ব্রেকিং সংবাদ: |
  • ওসির গুলিতে বিএনপি নেতা মাহাবুব উদ্দিন খোকন গুরুতর আহত

পুলিশের আশ্রয়ে এখন নাবিলার শিশুকন্যা 

১৩ মার্চ,২০১৮

পুলিশের আশ্রয়ে এখন নাবিলার শিশুকন্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: ইউএস-বাংলার বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের নিহত কেবিন ক্রু নাবিলা ফারহিনের আড়াই বছর বয়সী মেয়ে ইনায়া ইমাম হিয়া এখন উত্তরা পশ্চিম থানা-পুলিশের কাছে। থানা থেকেই শিশুটিকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুজ্জামান আজ মঙ্গলবার দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার খবরের পরপরই শিশুটি হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আসে।

গতকাল দুপুরে নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। এতে চারজন ক্রুসহ ৭১ যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে ৫০ জন নিহত হয়েছেন। যাত্রীদের মধ্যে ৪৩ জন বাংলাদেশি।

উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই আরিফুজ্জামান বলেন, ‘শিশুটি আমাদের কাছে আছে।’

ইনায়ার চাচি ফাতেমা হোসেন বলেন, ইনায়ার বয়স আড়াই বছর। গতকাল উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার খবরের পরপরই ইনায়ার দাদি উত্তরায় নাবিলার বাসায় গিয়ে তা তালাবদ্ধ দেখতে পান। ইনায়ার কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না। রাতেই পরিবারের পক্ষ থেকে উত্তরা পশ্চিম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। আজ পুলিশ তাদের ইনায়ার খোঁজ দেন। তবে কোত্থেকে কীভাবে ইনায়াকে পাওয়া গেছে, সে ব্যাপারে তিনি জানেন না।
ফাতেমা জানান, তার পরিবারের লোকজন ইনায়াকে আনার জন্য রওনা হয়েছেন। ইনায়ার চাচা বাবলু নেপাল গিয়েছেন নাবিলার লাশ গ্রহণ করার জন্য। ইনায়ার বাবা আনান আহমেদ দেশের বাইরে থাকেন।

‘তখন সবাই চিৎকার করছিল আর দোয়া পড়ছিল’

‘দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশের ঢাকা থেকে আমরা টেক অফ করি। আড়াইটার দিকে কাঠমান্ডু পৌঁছে পাইলট প্রথমে ল্যান্ড করার চেষ্টা করে। কিন্তু পারেনি। পরে ঘুরে ঘুরে আবার যখন দ্বিতীয়বার ল্যান্ড করার চেষ্টা করে, বাম দিকটা উঁচু হয়ে যায়। তখনি আমি বললাম, বাম দিকটা উঁচু হল কেন, আর তখনি ক্রাশ হয়ে গেল।’

নেপাল সার্ভিসকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে সেই দুর্ঘটনার ভয়ংকর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছিলেন ঢাকার একটি স্কুলের শিক্ষিকা শাহরীন আহমেদ।খবর-বিবিসি

একটি দুর্ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে, এরকম সতর্কবার্তাও পাইলট, কেবিন ক্রু বা অন্য কেউ দেয়নি। তারা নিজেরাও কিছু বুঝতে পারেননি।

মিজ আহমেদ বলছেন, ‘তখন সবাই ভয়ে চিৎকার করছিল আর আল্লাহর কাছে দোয়া পড়ছিল।’

এর আগে কি আপনাদের কোন আভাস দেয়া হয়েছিল? আপনার কিছু টের পেয়েছিলেন?

শাহরিন আহমেদ বলছেন, ‘একেবারে স্বাভাবিকভাবেই অবতরণ করছিল। একদম হঠাৎ করে সবকিছু হয়ে গেল।’

একজন বন্ধুর সঙ্গে সোমবার নেপালে বেড়াতে গিয়েছিলেন ঢাকার একটি স্কুলের শিক্ষক ২৯ বছরের শাহরীন আহমেদ।

শুক্রবারই আবার তাদের ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা। কিন্তু সেই বন্ধু দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

প্রথমবারের মতো তারা নেপালে বেড়াতে এসেছিলেন। তাদের পোখারা যাবার কথা ছিল।

তিনি বলছেন, ‘আগুন লাগার প্রায় মিনিট বিশেষ পর সাহায্য আসে। সে পর্যন্ত আমি আর আরেকজন বিমানের ভেতরেই বসে ছিলাম। প্রচণ্ড ভয় লাগছিল আর হেল্প হেল্প বলে চিৎকার করছিলাম। কারণ আমি জানতাম,আগুন লাগার পর অনেকে দমবন্ধ হয়েই মারা যায়।’

উদ্ধারকারীরা আগুন নেভানোর পর জাহাজের একটি অংশ খুলে যায় আর বাইরে থেকে পরিষ্কার বাতাস ভেতরে আসতে শুরু করে।

বাইরে আসার সময় তিনি দেখতে পান যে, আরেকজন কাছেই বিমানের ফ্লোরে পড়ে ছিল, তার হাত ঝুলছিল। তিনি বেচে আছেন কিনা, শাহরীনের তা জানা নেই।

ওই দুর্ঘটনার পর একেবারেই সচেতন ছিলেন শাহরীন আহমেদ। লোকজন তাকে ধরে বাইরে নিয়ে আসে। তখন আমি বলি, আমি হাটতে পারবো। এমনকি অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত হেটেও আসি। কিন্তু তখন পায়ে ব্যথা শুরু হয়ে যায়। আসতে আসতে শুধু আগুন দেখতে পাই।

তার শরীরের অনেক জায়গায় আগুনে পুড়ে গেছে। বর্তমানে কাঠমান্ডুর মেডিকেল কলেজ টিচিং হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিজে বেঁচে ফিরলেও, হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও বন্ধুর জন্য তার দুঃখ রয়ে গেল।

মন্তব্য

মতামত দিন

জাতীয় পাতার আরো খবর

ড. কামালকে জামায়াত নিয়ে প্রশ্ন করা সাংবাদিককে সাহস দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: শহিদ বেদিতে ড. কামাল হোসেনকে জামায়াতে ইসলামী নিয়ে প্রশ্ন করা সাংবাদিক ভাস্কর ভাদুরীকে নির্ . . . বিস্তারিত

ড. কামালের উপর হামলার তদন্তের প্রতিবেদন চেয়ে পুলিশকে ইসির চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের উপর হামলার ঘটনায় পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com