ব্রেকিং সংবাদ: |
  • পরিবেশ সৃষ্টি হলে দেশে নির্বাচন হবে, বিএনপিও অংশ নেবে: মির্জা ফখরুল
  • ফখরুল তো বাম রাজনীতি করতেন, মনে হয় আল্লাহ-খোদায় বিশ্বাস কম: ওবায়দুল কাদের
  • স্বাধীনতাবিরোধীদের সন্তানদের চাকরিতে অযোগ্য ঘোষণার দাবি

এলজিইডি’র নারী শ্রমিকদের তিন মাস বেতন বন্ধ, মানবেতর জীবন

১৯ জুন,২০১৭

নিজস্ব প্রতিনিধি
আরটিএনএন
ঝিনাইদহ: মমতাজ বেগম, সখিনা খাতুন, মিতু রাণী, ববিতা খাতুন, সামছুন নাহার, এরা সবাই অসহায় নারী। কারো স্বামী তাড়িয়ে দিয়েছেন, কারো স্বামী মারা গেছেন। আবার কারো স্বামী শারীরিকভাবে অচল। কেউ ভীটা-বাড়ি না থাকায় খালের ধারে বসবাস করেন। অসহায় এই নারীরা জীবন বাঁচাতে রাস্তার মাটি কাটার কাজ নিয়েছেন। এলজিইডি’র আওতায় এই কাজ করে তারা গ্রামের রাস্তাগুলো ঠিক রাখার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

অথচ এই অসহায় নারী শ্রমিকরা কাজ করেও গত তিন মাস কোনো বেতন পাচ্ছেন না।

ঝিনাইদহ জেলায় এই কাজে নিয়োজিত ৬৭০ জন নারী বেতন ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছেন। চার মাস চলছে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ওই নারীরা।

ওই সকল নারীদের অভিযোগ, বেশ কয়েক বছর তারা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। গত দুই বছর হলো তাদের বেতন ঠিকমতো দেয়া হয় না। ইতোপূর্বে তারা ঠিকমতো বেতন পেতেন। তারা অভিযোগ করেন, ঈদ-পুজা সামনে করেও তারা এখন টাকা পান না। এবারো ঈদের আগে বেতন না পাওয়ারর আশংকা করছেন নারী শ্রমিকরা।

স্থানীয় এলজিইডি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রুরাল এমপ্লয়মেন্ট এন্ড রোড মেইন্টেনেস প্রগাম-২ (আরইআরএমপি-২) প্রকল্পের আওতায় ঝিনাইদহ জেলার ৬৭টি ইউনিয়নের ৬৭০ জন নারী শ্রমিক কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে ১০ জন করে নারী শ্রমিকের একটি গ্রুপ রয়েছে। এদের গ্রুপ কমিটি করা আছে। যার একজন সভাপতি ও একজন সম্পাদক আছেন। এরাই সবকিছু দেখাশুনা করেন। আর এদের কাজ দেখাশুনা করেন স্থানীয় এলজিইডি’র সিও (কমিউনিটি অর্গানাইজার) ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এদের কাজ গ্রামীন রাস্তা রক্ষনাবেক্ষন করা। রাস্তার পাশে মাটি দিয়ে ভাঙ্গন রোধ করা। রাস্তার ধারের জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করা।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২০১৫ সালের নভেম্বরে দুই বছরের চুক্তিতে এদের সর্বশেষ নিয়োগ দেয়া হয়। আগামী নভেম্বরে এদের মেয়াদ শেষ হবে। এরপর আবারো নিয়োগ হবে।

ওই কর্মকর্তা জানান, এরা প্রতিদিন ১৫০ টাকা চুক্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন। মাস শেষে এদের বেতন দিয়ে দেয়ার কথা। প্রতি মাসে এদের পাওনা হবে ৪ হাজার ৫ শত টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৫ শত টাকা সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা রাখা হয়। চুক্তির মেয়াদ শেষে এই টাকা দেয়া হয়। আর কাজ চলা অবস্থায় প্রতি মাসের বেতন ৩ হাজার টাকা মাস শেষে তাদের হাতে বুঝিয়ে দেয়ার কথা। কিন্তু গত দুই বছর এরা ঠিকমতো বেতন পাচ্ছেন না। ইতোপূর্বে মাসের বেতন তারা মাস শেষেই পেয়েছেন। কেন পাচ্ছেন না এ বিষয়ে ওই কর্মকর্তা কিছুই বলতে পারেন নি।

