রোহিঙ্গা প্রশ্নে ঢাকার কূটনীতি কতটা সফল হবে?

১১ অক্টোবর,২০১৭

২৫ আগস্টের পর থেকে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে

নিউজ ডেস্ক
আরটিএনএন
ঢাকা: রোহিঙ্গা সঙ্কট শুরুর পর থেকে বাংলাদেশের তরফ থেকে নানা কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফেরত পাঠনো যায়।

সে জন্য রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতিও দিচ্ছে না বাংলাদেশ। কারণ কর্মকর্তারা মনে করেন, শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠনো দীর্ঘসূত্রিতায় আটকে যেতে পারে।

কিন্তু বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় দৃশ্যত কোনো অগ্রগতির আশাবাদ নেই। এরই মধ্যে বুধবার জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে বিতাড়নের চেষ্টা করেছে মায়ানমারের সেনাবাহিনী।

প্রশ্ন উঠছে, এটাই যদি মায়ানমারের নীতি হয় তাহলে বাংলাদেশ যেসব কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে সেগুলো কতটা কাজে লাগবে? এর বিকল্পই বা কী হতে পারে?

রোহিঙ্গা সঙ্কট নতুন করে শুরুর পর থেকেই অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন, রোহিঙ্গাদের আদৌ মায়ানমারে পাঠানো সম্ভব হবে কি না। কারণ ১৯৯২ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে মায়ানমার আর কোনো রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়নি।

বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, জাতিসংঘের মাধ্যমে বাংলাদেশ সঙ্কট সমাধানের যে চেষ্টা করছে তার বাইরে বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে আলাদাভাবে মায়ানমারের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করতে পারে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন ধরনের অবরোধের বা বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক শাস্তির কার্যক্রম বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে পরিচালনা করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও সংস্থা হিসেবে অর্থনৈতিক বা অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়। সেটা সম্ভব।’

তবে জাতিসংঘের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান হলে সেটি সবচেয়ে বেশি কার্যকরী হবে বলে মনে করেন কবির।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে গত ২৫ বছরে বাংলাদেশে মিয়ানমারের সাথে যতবারই আলোচনা করেছে ততবারই মায়ানমার বিষয়টি এড়িয়ে গেছে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেনের বর্ণনায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে কূটনৈতিক সমাধান বেশ কঠিন বিষয় হবে। কিন্তু তারপরেও হাল ছেড়ে দেয়া যাবে না।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুটি যেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এজেন্ডা থেকে হারিয়ে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। গত ৩০ বছর ধরে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের চেষ্টা চলছে।’

পুরো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকেই সে দেশ থেকে বিতাড়নের জন্য মিয়ানমার বদ্ধপরিকর বলে তৌহিদ হোসেন মনে করেন।

ফলে তার পরামর্শ, ‘প্রতিটি ফোরামে এবং আমাদের বন্ধু দেশ যারা আছে তাদের প্রত্যেকের কাছে আমাদের বলে যেতে হবে।’

মায়ানমারের পক্ষে চীন এবং রাশিয়ার শক্ত অবস্থানের কারণে জাতিসংঘের মাধ্যমে কোন পদক্ষেপ নেওয়া আপাতত অসম্ভব।

তবে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরালোভাবে অব্যাহত থাকলে এ দুটি দেশের মনোভাব বদলানো অসম্ভব কিছু নয় বলে মনে করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির।

কবিরের কথায়, ‘আমরা যদি বিভিন্ন দেশের কাছে তুলে ধরতে পারি যে এটা শুধু মানবিক সঙ্কট নয়, এটা একটা নিরাপত্তার সঙ্কট এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বিপদের কারণ, তাহলে আমার ধারণা চীন বা রাশিয়া তাদের অবস্থান পুর্নবিবেচনা করতেও পারে।’

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করেন, এখনো পর্যন্ত তারা যেসব কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাতে তারা সঠিক পথেই আছেন।

তাদের ধারণা খুব দ্রুত কোনও ফলাফল পাওয়া না গেলেও সঙ্কট সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদী না-হওয়ারও কোনও কারণ নেই।

মন্তব্য

মতামত দিন

জাতীয় পাতার আরো খবর

জুবায়ের-নার্গিস-নিয়ামতের ভেজা চোখের অনিশ্চিত রোহিঙ্গা জীবন

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: টিন শেডের একটি ঘরে বিষণ্ণ মনে বসে আছে জুবায়ের - বয়স ১১/১২ বছরের মতো হবে। কেমন আছো? জানতে চাইতে . . . বিস্তারিত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইন অমান্য করায় ১১ বিদেশি আটক

নিজস্ব প্রতিনিধিআরটিএনএনকক্সবাজার: আইন অমান্য করায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ১১ বিদেশি এনজিও কর্মীকে আটক করেছে র‌্যাব। . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com