বিবিসির প্রতিবেদন

‘সাংবাদিকদের বিদেশ সফরে নজরদারি, স্বাধীনতা খর্বের অভিনব কায়দা’

১৮ মে,২০১৭

নিউজ ডেস্ক

আরটিএনএন

ঢাকা: কোনো সাংবাদিক বিদেশ গিয়ে দেশের স্বার্থ-বিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে কিনা, সে সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই সুপারিশ তুলে ধরেই তা বাস্তবায়নের জন্য আদেশের চিঠি বিদেশে বাংলাদেশি মিশনগুলোতে পাঠিয়েছে।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে এমন ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তাবটি তুলেছিলেন এই কমিটির সদস্য এবং আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মাহজাবিন খালেদ।


তিনি বলছিলেন, ‘ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন প্রত্যেক বছর বন্ধুত্বের সফরের নামে বাংলাদেশ থেকে কিছু সাংবাদিককে তাদের দেশে নিয়ে যায়।এবং সেখানে অনেক কথা তোলা হয়।এবং কিছু সাংবাদিক আছেন, যারা বাংলাদেশ বিরোধী কথা বলে আসেন।’


সংসদ সদস্য মাহজাবিন খালেদ আরো বলেছেন, ‘সম্প্রতি পাকিস্তানে এমন একটি সফরে প্রশ্ন তোলা হয়েছিলো যে, বাংলাদেশের গণহত্যা দিবস পালন করা হবে কিনা? এবং একজন সাংবাদিক বলে এসেছেন, আসলে ভারতের উস্কানিতে এ কথাটা উঠেছে, এটা কিছু হবে না।একারণেই আমি সংসদীয় কমিটি বলেছিলাম যে, সাংবাদিকদের কেউ একথা যদি বলে আসে তবে তার জবাবদিহি করা উচিত।এর পরিপ্রেক্ষিতেই হয়তো ঐ চিঠি দেয়া হয়েছে।’


বাংলাদেশের দশজন সাংবাদিক সম্প্রতি পাকিস্তান সরকারের আমন্ত্রণে দেশটিতে সফরে গিয়েছিলেন।


সেই সফরের সময়ের কর্মকাণ্ড নিয়েই সংসদীয় কমিটিতে আলোচনার পর নজরদারির বিষয় এসেছে।


তবে পাকিস্তান সফরকারী সাংবাদিকদের মধ্যে আহমদ আতিক বলছিলেন, তাদের সফরে দেশের স্বার্থ-বিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড কেউ করেনি।


আতিক বলছিলেন ‘আমরা পাকিস্তানে সফরে তাদের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় আমরা সবার আগে যে প্রশ্ন তুলেছি, সেটা হচ্ছে, ৭১সালে আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে পাকিস্তানের তৎকালীন সরকারের যে ভূমিকা,সেজন্য তাদের অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে।আমাদের দেশে যে গণহত্যা চালিয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে অবশ্যই তাদের ক্ষমা চাইতে হবে।দেশের বিন্দুমাত্র স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়, এ ধরনের কথা আমরা কোথাও বলিনি।’


নজরদারির ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশের চিঠি নিয়ে সাংবাদিকদের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।


সামাজিক নেটওয়ার্কেও এনিয়ে আলোচনা চলছে এবং চিঠিটি ভাইরাল হয়েছে। ইংরেজী দৈনিক নিউজ টুডে’র সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘এ ধরনের নজরদারী আগে কখনও হয়নি। এটাতো সাংবাদিকদের স্বাধীনতা খর্ব করার অভিনব কায়দা।’


তবে বৃহস্পতিবার ভিন্ন বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা এই নজরদারির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, ‘এই সার্কুলার আমি দেখিনি।আর বিষয়টা হলো, জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য যারাই বিদেশে যান, তাদের সকলের উপর নজর রাখাটা সরকারের দায়িত্ব।এর মানে এই নয় যে সকলকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বা নিয়ন্ত্রণের একটা পদ্ধতির মধ্যে আনা হচ্ছে।এটা অবশ্যই নয়।’


মন্ত্রী আরো বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মতো স্বাধীন গণমাধ্যম পৃথিবীর কম দেশেই আছে।যা খুশি তাই লিখছে।আর বিদেশে গেলে কি করছে, আমারতো মনে হয়, দেখা উচিত।’


বিবিসি অবলম্বনে

মন্তব্য

মতামত দিন

জাতীয় পাতার আরো খবর

উনি সরে গেলেই তো পারেন: প্রধান বিচারপতিকে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক আরটিএনএন ঢাকা: প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, উনি সরে . . . বিস্তারিত

বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগ করতে হবে: আইনজীবী পরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগ দাবি করেছে বঙ্গবন্ধু . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com