খলিল হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড, চারজনের যাবজ্জীবন

১২ ফেব্রুয়ারি,২০১৮

খলিল হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড, চারজনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: জাতীয় অন্ধ সংস্থার মহাসচিব খলিলুর রহমান হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় ৪ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার ঢাকার ৪নং দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল ৪-এর বিচারক আবদুর রহমান সরদার এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- রমজান আলী ওরফে রমজান (পলাতক) ও টিপু জীরা। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- হাসানুর রহমান নিবেন (পলাতক), মিনহাজ, শহীদ মোস্তফা ও জাহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া আইয়ুব আলী, নুরুল আলম সিদ্দিকী, সোহাগ হোসেন হাওলাদার ও ইয়াকুব আলীকে খালাস দেয়া হয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি রাতে খলিলুর রহমান মিরপুর ১ নম্বরে শাহ আলী বাগে জনতা হাউজিংয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ইয়াকুব আলীর ভাড়া বাসায় নির্বাচনে পরাজিত সভাপতি ও মহাসচিব পদপ্রার্থীর সঙ্গে সমঝোতা বৈঠকে বসেন। সেখানেই গুলি করে খুন করা হয় খলিলুরকে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী হাছিনা পারভীন আটজনের নাম উল্লেখ করে মিরপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। ডিবি পুলিশ তদন্তে এ ঘটনায় আরও দুজনের সম্পৃক্ততা পায়।

২০১৩ সালের ৩১ জুলাই ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন ডিবি পুলিশ। এর মধ্যে পাঁচজন অন্ধ সংস্থার সদস্য। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ওই পাঁচজন হলেন মিনহাজউদ্দিন, আইয়ুব আলী, ইয়াকুব আলী, নুরুল আলম সিদ্দিক ও সোহাগ হোসেন। বাকি পাঁচজন হলেন- রমজান আলী, হাসানুর রহমান ওরফে রুবেল, মো. শহীদ, টিপু ওরফে হীরা ও শহিদুল ইসলাম। হাসানুর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

টাঙ্গাইলে কলেজছাত্রী রূপা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে চারজনের ফাঁসি
টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে ধর্ষণ করে হত্যার শিকার জাকিয়া সুলতানা রুপা খাতুন ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে চারজনের ফাঁসি ও একজনের সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। অভিযোগ গঠন থেকে রায় ঘোষণা পর্যন্ত এই মামলার পেছনে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১৪ কর্মদিবস।

সোমবার টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়ার আদালতে চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে আদালতে বসেন বিচারক। তিনি এরপর ৭৩ পৃষ্ঠার রায়ের অংশবিশেষ পড়ে শোনান।

জব্দকৃত ছোঁয়া পরিবহন নামে গাড়িটি জব্দ করে মালিকানা রূপার পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে। বাসটি রূপার পরিবারকে সাতদিনের মধ্যে হস্তান্তরের নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলো ময়মনসিংহ-বগুড়া রুটের ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫), হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯)।

আর ময়মনসিংহ-বগুড়া রুটের ছোঁয়া পরিবহনের সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি এ কে এম নাছিমুল আখতার বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। টাঙ্গাইলের আইন অঙ্গনের ইতিহাসে এই প্রথম এ ধরনের একটি মামলার নিষ্পত্তি দ্রুত সময়ের মধ্যে হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আদালত সূত্র জানায়, গত ২৯ নভেম্বর এই মামলার পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এরপর গত ৩ জানুয়ারি মামলার বাদী মধুপুরের অরণখোলা ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলামের সাক্ষীর মধ্য দিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্ব শুরু হয়। পরে আট কর্মদিবসে বিচারিক হাকিম, চিকিৎসক, তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ২৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে চার কর্মদিবসে আসামিদের পরীক্ষা এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি এ কে এম নাছিমুল আক্তার বলেন, মামলায় সাক্ষীরা ঘটনা আদালতে প্রমাণ করতে পেরেছেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করা হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী শামীম চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। আশা করি, আসামিরা নির্দোষ প্রমাণিত হবেন।

রুপা শিক্ষক হতে চেয়েছিলো বলে জানিয়েছেন তার মামা ফরিদুল ইসলাম। গত ২৫ আগস্ট নির্মমতার শিকার রুপা কর্মস্থল শেরপুর থেকে বগুড়া গিয়েছিলেন শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা দিতে। বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে বহুজাতিক কোম্পানির কর্মী রূপা খাতুনকে চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর হত্যা করে পরে মধুপুর ময়মনসিংহ সড়কের মধুপুর বনের পঁচিশ মাইল এলাকায় জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ ফেলে রেখে যায় হত্যাকারীরা।

ঘটনার দিন শুক্রবার রাতে বগুড়া থেকে ফিরছিলেন মময়নসিংহ ছোঁয়া পরিবহনের একটি বাসে। বাসটি টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা অতিক্রম করলে নেমে যায় সকল যাত্রী। আর এই সুযোগ নিয়ে বাসটি কালিহাতী এলাকায় পৌঁছালে গাড়ীর হেলপার ও অন্যরা তাকে গাড়ির পিছনের সিটে নিয়ে জোড় করে মধুপুর পর্যন্ত পালাক্রমে ধর্ষণ করে। মধুপুর পৌঁছালে নিহত রুপা আলো দেখতে পেয়ে চিৎকার চেচামেচি করলে তার ঘাড় মটকে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে খুনীরা।

অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন পরিবহন শ্রমিক এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত। পুলিশ ওই রাতেই তার লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে রূপার মরদেহ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা করেন। রূপার ভাই ২৮ আগস্ট মধুপুর থানায় এসে লাশের ছবি দেখে রূপাকে শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫), সুপার ভাইজার সফর আলী (৫৫) এবং চালকের সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) গ্রেপ্তার করে। এরা পাঁচজনই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানা যায়।

এই ঘটনার পর সারা দেশে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। এরপর রুপার ছোট বোন পপিকে সরকারি ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগে চাকরি দেয়া হয়েছে। বগুড়াস্থ এসেনশিয়াল ড্রাগের কার্যালয়ে তাকে অফিস সহকারী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য

মতামত দিন

জাতীয় পাতার আরো খবর

বিমান বাহিনী প্রধানের ভারতীয় উর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: সফররত বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত সোমবার ভারতের উর্ধ্ . . . বিস্তারিত

সৌদি আরবের পথে প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি বাদশাহ এবং দু’টি পবিত্র মসজিদের খাদেম সালমান বিন আবদুল আজিজ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com