মাদকাসক্ত ১২ বছরের শিশুর অত্যাচারে অতিষ্ঠ পিতা আদালতে

১৩ ফেব্রুয়ারি,২০১৮

মাদকাসক্ত ১২ বছরের শিশুর অত্যাচারে অতিষ্ঠ পিতা আদালতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: দেশে মাদকের ভয়াবহতা এ্তই প্রকট আকার ধারণ করেছে। মাদকের থাবা একজন পিতাকে অসহায় বানিয়ে ফেলেছ। এমনই বেদনাদায় কাহিনী পিতা তার মাত্র বারো বছর বয়সী ছেলের মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন। বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তার নাম মো. মিলটন মিয়া।

তার একমাত্র ছেলে মো. রায়হান নেশার টাকার জন্য পিতাকে মারধর, ভাঙচুর এবং চুরির মতো অপকর্মে জড়িয়েছে। কোনভাবেই এসব থেকে তাকে নিবৃত্ত করা যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত ছেলেকে সংশোধনের জন্য কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য মঙ্গলবার আদালতের দ্বারস্থ হন পিতা মো. মিলটন মিয়া।

অসহায় পিতা মো. মিলটন মিয়া জানান, তারা কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার কাকেরতলা গ্রামের বাসিন্দা। তার দুই মেয়ে এক ছেলে। একমাত্র ছেলে মো. রায়হান। পরিবার নিয়ে রাজধানীর তুরাগ থানাধীন পাকুরিয়া এলাকার এ ব্লকের ৩ নম্বর রোডের একটি বাসায় ভাড়া থেকে ফুটপাতে ব্যবসা করেন। দুই মেয়ে পড়ালেখা করলেও সঙ্গদোষে ছেলে পড়ালেখা ছেড়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। সে এই বয়সে সিগারেট, গাজা এমনকি ফেনসিডিল পর্যন্ত সেবন করে।

নিরুপায় পিতা মিলটন মিয়া বলেন, ‘নেশার টাকা জোগাড় করতে সে বাসার জিনিসপত্র বিক্রি করে দেয় এবং একদিন পাঁচ হাজার টাকা চুরিও করে। আমাকেও মারধর করে। কোনভাবেই তাকে নেশামুক্ত করা সম্ভব হয়নি।’

তিনি আরো বলেন, বাধ্য হয়ে কিছুদিন আগে তাকে নিয়ে গিয়েছিলাম টঙ্গীর কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রে রাখতে। কিন্তু তারা বলেছে, আদালতে নির্দেশ ছাড়া সেখানে কাউকে রাখা যাবে না। এ কারণে আজ (মঙ্গলবার) তাকে আদালতে নিয়ে এসেছিলাম কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য। কিন্তু আদালত আজ পাঠানোর আদেশ দিলেন না।

এ সম্পর্কে আইনজীবী মো. মনির হোসেন রিপন বলেন, ‘আমরা আদালতে নেশার টাকার জন্য চুরি, মারধরের অভিযোগে ওই শিশুর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলাম। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নেশামুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রে পাঠানোর আবেদন করেছিলাম।’

ঢাকা সিএমএম আদালতের মহানগর হাকিম মাহমুদা আক্তার তাকে ফিরিয়ে দিয়ে বলেছেন, আরো এক সপ্তাহ দেখতে। এরপর ভালো না হলে আবার নিয়ে আসতে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিচারক নিজেও বুঝিয়ে বলেছেন শিশুটিকে। এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন শিশুটিকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে রাখার পারামর্শ দিয়েছেন তিনি।

কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রে না পাঠানোর বিষয়ে ওই আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান বলেন, শুনানির সময় আমরা শিশুটিকে বুঝিয়েছি। বিচারক নিজেও বুঝিয়ে বলেছেন।

তিনি আরো বলেন, বিচারক এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন শিশুটিকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে রাখার পারামর্শ দিয়েছেন। এরপরও যদি ঠিক না হয় আদালতে নিয়ে আসতে বলেছেন।

মন্তব্য

মতামত দিন

জাতীয় পাতার আরো খবর

আইপিইউ এসেম্বলীতে অংশ নিতে জেনেভা গেলেন স্পিকার

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ১৩৯তম ইন্টার পার্লামেন্টারী ইউনিয়ন (আইপিইউ) এসেম্বলীতে অংশ নিতে আ . . . বিস্তারিত

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুন্ন রেখে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেয়ার আহবান রাষ্ট্রপতির 

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ দেশের চিরাচরিত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুন্ন রেখে উন্নয়ন ও গণতন্ত্র . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com