রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধে সংসদে প্রস্তাব গৃহীত

১১ সেপ্টেম্বর,২০১৭

নিউজ ডেস্ক
আরটিএনএন
ঢাকা: মায়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন ও বিতাড়ন বন্ধ করে তাদের জন্য রাখাইন রাজ্যে ফেরত নিয়ে নিরাপদ বসবাসের ব্যবস্থা করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধি ১৪৭ (১) এর অধীনে সরকারি দলের সদস্য ডা. দীপু মনি এ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন্। এরপর প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টা আলোচনার পর প্রস্তাবটি সর্বসন্মতক্রমে গৃহীত হয়।

প্রস্তাবে বলা হয়, ‘মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অব্যাহত নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধ, তাদেরকে তাদের নিজ বাসভূমি থেকে বিতাড়ন করে বাংলাদেশে পুশইন করা থেকে বিরত থাকা এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্বের অধিকার দিয়ে নিরাপদে বসবাসের ব্যবস্থা গ্রহণে মায়ানমার সরকারের ওপর জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের জোরালো কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানানো হোক।’

প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলের নেতা রওশন এরশাদ বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নির্যাতন বন্ধে মায়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ জাতিসংঘে এ বিষয়ে প্রস্তাব উপস্থাপন করলে এ ব্যাপারে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন কামনা করেন।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, মায়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর যা করছে, তা স্মরণকালের ইতিহাসে একটি নির্মম ঘটনা। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদ উস্কে দেয়ারও ষড়যন্ত্র হতে পারে। তিনি কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন করে এ অঞ্চলে শান্তি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বর্তমানে যা চলছে, তা গণহত্যা ছাড়া কিছুই নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের জন্য যা করছেন, তা বিশ্বে বিরল ঘটনা। তিনি (শেখ হাসিনা) বঙ্গবন্ধু কন্যা বঙ্গবন্ধুর মতোই তাঁর বিশাল হৃদয়। তিনি কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, গত ২৫ আগস্ট থেকে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনে ৩ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে সহিংসতার শিকার হয়ে আরো ৪ লাখ অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা নাগরিক এদেশে এসেছে। যাদের বেশির ভাগই কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাস্পে বাস করছে। একই কায়দায় ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর সামরিক অভিযানের কারণে ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে এই রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ের সমস্যা সমাধানের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশ এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ এবং বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেছে।

মন্তব্য

মতামত দিন

জাতীয় পাতার আরো খবর

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের আনুষ্ঠানের অর্থ রোহিঙ্গাদের সহায়তার আহ্বান সেতুমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনের সকল আনুষ্ঠানিকতা পরিহার করে সেই অর্থ রোহিঙ্গাদ . . . বিস্তারিত

শিগগিরই হকারদের বিদেশে কর্মসংস্থানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত: সাঈদ খোকন

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় বেকার হয়ে পড়া হকারদের বিদেশে কর্মসংস্থানের ব . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com