রাঙামাটির লাইফ লাইন বিচ্ছিন্ন, সর্বশেষ কী ঘটছে, কী জানা যাচ্ছে?

১৮ জুন,২০১৭

নিউজ ডেস্ক
আরটিএনএন
ঢাকা: রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলছিলেন ‘মহাবিপর্যয়ক অবস্থা আমরা পার করছি। চট্টগ্রাম-রাঙামাটির রাস্তা আমাদের লাইফ লাইন, এটার মাধ্যমে আমাদের সকল খাদ্যদ্রব্য বা অন্য কোনো কিছু পরিবহনের জন্য আমরা এটি ব্যবহার করে থাকি।’
 
‘এছাড়া খাগড়াছড়ির সঙ্গে সংযোগ রাস্তা যেটি হয়েছিল, আরেকটি রাস্তা কাপ্তাই হয়ে বান্দরবান হয়ে চট্টগ্রাম যাবার রাস্তা এ সবকয়টিই বিপর্যস্ত’ বলে জানান মান্নান।

ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সময় পাহাড়ধসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। সড়কপথে যোগাযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এক থেকে দেড় মাস সময় লাগবে, জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
 
তবে প্রশাসন বলছে, আগামী তিনদিনের মধ্যেই রাঙামাটি থেকে চট্টগ্রাম সড়কে হালকা যানবাহন চলাচল শুরু করা যেতে পারে। এদিকে পাহাড়ধসের ঘটনায় শনিবারও দুজনের মৃতদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ নিয়ে পাঁচ জেলায় পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৫৮ জনে। শুধু রাঙামাটিতেই অন্তত ১১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খবর বিবিসির।

জেলা প্রশাসক জানান, সড়ক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করার জন্য জোরেশোরে কাজ করছে সামরিক-বেসামরিক প্রশাসন। তবে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে বেশ সময় লাগে। এখন সব কাজই নৌপথে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলছিলেন খাদ্য সঙ্কটের মতো পরিস্থিতি এখনো সেখানে তৈরি হয়নি যথেষ্ট খাদ্য মজুত রয়েছে রাঙামাটিতে।

‘রাঙামাটির বাজারে বিভিন্ন গোডাউন আমরা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি কোনো সঙ্কট হতে পারে কিনা। আগামী পনের দিনও যদি চাল, ডাল, তেলের সাপ্লাই না আসে তাহলেও কোনো সঙ্কট হবে না’ বলেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসকের মতে, এ মুহুর্তে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো ঘরবাড়ি হারানো মানুষের পুনর্বাসন। তিনি আশঙ্কা করছেন, আগের জায়গায় ঘর তুলে দিলে একই ভাগ্য হতে পারে।

আবারো ভারী বর্ষণে বিভিন্ন পাহাড়ী এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে, আর এমন ভূমিধসের পরে সবাই সচেতন হলেও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে বলে জানান মান্নান।

‘স্মরণকালে যা ঘটেছে, একশো বছরে বা তারও আগে রাঙামাটির পাহাড়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটে নাই। আমরা আগের তুলনায় সচেতন হয়েছি। কিন্তু ভারী বৃষ্টিপাত হলে আশঙ্কাতো আছেই, এমনকি বৃষ্টি দেখে আমিও আতঙ্কিত।’

‘এতগুলো লাশ দেখার পরে কেউ স্বাভাবিক থাকতে পারে না। এখন আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এই মানুষগুলোর পুনর্বাসন। আমরা যদি আগের জায়গাতেই তাদের পুনর্বাসন করি তাহলে এমন নির্মম পরিস্থিতিতে আবারো পড়তে হতে পারে-বলছিলেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক।

রাঙামাটিতে যথেষ্ট পরিমাণ প্লেইন ল্যান্ড বা সমতল ভূমি না থাকায় পুনর্বাসনটা চ্যালেঞ্জের কাজ বলেই মনে করছেন তিনি।

‘প্লেইন ল্যান্ড থাকলে আমরা সহজেই তাদের পুনর্বাসন করতে পারতাম। যদি সমতলে তাদের ঘর তুলে দেয়া যেতম সরকারি সহায়তায় ঘরবাড়ি তুলে দিয়ে তাদের নিরাপত্তা ভালোভাবে নিশ্চিত করা যেত।’

এখন পুনর্বাসনের কাজটি সঠিকভাবে করার জন্য সঠিক যাচাইবাছাই প্রয়োজন এবং সেটি চলছে বলে জানান মান্নান।

জেলা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত রাঙ্গামাটির ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুই হাজার চারশো জন অবস্থান করছে।

মন্তব্য

মতামত দিন

জাতীয় পাতার আরো খবর

জুবায়ের-নার্গিস-নিয়ামতের ভেজা চোখের অনিশ্চিত রোহিঙ্গা জীবন

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: টিন শেডের একটি ঘরে বিষণ্ণ মনে বসে আছে জুবায়ের - বয়স ১১/১২ বছরের মতো হবে। কেমন আছো? জানতে চাইতে . . . বিস্তারিত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইন অমান্য করায় ১১ বিদেশি আটক

নিজস্ব প্রতিনিধিআরটিএনএনকক্সবাজার: আইন অমান্য করায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ১১ বিদেশি এনজিও কর্মীকে আটক করেছে র‌্যাব। . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com