সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী বাংলাদেশ, অনাগ্রহী মায়ানমার

১২ সেপ্টেম্বর,২০১৭

নিউজ ডেস্ক
আরটিএনএন
ঢাকা: মায়ানমারের সাথে সম্পর্ক জোরালো করার জন্য বাংলাদেশ বিভিন্ন সময় চেষ্টা করলেও কেন দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কখনোই গড়ে তোলা যায়নি?

গত ১৫ বছর যাবত বাংলাদেশের দিক থেকে নানাভাবে আগ্রহ দেখানো হলেও মায়ানমার সবসময় নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। খবর বিবিসির।

২০০২ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে 'লুক ইস্ট' বা 'পূর্বমুখী' নীতি ঘোষণা করেছিল। সে নীতির মূলে ছিল মায়ানমারের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করা। কিন্তু সে উদ্যোগ কোনো ফল দেয়নি।

তখন বাংলাদেশের পরারাষ্ট্র সচিব ছিলেন শমশের মবিন চৌধুরী। তিনি বলেন, মায়ানমারের কাছ থেকে সবসময় সব বিষয়ে ভালো সাড়া পাওয়া যেত না। সে সময় মায়ানমারের উপর পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবরোধ ছিল।

তিনি বলেন, ‘মায়ানমার দেখাতো যে আমাদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। মূল কয়েকটি বিষয়ে আমরা তাদের কাছ থেকে সে রকম সাড়া পাইনি। বিষয়গুলো তারা অমীমাংসিত রেখে দিত। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সমস্যাটি।’

বাংলাদেশ আশা করেছিল মায়ানমারে সামরিক শাসনের অবসান হলে হয়তো পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে পরিস্থিতির উন্নতি না হয়ে বরং অবনতি হয়েছে।

২০০৯ সালে থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মায়ানমারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন তৎকালীন মেজর জেনারেল অনুপ কুমার চাকমা।
 
তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে উঠেছিল রোহিঙ্গা ইস্যুটি। যদিও বাংলাদেশ চেষ্টা করেছে মায়ানমারের সাথে সম্পর্ক জোরদার করতে।

মায়ানমারে দীর্ঘ সময় সামরিক শাসন এবং পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে দেশটি চীনের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।

পরবর্তীতে ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলে মায়ানমার। ফলে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে মায়ানমার বাংলাদেশকে কখনোই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেনি।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার জন্য মায়ানমারকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হলেও মায়ানমার বাংলাদেশেকে সেভাবে দেখে না। তাছাড়া ভৌগোলিকভাবে মায়ানমার বাংলাদেশের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, মায়ানমারের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব ততটা নেই। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো - থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম এবং ইন্দোনেশিয়ার সাথে বাণিজ্য বাড়াতে হলে বাংলাদেশের জন্য মায়ানমার হচ্ছে সে অঞ্চলের প্রবেশদ্বার।

সাবেক কূটনীতিকরা বলছেন, বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেবার জন্য মায়ানমারকে তাগাদা দেয়া হলেও বিষয়টি নিয়ে তাদের সাথে সম্পর্ক খারাপ করতে চায়নি বাংলাদেশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক আলী আশরাফ মনে করেন, বাংলাদেশের জন্য মায়ানমার অনেক গুরুত্বপূর্ণ হলেও মায়ানমারের কাছে বাংলাদেশ ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাছাড়া চীন এবং ভারতের সাথে মায়ানমারের সম্পর্ক জোরালো হবার কারণে বাংলাদেশ তাদের কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

মন্তব্য

মতামত দিন

জাতীয় পাতার আরো খবর

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের আনুষ্ঠানের অর্থ রোহিঙ্গাদের সহায়তার আহ্বান সেতুমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনের সকল আনুষ্ঠানিকতা পরিহার করে সেই অর্থ রোহিঙ্গাদ . . . বিস্তারিত

শিগগিরই হকারদের বিদেশে কর্মসংস্থানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত: সাঈদ খোকন

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় বেকার হয়ে পড়া হকারদের বিদেশে কর্মসংস্থানের ব . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com