সরেজমিনে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোগাহাটি ইউনিয়নের ষড়াবাড়িয়া গ্রামের রাস্তায় গিয়ে দেখা যায় সেখানে মমতাজ বেগমের নেতৃত্বে ১০ জনের একদল নারী কাজ করছেন। এলজিইডি’র খোয়া ফেলা একটি রাস্তার পাশে তারা মাটি দিচ্ছেন।

কথা বললে মমতাজ বেগম জানান, স্বামী তাকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। দুই সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকেন। ৪ শতক জমি কিনে সেখানে মাটির ঘর আর টিনের ছাপড়া করে বসবাস করেন।

তিনি জানান, তার এক মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। ১১ বছরের ছেলে আকাশ অসচ্ছলতার কারনে পড়ালেখা ছেড়ে কাঠ মিস্ত্রির কাজে নেমে পড়েছে।

তিনি আরো জানান, সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত রাস্তায় মাটি কাটার কাজ করেন। মাস শেষে টাকা পেলে সংসার চলবে। কিন্তু চার মাস টাকা না পেলে তারা কিভাবে বেঁচে থাকবেন।

ওই দলের সখিনা খাতুন জানান, মাথা গোজার মতো কোনো জায়গা নেই তার। বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের খালের ধারে সরকারি জায়গায় ঝুপড়ি ঘর বেঁধে বসবাস করেন। তার চারজনের সংসার এই আয়ে চলে। কিন্তু বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

আরেক সদস্য ববিতা খাতুন জানান, তার চার বছরের ছেলে সজিব বার বার বলছে মা এবার ঈদে নতুন জামা কিনে দিতে হবে। কিন্তু বেতনের যে অবস্থা সেই ক্ষমতা তার হবে বলে মনে হচ্ছে না।

আরেক সদস্য চায়না রাণী জানান, বেতন না পেয়ে সংসার চালাতে ধার দেনায় জড়িয়ে যাচ্ছেন তারা। দোকানদার বাকিতে আর চাল-ডাল দিতে চাচ্ছে না। ফলে অনেক সময় তাদের না খেয়ে থাকতে হচ্ছে।

সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের ধোপাবিলা রাস্তায় কাজ করা নারী সামছুন নাহার জানান, তার স্বামী মনির হোসেন আলমসাধু চালান। তিনি কিছু পয়সা উপার্যন করছেন তাই বেঁচে আছেন। কিন্তু যাদের স্বামী নেই তাদের কষ্টের শেষ নেই। অনেকে ঠিকমতো খেতে না পেরে শরীরের শক্তি হারিয়ে ফেলছে। তারা ঈদের আগেই তাদের বকেয়া বেতদের দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ওই প্রকল্পের পরিচালক সালমা শহীদের সঙ্গে মুটোফোনে কথা বললে তিনি জানান, প্রকল্পের টাকা ছাড় না হওয়ায় এই বেতন দেয়া সম্ভব হয়নি। তবে আশা করছেন ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে দিতে পারবেন। সেভাবে তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

মন্তব্য

মতামত দিন

দেশজুড়ে পাতার আরো খবর

‘সবার আস্থা এনে দিতে পারে এমন নির্বাচন চাই’

নিজস্ব প্রতিনিধিআরটিএনএনব্রাহ্মণবাড়িয়া: পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, ‘সবার আস্থা এনে দিতে পারে এ . . . বিস্তারিত

ইমামকে ন্যাড়া করে মল খাওয়ানো সেই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধিআরটিএনএনপটুয়াখালী: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে মো. আব্দুল গফফার নামে এক ইমামকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন, মল . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com