অজানা অভিযোগে দলে দলে জামিন নিতে হাইকোর্টে

৩১ জানুয়ারি,২০১৯

অজানা অভিযোগে দলে দলে জামিন নিতে হাইকোর্টে

ডেস্ক নিউজ
আরটিএনএন
ঢাকা: বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টে জামিন নিতে আসছেন সারাদেশের বহু মানুষ। নিজের বিরুদ্ধে কি অভিযোগ তা জানা নেই অভিযুক্ত অনেকেরই। তবুও গ্রেফতার এড়িয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেই তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

তবে জামিন নিতে এসেও জামিন পাচ্ছেন বিষয়টি এমন না। দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে হাইকোর্টের বারান্দায়। খবর বিবিসি বাংলার

নির্বাচনের কয়েকদিন আগে একটি মামলায় তিনি অভিযুক্ত মিলন হোসেন এসেছেন জামিন নিতে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ সেটি সুস্পষ্টভাবে বলতে পারছেন না তিনি। ৫৫ বছর বয়সী মিলন মিয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মজলিসপুর ইউনিয়নের আনন্দপুর। তার এই মামলায় মোট ২৪জনকে আসামী করা হয়েছে।

পেশায় বর্গাচাষী মিলন মিয়া এখনো পর্যন্ত মামলার জামিনের জন্য ঢাকায় আসা-যাওয়া বাবদ আট হাজার টাকা খরচ করেছেন তিনি। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ধার করে এই টাকার জোগান দিয়েছেন তিনি।

এই মামলায় অভিযুক্ত আরেকজন জানালেন, তাদের বিরুদ্ধে বোমাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঝিনাইদহের কোর্ট চাঁদপুর থেকে বেশ কয়েকজন এসেছেন হাইকোর্টে আগাম জামিনের জন্য। এদের মধ্যে একজন বয়স প্রায় ৭০ বছর। তিনি নিজের নাম প্রকাশে অনিহা জানিয়ে বলেন, সংবাদমাধ্যমে সাথে কথা বললে আরো মামলা হবে।

তিনি বলেন, আমি ওসব বুঝিনা রাজনীতি। আমি পাঁচ ওয়াক্ত আল্লাহু আকবর বলে নামাজ পড়ি। আমার কোন দল-ফল নেই। আমি কিছু বুঝিনা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আওয়ামী লীগের অফিস পোড়ানো।

কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বহু মামলা হয়েছে, যেখানে গণহারে অনেক মানুষকে আসামী করা হয়েছে।

হাইকোর্ট যারা জামিনের জন্য এসেছেন তাদের অনেকেই বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে জড়িত।

অনেকে আছেন যারা রাজনীতির সাথে জড়িত না হলেও বিএনপি-জামায়াতে ইসলামির প্রতি পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে। আবার এদের মধ্যে অনেকে আছেন যারা কোন রাজনীতির সাথে জড়িত নয়।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পঙ্গু কিংবা শারীরিকভাবে অসমর্থ ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশের উপর হামলা কিংবা নাশকতার মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভুয়া মামলায় ক্ষতিপূরণ চাওয়ার ব্যবস্থা আছে?
বাংলাদেশের ফৌজদারি আইনে বলা আছে, কোন ব্যক্তিকে যদি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়, তাহলে তিনি আদালতে সেটির প্রতিকার চাইতে পারবেন।

তবে আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হবার পর সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করতে পারবেন। এমটাই বলছেন সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী মনজিল মোরশেদ। তিনি বলেন, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি দুই ধরণের মামলা করতে পারবেন। একটি হলো ফৌজদারি আইনে মানহানির মামলা, আরেকটি হলো ক্ষতিপূরণ চেয়ে তিনি মামলা করতে পারবেন।

তবে এ ধরণের মামলার নজীর বাংলাদেশে বেশ বিরল। এর একটি কারণ হচ্ছে বিচারের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা।

তিনি বলেন, যখন সে একটি মামলায় খালাস পায়, এটি হয়তো পাঁচ-দশ বছর লেগে যায়। তখন তাঁর আর স্পিরিট থাকেনা আবার গিয়ে পাঁচ-দশ বছর আরেকটি মামলার মধ্যে ঢুকে যাওয়া। যখন একটি মামলায় যখন কয়েকশ ব্যক্তিকে আসামী করা, তখন সবার যে বিচার হবে এমন কোন কথা নেই।

পুলিশ যখন মামলার চার্জশীট দেয় তখন সেখানে অনেককে বাদ দেয়া হয়। কারণ কয়েকশ ব্যক্তিকে আসামী করতে হলে সবার নাম, ঠিকানা জোগাড় করে মামলার বিবরণে উল্লেখ করতে হবে। এটি বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

তিনি বলেন, যখন আদালতে চার্জ গঠন করা হয় তখন অভিযুক্তের সংখ্যা আরো কমে যায়। এভাবে দুটি ধাপে অভিযুক্তের সংখ্যা কমে আসে। এসব মামলার আল্টিমেট সমাপ্তি হয় বলে আমার ধারণা নাই। অনেক সময় দেখা যায় যে তদন্ত রিপোর্ট দুই বছরেও দিচ্ছে না। এক পর্যায়ে পুলিশ হয়তো এ ব্যাপারে কোন ইন্টারেস্ট দেখায় না।

মন্তব্য

মতামত দিন

জাতীয় পাতার আরো খবর

খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও জাতিগত বিভেদ সৃষ্ . . . বিস্তারিত

খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও জাতিগত বিভেদ সৃষ্ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com