সর্বশেষ সংবাদ: |
  • বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর প্রার্থিতা বৈধ করবে বলে জানিয়েছেন আদালত, অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত নেওয়ার পর আদেশ
  • তিন আসনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের শুনানি চলছে
  • সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সংবিধান, ভোটার ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে দায়বদ্ধ নির্বাচন কমিশন : সিইসি

রোহিঙ্গা পরিবারটি নো-ম্যান্স ল্যান্ডের, প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি

১৬ এপ্রিল,২০১৮

রোহিঙ্গা পরিবারটি নো-ম্যান্স ল্যান্ডের,

নিউজ ডেস্ক
আরটিএনএন
ঢাকা: বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া একটি রোহিঙ্গা পরিবার ফেরত গেলেও প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। পরিবারটি নো-ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছিল এবং সেখান থেকেই ফেরত গেছে বলে বাংলাদেশের দাবী। তাই এটি প্রত্যাবাসনের আওতায় পড়ে না।

ফেরত যাওয়া পরিবারের গৃহকর্তার নাম মোহাম্মদ আকতার আলম। তার পরিবারের ৬ সদস্যের মধ্যে ৫ জন ফেরত গেছেন।

জানা গেছে, আকতার আলমের বাড়ি মায়ানমারের তুমব্রু এলাকায় এবং তিনি ওই এলাকার চেয়ারম্যান। শনিবার গভীর রাতে মায়ানমার সীমান্তের ঢেঁকিবুনিয়া পয়েন্ট দিয়ে তারা ফেরত গেছেন। আর এ কাজে সহযোগিতা করেছে মায়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)।

তিনি সেখানে গিয়ে পরিচয় শনাক্তকরণ কার্ড বা ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) সংগ্রহ করেছেন বলে নোম্যন্স ল্যান্ডে বসবাসরত কয়েকজন রোহিঙ্গা জানিয়েছেন।

গত বছরের ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইনে সহিংস ঘটনার পর অন্যান্য রোহিঙ্গার সঙ্গে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন আকতার। বাংলাদেশের কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ খালেদ একসময় নো-ম্যান্স ল্যান্ডে ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আকতার আলম বাংলাদেশের মধ্যেই নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু এলাকায় এক ইউপি সদস্যের বাড়ি ভাড়া করে পরিবার নিয়ে ছিলেন। কিন্তু ওই পরিবারটি নো-ম্যান্স ল্যান্ডে আশ্রয় নেয়া হিসেবেই তালিকাভুক্ত ছিল। পরিবারটি নো-ম্যান্স ল্যান্ডে আশ্রয় নেয়া হিসেবেই রেশন পেতেন।’

মায়ানমারের ফেরত যাওয়া আকতার আলমের ২ ছেলে, ২ মেয়েসহ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬ জন। এরমধ্যে এক মেয়েকে রেখে ৫ জনকে নিয়ে মায়ানমারে ফেরত গেছেন। তবে এক সন্তানকে রেখে যাওয়ার কারণ জানা যায়নি।

খালেদ বলেন, ‘ওই পরিবারটিকে আমি চিনি। কিন্তু তারা কেন গেছেন এবং কিভাবে গেছেন তা জানিনা। সবার অজান্তে গেছেন এবং যাওয়ার পর আমরা খবর পেয়েছি।’

কক্সবাজার শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম বলেন, ‘ওই পরিবারটি জিরো লাইনের। সেই হিসেবে তারা মায়ানমারেই ছিলেন। আরো অনেকে আছেন। এর সঙ্গে প্রত্যাবাসনের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা নোম্যান্স ল্যান্ডের সবাইকে ফেরত নিতে পারে।’

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য মায়ানমার চুক্তি সই করলেও প্রত্যাবাসন কবে থেকে শুরু হবে নিশ্চিত নয়। চুক্তি সইয়ের পর প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশ আট হাজার ৩২ হন রোহিঙ্গার তালিকা দেয়।

তাদের মধ্যে মাত্র আটশ' রোহিঙ্গা মায়ানমারের বলে নিশ্চিত করেছে দেশটি। বাকিদের তথ্য ‘ত্রুটিপূর্ণ' বলে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

চুক্তি অনুযায়ী ২০১৬ সালের অক্টেবরের পর থেকে এ পর্যন্ত যে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসেছেন তাদের ফেরত নেয়ার কথা বলা হয়েছে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা এসেছে সাত লাখের বেশি এবং ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭সালের ২৫ অগাস্টের আগ পর্যন্ত এসেছেন ৮৭ হাজার। সব মিলিয়ে আট লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়ার কথা বলছে মায়ানমার।

