ঘুষখোর প্রধান নৌ প্রকৌশলী নাজমুল হক বরখাস্ত

১৫ এপ্রিল,২০১৮

নৌ প্রকৌশলী নাজমুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: ঘুষের পাঁচ লাখ টাকাসহ হাতে-নাতে দুদকের হাতে গ্রেপ্তার নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও শিপ সার্ভেয়ার (চলতি দায়িত্ব) এস এম নাজমুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

রবিবার তাকে বরখাস্তের একটি অফিস আদেশ জারি করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে রমনা মডেল থানার মামলায় কারাগারে রয়েছেন এই প্রকৌশলী।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সেগুন রেস্তোরাঁ থেকে দুদকের উপ-পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে নৌ প্রকৌশলী নাজমুল হককে। জানা গেছে, সৈয়দ শিপিং লাইন নামের একটি শিপিং প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়ে সব আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ফাঁদ পাতে দুদক। পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীকে সেগুন রেস্তোরাঁয় আসার কথা বলেন নাজমুল হক।

সেখানে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে ছিল দুদকের দলটি। ঘুষ নেয়ার পররপরই দুদকের দলটি হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে নাজমুল হককে। সৈয়দ শিপিং লাইনের জাহাজের রিসিভ নকশা অনুমোদন ও নতুন জাহাজের নামকরনের অনুমোদনের জন্য ১৫ লাখ টাকা ঘুষ চান নাজমুল। এর মধ্য থেকে পাঁচ লাখ টাকা আগেই নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় কিস্তির পাঁচ লাখ টাকা নিতে গিয়ে দুদকের ফাঁদে পড়লেন তিনি। দুদক সূত্র জানায়, এ প্রকৌশলীর বিরদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদক তার বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ অনুসন্ধান করছে।

এর আগে গত বছরের জুলাই মাসে একই দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী কে এম ফখরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার ঘুষের টাকাসহ গ্রেপ্তার করেছিল দুদক। একটি জাহাজের নকশা অনুমোদন করতে মতিঝিলে বিআইডব্লিউটিএ ভবনে অধিদপ্তরের কার্যালয়ে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার সময় তাকে হাতেনাতে তখন গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর এ ঘটনায় দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদ বাদী হয়ে ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তিনি জামিন নিয়ে মুক্তি পান। তবে নৌপরিবহন অধিদপ্তর থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে করা মামলাটি বিচারাধীন।

আরো পড়ুন….
কোটা সংস্কারের আন্দোলনে ফেসবুকে গুজব রটনাকারীদের খুঁজছে পুলিশ

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে অজ্ঞাত সংখ্যক লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, মৃত্যু ও রগ কাটার মতো মিথ্যা তথ্য প্রচার করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে যারা সহিংস করে তুলেছে তাদেরকে খুঁজে বের করার কাজ চলছে। খবর বিবিসি

পুলিশ বলছে, এজন্যে তারা প্রাথমিকভাবে ফেসবুকের দুশোটির মতো অ্যাকাউন্টকে সন্দেহ করেছিলেন। কিন্তু গত দু'দিনের তদন্তের পর এখন এই সংখ্যা এখন প্রায় ৩০টিতে নেমে এসেছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, এই অ্যাকাউন্টগুলো পর্যালোচনা করে তারা এখন উসকানিমূলক তথ্য প্রচারকারী ও গুজব রটনাকারীদের খুঁজে বের করবেন। এসবের মধ্যে রয়েছে ফেসবুক পেইজ, ফেসবুকে ও টুইটারে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট এবং কিছু অনলাইন পোর্টাল।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকার রমনা থানায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের পক্ষ থেকে মামলাটি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে কারও নাম ঠিকানা উল্লেখ করা হয়নি। এর সাথে বিভিন্ন ফেসবুক আইডির নাম ও পোস্টও যুক্ত করা হয়েছে।

সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে আন্দোলনের ডাক দেওয়া একটি গণতান্ত্রিক বিষয়। কিন্তু কিছু লোক যখন মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে ফেসবুকের অপব্যবহার করে সহিংসতায় প্ররোচনা দেয় তখন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

