‘মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন মন্দের ভাল, তবে মামা খালু বেড়ে যেতে পারে’

১৭ জুলাই,২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্বে এ ধরনের চিকিৎসা ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বাংলাদেশও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। তবে সঠিক আইনের অভাবে এ ধরনের রোগীরা দেহে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সংযোজন করতে গিয়ে নানাভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এতে এক শ্রেণীর দালার চক্র কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে।

তাই বিভিন্ন মহলের দাবির প্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা থেকে রক্ষা এবং সঠিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে দেশে বিদ্যমান(মানবদেহে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন-১৯৯৯ এর আইন সংশোধন করে মানব দেহের অঙ্গ প্রতঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন ২০১৭’র খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

মানবদেহে অঙ্গ প্রতঙ্গ প্রতিস্থাপনে এই নতুন আইনকে মন্দের ভাল বলে আখ্যায়িত করেছেন দীর্ঘ দিন থেকে এ নিয়ে আন্দোলন করে আসা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, সরকারের এটা একটা ভাল উদ্যোগ। এরফলে এতোদিন যে আইনটির কারণে মানব দেহের অঙ্গ প্রতঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্র ছিল খুবই সংকীর্ণ সেখানে এর পরিসর আরেকটু বেড়েছে।

তবে এর ফলে এখন মামা, চাচা, খালুর সংখ্যা বেড়ে নতুন প্রতারণা শুরু হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন তিনি। এ জন্য সরকারকে তার প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনার জন্য আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন ১৯৯৯ সংশোধনের জন্য দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছেন যে- মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের ক্ষেত্রটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্য। সেই সঙ্গে সরকারি একটি নির্দিষ্ট কমিটির মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। এতে বেশি কার্যকর ফল বয়ে আনতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

সম্প্রতি বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে ‘বাংলাদেশে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট-অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে  ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশে কিডনি রোগের চিকিৎসার মূল সমস্যা ১৯৯৯ সালে প্রণীত আইন। আর আইনি জটিলতার কারণেই কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা দেশে চিকিৎসা সেবা নিতে পারছেন না। এর ফলে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ন্যূনতম ৩০০ কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে হাজার হাজার কিডনি রোগীকে চিকিৎসার অভাবে ধুকে ধুকে মরছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। ফলে সরকারকে অবিলম্বে মানবদেহে অঙ্গ-প্রতঙ্গ সংযোজন আইন সংশোধন করে নাগরিকদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, দেশের মোট ১৬ কোটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় দুই কোটি  মানুষ কোনো না কোনোভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর নতুন ৪৫ হাজার বিকল কিডনি রোগীর চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে প্রতিবছর অন্তত ১০ হাজার বিকল কিডনি রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপনের দরকার হয়। কিন্তু বছরে দেশে মাত্র ২০০জন রোগীর প্রতিস্থাপন হয়ে থাকে। বাকীদের মধ্যে যাদের সামর্থ আছে তারা ভারত, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর, পাকিস্তান কিংবা অন্য কোনো দেশে গিয়ে ১৫ থেকে ২২ লাখ টাকা খরচ করে কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নিজেদের জীবন রক্ষার চেষ্টা করছেন। বাকীদের চিকিৎসার অভাবে ধুকে ধুকে মরতে হচ্ছে। দেশের কিডনি রোগীর ৫ ভাগও চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এর কারণ ১৯৯৯ সালের পশ্চাতপদ আইন। দূরদর্শি চিন্তার অভাবে এ ধরনের একটি আইন করা হয়েছে।    

তিনি আইন প্রণেতাদের অদূরদর্শি চিন্তার সমালোচনা করে বলেন, এই পশ্চাতপদ আইনের কারণেই আজ দেশের হাজার হাজার মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। অথচ রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব নাগরিকদের জীবন রক্ষা করা। কিন্তু এমন একটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে যার মাধ্যমে নাগরিকদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ফলে অবিলম্বে এই আইনটি সংশোধন করতে হবে।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, অঙ্গ-প্রতঙ্গ বেচাকেনার দোহাই দিয়ে এমন আইন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই যুগের সঙ্গের তাল মিলিয়ে মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে তা সংশোধন করতে হবে।

মন্তব্য

মতামত দিন

জাতীয় পাতার আরো খবর

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের আনুষ্ঠানের অর্থ রোহিঙ্গাদের সহায়তার আহ্বান সেতুমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনের সকল আনুষ্ঠানিকতা পরিহার করে সেই অর্থ রোহিঙ্গাদ . . . বিস্তারিত

শিগগিরই হকারদের বিদেশে কর্মসংস্থানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত: সাঈদ খোকন

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় বেকার হয়ে পড়া হকারদের বিদেশে কর্মসংস্থানের ব . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com