তবে কবে থেকে শুরু হবে এবং শুরু হলে কতদিন লাগবে তা অনিশ্চিত। এরা ফেরত গেলে আগে থেকে বাংলাদেশে অবস্থানরত আরো চার লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে আরেকটি চুক্তি হওয়ারও কথা রয়েছে।

গত সপ্তাহে মায়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ড. উইন মিয়ায়ে বাংলাদেশ সফর করেছেন। তিনি কক্সবাজারে কতুপালং শরনার্থী ক্যাম্পও পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন।

সিনিয়র কূটনৈতিক প্রতিবেদক শেখ শাহরিয়ার আলম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘তিনি বাংলাদেশ সফরকালে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়টি আবারো বলেছেন। কিন্তু তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার বিষয়টি নাকোচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যাদের ফেরত নেয়া হবে তাদের প্রথমে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড দেয়া হবে। পরে মায়ারমারের আইন অনুযায়ী নাগরিকত্বের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

প্রত্যাবাসন কবে শুরু হবে তা তিনি জানিয়েছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে শাহরিয়ার জামান বলেন, ‘আমরা মায়ানমারের মন্ত্রীকে এ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম। কিন্তু তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট সময় জানাননি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারাও আমাদের বলেছেন, মায়ানমারের মন্ত্রী প্রত্যাবাসন কবে শুরু হবে তা তাদের জানাননি।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক চাপ কমাতেই তিনি বাংলাদেশ সফর করেছেন। কক্সবাজারে তিনি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু রোহিঙ্গারা তার কথায় ভরসা পাননি, এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে মিয়ানমারে ফিরতে আগ্রহ দেখাননি।’

এদিকে, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল একটি মাত্র রোহিঙ্গা পরিবারকে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে ‘হাস্যকর' বলে মন্তব্য করেছেন। রবিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘যে পরিবারকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তারা থাকতো নো-ম্যানস ল্যন্ডে। বাংলাদেশের ক্যাম্পে তারা আসেইনি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বলেন, ‘নো-ম্যানস ল্যান্ডে অন্তত ছয় হাজার পরিবার এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের মধ্য থেকে হাজারের মধ্যে মাত্র একটি পরিবারকে ফেরত নেওয়া হাস্যকর। আমরা আশা করি, তাদেরকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফেরত নেবে মায়ানমার সরকার।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা এসেছে। তাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন হয়েছে। এসব রোহিঙ্গার তথ্য আমরা মায়ানমার সরকারের কাছে দিয়েছি।’

বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় এখন জাতিসংঘও সম্পৃক্ত হয়েছে। গত শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইউএনএইচসিআরের সদর দফতরে বাংলাদেশের সঙ্গে স্মারক সই হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক এবং ইউএনএইচসিআরের মহাপরিচালক ফিলিপো গ্র্যান্ডি নিজ নিজ পক্ষে এই সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

বাংলাদেশ মনে করে, এই সমঝোতা স্মারক সইয়ের ফলে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি সহজ হবে। রোহিঙ্গারা যে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরত গেছেন, এর মাধ্যমে সেটিও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের তথ্য সরবরাহ, কাঠামো তৈরির জন্য জমি দেওয়া ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে কাজ করবে সরকার। অন্যদিকে, রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া, তাদের অস্থায়ী ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া, চিকিৎসা ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবে ইউএনএইচসিআর।

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম বলেন, ‘একটি পরিবারকে ফেরত নেয়ার সঙ্গে প্রত্যাবসানের কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ তারা নোম্যান্স ল্যান্ডের। আমরা যে রোহিঙ্গাদের তালিকা করেছি সেই তালিকায় এরা নেই। এরা মিয়ানমারেই আছে।’

এটা প্রত্যাবাসন শুরুর ইঙ্গিত কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি এবং কবে শুরু হবে তাও এখন বলা যাচ্ছে না। ওই পরিবারটি ফিরে যাওয়ার সঙ্গে প্রত্যাবাসন শুরুর কোনো ইঙ্গিত থাকে কিভাবে।’

সূত্র: ডয়চে ভেলে

মন্তব্য

মতামত দিন

জাতীয় পাতার আরো খবর

৫৮ নিউজপোর্টাল বন্ধের নির্দেশনা প্রত্যাহার করল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: অবশেষে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিবাদের মুখে কয়েকটি জনপ্রিয় নিউজপোর্টালসহ ৫৮টি ওয়েবসাইট . . . বিস্তারিত

৫৮টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল যে কারণে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল বিটিআরসি

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা- বিটিআরসি দেশের ৫৮টি অনলাইন পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com