জেএমবির উত্তরবঙ্গ সামরিক শাখার প্রধানসহ গ্রেপ্তার ৪

০৭ ডিসেম্বর,২০১৭

ফাইল ফটো

নিজস্ব প্রতিনিধি
আরটিএনএন
বগুড়া: নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গের সামরিক প্রধানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ১৫টি গুলি, ম্যাগাজিন, ১টি চাপাতি ও ৪টি বর্মিজ চাকু উদ্ধার করে পুলিশ।

বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বাজার থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বগুড়া জেলা পুলিশ ও পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি শাখা যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গের সামরিক প্রধান ও শুরা সদস্য বাবুল আক্তার ওরফে বাবুল মাস্টার, শুরা সদস্য দেলোয়ার হোসেন ওরফে মিস্ত্রি মিজান, সক্রিয় সদস্য আলমগীর ওরফে আরিফ, সক্রিয় সদস্য আফজাল ওরফে লিমন।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া বাবুল আক্তার নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গের সামরিক প্রধান। তার সাংগঠনিক নাম বাবুল মাস্টার। বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায়।

ঢাকার গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী রাজীব গান্ধী ওরফে জাহাঙ্গীর আলমের পর নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বাবুল। রাজীব গান্ধী গ্রেপ্তার আছেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত চার জঙ্গি এবং তাদের তৎপরতা সম্পর্কে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ব্রিফিং করা হবে। বগুড়া পুলিশ সুপার অফিসে আয়োজিত ওই সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত সব তথ্য জানানো হবে।

নওগাঁয় আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ ৫ জেএমবি আটক
এর আগে গত ১৬ নভেম্বর নওগাঁ জেলার আত্রায় উপজেলায় পিস্তল,গুলি ও বিস্ফোরকসহ পাঁচ জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

জেএমবি কমান্ডার আবু জিবরিল ৪ দিনের রিমান্ডে
এদিকে জেএমবির ‘সারোয়ার-তামিম’ গ্রুপের ‘ব্রিগেড আদ-দার-ই কুতনি’র কমান্ডার ইমাম মেহেদী হাসান ওরফে আবু জিবরিলের বিরুদ্ধে চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম সাব্বির ইয়াসির আহসান চৌধুরী এ আদেশ দেন।

এর আগে, বনানী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত শুনানি শেষে ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বুধবার রাতে রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জেএমবির এ কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৩ এর সদস্যরা। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি ল্যাপটপ, মোবাইল ও পাসপোর্টসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় কারওয়ানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ জানান, র‌্যাম্প মডেল হওয়ার ইচ্ছা ছিল ইমাম মেহেদী হাসান ওরফে আবু জিবরিলের। এ লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতায় অংশও নেন তিনি। তবে ২০১৫ সালে সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সংস্পর্শে পাল্টে যায় তার জীবন। র‌্যাম্প মডেল থেকে হয়ে ওঠেন জেএমবির ‘ব্রিগেড আদ-দার-ই কুতনি’র কমান্ডার।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালে র‌্যাবের অভিযানে পালাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয় জেএমবির ‘সারোয়ার-তামিম’ গ্রুপের তৎকালীন আমির সারোয়ার জাহান ওরফে মানিক ওরফে আবু ইব্রাহিম আল হানিফ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে ও প্রাপ্ত আলামতের ভিত্তিতে র‌্যাব ‘বদর স্কোয়াড ব্রিগেড’ ও ‘ব্রিগেড আদ-দার-ই-কুতনি’ নামে জেএমবির আরো দুটি ব্রিগেডের তথ্য পায়।

গুলশানের হলি আর্টিসানসহ অন্যান্য হামলায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে ‘বদর স্কোয়াড ব্রিগেড’। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বেশ কয়েকজন সদস্য গ্রেপ্তার ও নিহত হলে দুর্বল হয়ে পড়ে ‘বদর স্কোয়াড ব্রিগেড’। ‘বদর স্কোয়াড ব্রিগেড’ এর ব্যাকআপ বা রিজার্ভ হিসেবে সক্রিয় হতে শুরু করে ‘ব্রিগেড আদ-দার-ই-কুতনি’।

সম্প্রতি বেশ কয়েকজন উগ্র ও জঙ্গি সদস্য গ্রেপ্তারের পর গোয়েন্দারা জানতে পারেন এই ‘ব্রিগেড আদ-দার-ই-কুতনি’র নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইমাম মেহেদী হাসান ওরফে আবু জিবরিল। ওই তথ্যের ভিত্তিতে গতরাতে রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী থেকে আবু জিবরিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ আরো বলেন, তার (আবু জিবরিল) বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল রাজাপুরে। বাবার নাম খোরশেদ আলম। জেএমবিতে যোগ দেয়ার আগে র‌্যাম্প মডেলিং করত মেহেদী হাসান ওরফে আবু জিবরিল। সোনারগাঁও-রেডিসনের মতো অভিজাত হোটেলগুলোতে র‌্যাম্প মডেলিং করতেন তিনি।

জেএমবিতে যোগদানের পর তার কাজ ছিল কর্মী সংগ্রহ করা ও ‘হিজরতে’ সহযোগিতা করা। সুন্দর চেহারা ও মোটিভেশন ক্ষমতার কারণে দ্রুত ‘ব্রিগেড আদ-দার-ই-কুতনি’ কমান্ডারের পদ পান আবু জিবরিল।

আবু জিবরিল কর্মী সংগ্রহের পাশাপাশি ‘আইটি এক্সপার্ট’ হিসেবে ঊর্ধ্বতন জঙ্গি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাংগঠনিক কাজগুলো অনলাইনে পরিচালনা করতেন। তার বাসা থেকে এ রকম যোগাযোগ স্থাপনের অনেক আলামত জব্দ করা হয়েছে। তার সঙ্গে হলি আর্টিসানে হামলাকারী ও কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানার জঙ্গিদের যোগাযোগ ছিল।

জিজ্ঞাসাবাদে আবু জিবরিল র‌্যাবকে জানায়, রাজশাহী, টাঙ্গাইল ও ঢাকায় বেশ কয়েকজন নতুন কর্মীকে বাইয়্যাত (শপথ) পাঠ করিয়েছেন তিনি। জেএমবির ‘ব্রিগেড আদ-দার-ই কুতনি’তে আনসার (সাহায্যকারী), মুজাহিদ (যোদ্ধা), সালাফি আলেম বোর্ড ও অর্থ প্রদানকারী বিভিন্ন ব্যক্তি রয়েছে বলে জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, বদর ব্রিগেড দুর্বল হওয়ার পর মূলত আবু জিবরিলের নেতৃত্বেই ‘ব্রিগেড আদ-দার-ই কুতনি’ বিভিন্ন অপারেশনাল সক্ষমতা অর্জন এবং যেকোনো স্থানে নাশকতা করার মতো পরিকল্পনা নেয় জেএমবি।

আবু জিবরিলকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরো তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ।

মন্তব্য

মতামত দিন

জাতীয় পাতার আরো খবর

বিজয় দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: ‌১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্র . . . বিস্তারিত

বিজয় দিবসে রাজধানীতে ডিএমপির বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপল . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com