিএনএনসিলেট: আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সিলেটের টিলাগড় এলাকায় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ওমর আলী মিয়াদ ( . . . বিস্তারিত

ইয়াবাসহ মহিলা মেম্বার ডিবির ফাঁদে আটক

নিজস্ব প্রতিনিধিআরটিএনএনমাগুরা: এবার মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় ১৭৫ পিস ইয়াবা, একাধিক পাসপোর্ট, বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তাদ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com