‘মায়ানমারের সেনারা আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল’

১১ সেপ্টেম্বর,২০১৭

নিউজ ডেস্ক

আরটিএনএন

কক্সবাজার: কক্সবাজার জেলার উখিয়া এলাকায় গত কয়েক দিনে হাজারে হাজারে আসা রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের আগমনের ফলে এক অভাবনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।  বাংলাদেশে পালিয়ে আসা তাহের নামের এক যুবক বলেন, মায়ানমারের সেনারা তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। তিনি কোনমতে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে এসেছেন।


পালিয়ে আসা আবু শামা নামে আরেক ব্যক্তির সাথে কথা হয়। যার বয়স সত্তরের কাছাকাছিই হবে। তিনি বলেন, তার চার ছেলে এবং দুই মেয়ে নিখোঁজ। তার ছেলেমেয়েদের একটি ছবিও দেখালেন তিনি।


এদিকে উখিয়া এলাকায় রাস্তার পাশে, বাজারে, বিভিন্ন খোলা জায়গায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বসে থাকতে দেখা যায়। চারদিকে তাকিয়ে দেখা যাচ্ছে শত শত মানুষের ভিড়। প্রতিদিনই শরণার্থীরা আসছেন স্রোতের মতো। খবর বিবিসির।


যেখানে ফাঁকা জায়গা পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই নীল ত্রিপল খাটিয়ে বানানো হয়েছে অস্থায়ী আশ্রয়।


রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় বসে আছেন বহু নারী ও শিশুসমেত এক একটি পরিবার । তারা দল বেঁধে বসা, সাথে কাপড়ের বোঁচকা, ছালা বা চাটাই, যাতে তারা কোনমতে তাদের জিনিসপত্র যা পারেন বেঁধে নিয়ে এসেছেন।


জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এবং সরকারি হিসেবে এখন রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীর সংখ্যা তিন লক্ষের বেশি বলে বলা হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় লোকজন এবং জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, শরণার্থীর সংখ্যা সাড়ে পাঁচ লক্ষর বেশি হবে।


গত বছরের ডিসেম্বরে মায়ানমারে সহিংসতার কারণে এ এলাকায় যে পরিমাণ রোহিঙ্গা শরণার্থী আসতে দেখা গিয়েছিল, এখনকার সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।


এসব লোকদের অনেকেই আশ্রয় পাননি এখনো। রোহিঙ্গাদের জন্য যে ক্যাম্প স্থাপন করার কথা হচ্ছে তার মূলত প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো সম্পন্ন হয়েছে। কম্পিউটার স্থাপন, বিদ্যুত সংযোগ দেয়া ইত্যাদি কাজ মেষ কিন্তু তালিকা তৈরির প্রকৃত কাজটি এখনো শুরু হয়নি। প্রশাসন বলছে, মঙ্গলবার থেকে এ কাজ শুরু হবে।


এর আগে সরকারি অবস্থান ছিল যে ক্যাম্পের বাইরের রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিবন্ধন করা হবে না। কিন্তু এখন সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে বলেই দেখা যাচ্ছে।


মায়ানমারের নাগরিক হিসেবে তাদের চিহ্নিত করা, ফেরত পাঠানোর সময় আইডি কার্ড দেখে তাদের ফেরত পাঠানো, যতদিন তারা থাকবেন তাদের মানবিক সাহায্য নিশ্চিত করা, তারা বাংলাদেশে থাকার সময় কোন অপরাধমূলক বা নিরাপত্তা বিঘ্নকারী তৎপরতায় যুক্ত হতে না পারেন এটা নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য।


তবে এই নিবন্ধনের কাজ বেশ কঠিন হবে এবং তা যে দ্রুত শেষ করাও যাবে না, পরিস্থিতি দেখে এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।

মন্তব্য

মতামত দিন

দেশজুড়ে পাতার আরো খবর

রাখাইনে বার্মিজ বাহিনীর গণহত্যায় নিহতদের গায়েবানা জানাজা

নিজস্ব প্রতিনিধিআরটিএনএনরাজশাহী: মায়ানমারের রাখাইনে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর গণহত্যায় নিহতদের গায়েবানা জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হ . . . বিস্তারিত

পবিত্র আশুরা ১ অক্টোবর

নিজস্ব প্রতিবেদক আরটিএনএনঢাকা: বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আকাশে ১৪৩৯ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে শুক্রবা . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com