সোশাল মিডিয়ায় যেসব কনটেন্ট শেয়ার হচ্ছে, আপলোড করা হচ্ছে কিম্বা সেখানে যেসব মন্তব্য করা হচ্ছে সেগুলোর উপর নজর রাখার জন্যে এই ইউনিটের রয়েছে বিশেষ একটি বিভাগ।

এই বিভাগের কর্মকর্তারা এরকম দুটো ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন।

তারা বলছেন, পুলিশের গুলিতে আবু বকর নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের মৃত্যু এবং আন্দোলনের বিরোধিতা করায় এক ছাত্রীর পায়ের রগ কেটে ফেলা হয়েছে এরকম মিথ্যা খবর রটিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোটা সংস্কারের আন্দোলনকে সহিংস করে তোলা হয়েছিলো।

‘আবু বকরের মৃত্যু হয়েছে বলে ফেসবুকে গুজব ছড়ানো হয়েছে কিন্তু এই খবরের কোন সত্যতা নেই। তিনি শুধু তার চোখের কোণে সামান্য আঘাত পেয়েছেন," বলেন নাজমুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘এছাড়াও আন্দোলনের বিরুদ্ধে কথা বলায় একজন ছাত্রীর পায়ের রগ কেটে ফেলা হয়েছে বলে একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এই খবরেরও কোন ভিত্তি নেই।’

‘যার পায়ের রগ কেটে ফেলা হয়েছে বলে রটানো হয়েছে, সেই ছাত্রীই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেছেন, রাগ উঠে যাওয়ায় তিনি লাথি মেরেছিলেন এবং তখন তার পা কেটে যায়,’ বলেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

পুলিশ বলছে, আবু বকরের মৃত্যুর মিথ্যা সংবাদ ছড়ানোর পরেই আন্দোলনকারীরা সহিংস হয়ে উঠে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে ঢুকে সেখানে ভাঙচুর চালায়।

নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘এসব মিথ্যা খবর রটিয়ে যারা হিংসাত্মক কার্যকলাপে প্ররোচনা যুগিয়েছে তাদেরকে খুঁজে বের করারই কাজ চলছে।’

তিনি জানান, গুজব রটানোর অভিযোগে প্রথমে তারা ফেসবুকের দু’শোটির মতো অ্যাকাউন্টকে সন্দেহ করেছিলেন। সেসব প্রোফাইল তারা খতিয়ে দেখেছেন। দেখার চেষ্টা করেছেন, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার লক্ষ্যে কারা কারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব মিথ্যা সংবাদ রটিয়েছে। এখন এই অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ থেকে ৩০টির মতো।

‘আমরা এখন এই আইডিগুলো নিয়ে কাজ করছি। এসবের পেছনে আসলেই যারা আছে তাদেরকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে,’ বলেছেন সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুল ইসলাম।

কিন্তু ফেসবুকে তো বহু মানুষ এসব ভিডিও ও খবর শেয়ার করেছে, যাদের অনেকেই না বুঝে সেটা করেছেন, তাদের মধ্য থেকে কিভাবে অভিযুক্তদের খুঁজে বের করা হবে - এই প্রশ্নের জবাবে মি. ইসলাম বলেন, ‘অনেকেই শেয়ার করেছেন স্বাভাবিকভাবে যেরকমটা ফেসবুক ব্যবহারকারীরা করে থাকেন। কিন্তু যারা একটা উদ্দেশ্য নিয়ে এই কাজটা করেছে তাদেরকে আমরা খুঁজছি। এসব ভিডিও বা খবর যারা প্রথম দিয়েছে অর্থাৎ এসবের উৎস খুঁজে বের করে তাদেরকে চিহ্নিত করার কাজ চলছে।’

পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, এই কাজটি তাদেরকে অনেক সতর্কতার সাথে করতে হচ্ছে। কারণ ফেক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে একজন আরেকজনের নাম ব্যবহার করেও এটা করতে পারেন। সেকারণে এর পেছনের প্রকৃত লোকগুলোকেই তারা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।

মন্তব্য

মতামত দিন

জাতীয় পাতার আরো খবর

গণতন্ত্রের জন্য অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন খুবই দরকার: ইইউ

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক দেখতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইইউ প . . . বিস্তারিত

ফের সোনার দাম কমেছে

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: এক মাসের ব্যবধানে সব ধরনের সোনার দাম ভরিতে এক হাজার ১৬৬ টাকা কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com