অসুস্থ ১০৬, দাবি না মানলে ঘরে ফিরবেন না শিক্ষকরা

১২ জানুয়ারি,২০১৮

শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনশন করছেন ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকরা। অনশন করতে গিয়ে গত চার দিনে এ পর্যন্ত ১০৬ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি।

শুক্রবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অনশন করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৭ জন শিক্ষক চিকিৎসাধীন। পাশাপাশি অনশনস্থলেও অসুস্থ ১৮ জনকে স্যালাইন দেওয়া আছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত ঢামেক থেকে তিন জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বাকিরা অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সংগঠনটির সভাপতি কাজী রুহুল আমিন বলেন, চাকরি জাতীয়করণের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষকরা। তিনি বলেন, ‘৩৪ বছর বিনাবেতনে চাকরি করে যাচ্ছি। আমাদেরও পরিবার আর ছেলেমেয়ে আছে। এখন আর পারছি না। আমরা যে মানবেতর জীবনযাপন করছি, সরকার কি সেই খোঁজ নিয়েছে? সরকারকে আমাদের চাকরি জাতীয়করণ করতে হবে, না হয় মেরে ফেলতে হবে।’

ঝিনাইদহ জেলার বড়বাড়ি বগুড়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক নাসরীন বেগম। তিনি কয়েক দিন ধরে না খেয়ে আজ শুক্রবার সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে সেখানেই তাকে স্যালাইন দেওয়া হয়। নাসরীন বলেন, জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত আমি না খেয়েই থাকব। প্রয়োজনে রাস্তায় মারা যাব।

বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির মহাসচিব কাজী মোখলেছুর রহমান বলেন, দাবি আদায়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আমরা কোনো আশ্বাস পাইনি। তাই অনশন চালিয়ে যাব।

উল্লেখ্য যে, গত ৯ জানুয়ারি থেকে চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে অনশন করছেন ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকরা। এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে তাদের কোনও আশ্বাস দেওয়া হয়নি। এদিকে অনশন করতে গিয়ে অসুস্থ হওয়ার সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

জাতীয়করণের দাবিতে এমপিওভুক্ত বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কর্মসূচি
এদিকে জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তৃতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের ডাকে ১০ জানুয়ারি থেকে এই কর্মসূচি চলছে।

বাগেরহাটের রামপালের পোড়খালি পি ইউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, সবার বেতন বাড়ে, তবু আমাদের বেতন বাড়ে না। শিক্ষকেরা অবসরের পর পেনশনের টাকা পান না। কোনো বৈশাখী ভাতা নেই, উৎসব ভাতা নেই। বাসাভাড়া হিসেবে মাত্র এক হাজার টাকা পাই। বদলি বা পদোন্নতির কোনো সুযোগ নেই। দিন-রাত প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করছি। ইতিমধ্যে প্রায় ২৫ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছেন।

বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, জাতীয়করণের দাবি পূরণে এখন পর্যন্ত কোনো আশ্বাস তাঁরা পাননি। কাল শনিবারের মধ্যে দাবি আদায় না হলে রোববার থেকে তাঁরা আমরণ অনশনে যাবেন।

মন্তব্য

মতামত দিন

জাতীয় পাতার আরো খবর

গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সব দলের অংশগ্রহণ জরুরি: ইউরোপীয় ইউনিয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করবে বলে আশা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আর এই নি . . . বিস্তারিত

মাহবুব তালুকদারের প্রস্তাবনা অযৌক্তিক ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক: কবিতা

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেছেন, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের কয়েকটি প্রস্তাবনা অ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com