লালমনিরহাটে আবারো বন্যা, লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

১২ আগস্ট,২০১৭

নিজস্ব প্রতিনিধি
আরটিটএনএন
লালমনিরহাট: ভারী বর্ষন ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে তিস্তা, ধরলা, বুড়ি তিস্তা ও সানিয়াজান নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটে আবারো বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে তিস্তার তীরবর্তী প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে আবারো নদীগুলোর পানি বাড়তে শুরু করে। দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের দোয়ানী পয়েন্টে শনিবার সকালে বিপদ সীমার ৩৭ সে. মি. উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে থাকে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড দোয়ানী’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে পানি আসায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে কারণে তিস্তার তীরবর্তী এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। আমরা প্রতি মুহূর্তে বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করছি। তিস্তার পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। আরো কি পরিমাণ পানি আসবে তা ধারণা করা যাচ্ছে না। 

তিস্তা পাড়ের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন আগের বন্যায় চর এলাকাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে গেছে। জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় বন্যায় সব চেয়ে বেশি ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে। যে কারণে ওই এলাকায় বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি লোকজনের মাঝে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

ভারত গজল ডোবা ব্যারেজের অধিকাংশ গেট খুলে দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ঘর বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন। তীব্র গতিতে ময়লা ও ঘোলা পানি বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। পানির গতি নিয়ন্ত্রন করতে তিস্তা ব্যারাজের বেশির ভাগ গেট খুলে দেয়া হয়েছে।

ফলে তিস্তার পানিতে পাটগ্রামে অবস্থিত বহুল আলোচিত বিলুপ্ত ছিটমহল আঙ্গোরপোতা-দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, সির্ন্দুনা, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন, কালীগঞ্চ উপজেলার ভোটমারী, শোলমারী, জমিরবাড়ী, বইরাতী, আদিতমারী উপজেলার কুঠিপাড়া, গোবর্দ্ধধন, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছা, রাজপুর, তিস্তা, গোকুণ্ড এলাকার চরে ৩০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

হাজার হাজার একর আমন ধানের ক্ষেতসহ অনেক ফসলী ক্ষেত তিস্তার পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিন ধুবনী গ্রামের শামসুল হক, শরীফ মোল্লা, আব্দুস ছালাম, আবুল কাশেম, নুরল হকসহ অনেক পানিবন্দি পরিবার অভিযোগ করেন, আমরা ২ দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় আছি। এখন পর্যন্ত আমাদের মাঝে কোনো ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি। কেউ আমাদের খোঁজ পর্যন্ত করেনি।

হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দুলু জানান, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর তালিকা তৈরী করছেন। ইতোমধ্যে ত্রাণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট আবেদন করেছেন।

হাতীবান্ধা উপজেলার সির্ন্দুনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরল আমিন জানান, তার ইউনিয়নে ১২ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিনি ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর তালিকা তৈরীর কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আহম্মেদ জানান, ইতোমধ্যে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে পানিবন্দি পরিবারগুলোর খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরী করে উচ্চ পর্যায়ে প্রেরণ করা হবে। এাণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। পানিবন্দি লোকজনের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে পানিবন্দি পরিবারগুলোর খোজঁ খবর নেয়া হচ্ছে। ত্রাণের জন্য উচ্চ পার্যায়ে আবেদন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়ে গেছে।

লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম)’র সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে কথা বলে বন্যা পরিস্থিতির খোজঁ খবর নেয়া হচ্ছে। পানিবন্দি পারিবারগুলোর সহযোগিতার জন্য ত্রাণ মন্ত্রীর সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মন্তব্য

মতামত দিন

দেশজুড়ে পাতার আরো খবর

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আটক

নিজস্ব প্রতিনিধিআরটিএনএনসাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় জামায়াত এক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। তার এডভোকেট আজিজুল ইসলাম। তিনি সাতক্ষীর . . . বিস্তারিত

রাজশাহীতে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা!

নিজস্ব প্রতিনিধিআরটিএনএনরাজশাহী: রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় স্ত্রী রুনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ভ্যানচালক স্বামী মান্নান আত্ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com