‘এই মাহমুদুর রহমান কোনো অবস্থাতেই আমি হতে পারি না’

১৬ জুলাই,২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

আরটিএনএন

ঢাকা: দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান গাড়ি পোড়ানোর একটি মামলার আসামি তালিকা থেকে তার নাম খারিজ এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় শাস্তি দাবি করেছেন। রবিবার ঢাকার নিম্ন আদালতে চার্জ গঠনের জন্য নির্ধারিত এই মামলার শুনানীকালে মাহমুদুর রহমান এই দাবি করেন।

 

ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট জসিম উদ্দিনের আদালতে মামলার চার্জ গঠনের শুনানীতে অংশ নিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন আমাকে হয়রানি করার জন্যই সম্পূর্ণ উদ্যেশ্যমূলকভাবে গাড়ী পোড়ানোর মামলায় আসামী করা হয়েছে।


তিনি বলেন, এই মামলার এজহারে বাদী কোথাও তার নাম উল্লেখ করেননি। মামলার দু’জন সাক্ষীও এ মামলায় তার জড়িত থাকার বিষয়ে কোনো সাক্ষ্য দেননি। এরপরও পুলিশ চার্জশীটে সন্ধিগ্ধ আসামী হিসেবে তার নাম অর্ন্তভূক্ত করেছে। তিনি বলেন, কোনো আসামীর নাম ‘সন্ধিগ্ধ’ হিসেবে এনে তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করার কোনো বিধান আইনে নেই।


তিনি বলেন, এই মামলায় আমাকে নয় নম্বর আসামী হিসেবে দেখানো হয়েছে। আমার নামও ভুল লেখা হয়েছে। অন্য আাসামীর পরিচয়, রাজনৈতিক পদবী ইত্যাদি উল্লেখ করা হলেও চার্জশীটে উল্লেখিত মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমানের কোনো পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। আমার নাম মাহমুদুর রহমান। মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান আমি নই।


২০১৩ সালে যখন মামলাটি দায়ের হয় তখন আমার বয়স ছিলো ৬০ বছর। কিন্তু চার্জশীটে উল্লেখ করা হয়েছে মোহাম্মদ মাহমুদর রহমানের বয়স ৫৭। তিনি আদালতের উদ্দেশ্য বলেন, এই মাহমুদুর রহমান কোনো অবস্থাতেই আমি হতে পারি না। কারণ আমার পরিচয় রয়েছে। আমি সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ছিলাম, বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান ছিলাম এবং বর্তমানে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক। আমি বুয়েট থেকে পাশ করা একজন প্রকৌশলী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ। আমার এতগুলি পরিচয় থাকা সত্ত্বেও পুলিশ আমার কোনো পরিচয় উল্লেখ করিনি।

 

তিনি আদালতের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাকে চার্জশীটে বলা হয়েছে গ্রেপ্তারকৃত আসামী। আমি এই মামলায় গ্রেপ্তার হইনি। আমাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। এছাড়া এই মামলায় আমার অন্যায় রিমান্ড মঞ্জুর করার ৮ মাস পর রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। দ্বিতীয়বার যখন রিমান্ড মঞ্জুর করা হয় তখন আমাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। অথচ হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে কোনো আসামীর রিমান্ড মঞ্জুর করতে হলে তাকে আদালতে হাজির করা আবশ্যক।


এসময় তিনি তার যুক্তির পক্ষে হাইকোর্ট ও আপীল বিভাগের তিনটি নির্দেশনা আদালতে দাখিল করেন এবং তাকে হয়রানিমূলক এই মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় শাস্তি দাবী করেন। এসময় মাহমুদুর রহমানের আইনজীবী অ্যাডকোটে সানাহউল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন মেসবাহ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, আমার দেশের বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী, সাংবাদিক সঞ্জীব চৌধুরী সহ বিপুল সংখ্যক আইনজীবী ও সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।


রাষ্টপক্ষে মামলার শুনানী করেন সহকারি পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি)।


আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কারওয়ান বাজারে নিজ কার্যালয়ে পুলিশের নজরবন্দী থানা অবস্থায় ২০১৩ সালের মৎস্যভবন এলাকায় একটি ট্যাক্সি ক্যাবে আগুন দেয়ার ঘটায় মামলা দায়ের করেন ক্যাবের চালক বাবুল মিয়া। এজহারে মাহমুদর রহমানকে আসামী না করা হলেও পরবর্তীতে ওই মামলায় মাহমুদুর রহমানকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। আদালত আগামী ১১ সেপ্টেম্বর চার্জগঠনের পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

মন্তব্য

মতামত দিন

জাতীয় পাতার আরো খবর

আলোচনা ও ঐক্য ছাড়া দেশে গণতন্ত্র আসবে না: জাফরুল্লাহ চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক আরটিএনএন ঢাকা: মহান মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম সংগঠক ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী . . . বিস্তারিত

পুলিশের অনুমতি মেলেনি, ইউনুস সেন্টারের আন্তর্জাতিক সম্মেলন বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় অনিবার্য কারণ দেখিয়ে সামাজিক ব্যবসা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আন্তর্জাত . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com