প্রশ্নফাঁস চক্রের মুলোৎপাটন করা হয়েছে: সিআইডি

৩১ জানুয়ারি,২০১৯

প্রশ্নফাঁস চক্রের মুলোৎপাটন করা হয়েছে: সিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান চিহ্নিত সমস্যা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত দেশের সবচেয়ে বড় দুটি চক্রের মুলোৎপাটন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দীর্ঘ দেড় বছরের একটি পরিকল্পিত অভিযানে এই চক্রের ৪৬ জন সদস্যকেই আটক করা হয়েছে বলে জানান সংস্থাটি।

আজ বৃহস্পতিবার সংস্থার সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন সিআইডির প্রধান শেখ হিমায়েত হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত কয়েকদিনের চলমান অভিযানে ডিজিটাল ডিভাইস জালিয়াতি চক্রের মুল হোতা হাফিজুর রহমান হাফিজ এবং মাসুদুর রহমান তাজুলকে গ্রেফতার করা হয়। এরই মধ্য দিয়ে চক্রের মোট ৪৬ জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে এ যাবতকালের সর্ববৃহৎ প্রশ্নফাঁসের চক্রটি মূলোৎপাটিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, লাগামহীন প্রশ্নপ্রত্র ফাঁসকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছে ছাত্র-শিক্ষক, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকতা-কর্মচারীরা।

আটককৃতদের কাছ থেকে ৩০ কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কাজ করছি। তাদের বিরুদ্ধে মানি লান্ডরিংয়ের মামলা করা হয়েছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছর ধরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা, বিসিএস ও ব্যাংকসহ সরকারি বিভিন্ন নিয়োগ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটায় বর্তমানে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এই ধারাবাহিকতায় অর্গানাইজড ক্রাইম সিআইডির চৌকষ টিম টানা দেড় বছরের নিরলস পরিশ্রম, সুকৌশল এবং দক্ষতায় নিয়োগ ভর্তিতে প্রশ্নফাঁস এবং ডিজিটাল জালিয়াতির সর্ববৃহৎ দুটি আলাদা চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনে।

তিনি জানান, ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি হলে অভিযান চালিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত রানা ও মামুন নামের দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য থেকে পরীক্ষার হল থেকে গ্রেফতার করা হয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী রাফিকে।

গ্রেফতারকৃতদের তথ্যমতে প্রযুক্তি অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রশ্ন পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়া সাত শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে সিআইডি। এই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানা যায় পরীক্ষার আগেই প্রেস থেকে ফাঁস হয়ে যেত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন। এই চক্রের মাষ্টারমাইন্ড নাটোরের ক্রিড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান এছামী, প্রেস কর্মচারী খান বাহাদুর, তার আত্মীয় সাইফুল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বনি ও মারুফ সহ ২৮ জন আসামিকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে চক্রের মূল উৎপাটন করা হয়।

সংঘবদ্ধ এই চক্রটি ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে এবং সাভারের একটি বাসায় আগের রাতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পড়াতো বলেও জানান তিনি।

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, সর্বশেষ অভিযানে জনতা ব্যাংকের জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান হাফিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুর রহমান, একই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাঈদুর রহমান সাঈদ, চতুর্থ বর্ষের মোহায়মিনুল ইসলাম গ্রিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিমন হোসেন, ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান তাজুল, অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা কলেজের পিওন মোশাররফ হোসেন মোশা এবং ঢাকা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী অসিম বিশ্বাস।

সিআইডি প্রধান বলেন, সিআইডি এই পর্যন্ত ৪৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। সিআরপিসি অনুযায়ী তাদের জবানবন্দি নিয়েছে। এত আসামি জবানবন্দি দিয়েছে তার কোনও ইতিহাস নেই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিআইডির ডিআইজ শাহ আলম, অতিরিক্ত ডিআইজি মোখলেছুর রহমান এবং বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম।

মন্তব্য

মতামত দিন

জাতীয় পাতার আরো খবর

খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও জাতিগত বিভেদ সৃষ্ . . . বিস্তারিত

খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও জাতিগত বিভেদ সৃষ্ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com