বনানীর ধর্ষণ মামলা

সেই রাতে কার কী ভূমিকা ছিল তা জানতে মুখোমুখি করা হবে আসামিদের!

১৮ মে,২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

আরটিএনএন

ঢাকা:বহুল আলোচিত বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছে নাটের গুরু নাঈম আশরাফ।


মামলার চার আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে এবং গ্রেপ্তার পঞ্চম আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা বলেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।


তিনি বলেছেন, বুধবার রাতে মুন্সীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তারের পর এ মামলার আসামি নাঈম আশরাফ বা হাসান মোহাম্মদ হালিমকে ঢাকায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তারা।


বৃহস্পতিবার মহানগর পুলিশের কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মনিরুল বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, নাঈমকে রিমান্ডে এনে পাঁচ আসামিকে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাদের কাছ থেকে এরই মধ্যে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার পূর্ণাঙ্গ এভিডিয়েন্স পেতে আরো জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।


এদিকে রিমান্ডে থাকা আসামিরা এরই মধ্যে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাফাত বলেছে, ঘটনার রাতে আরো তিন তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সময় কাটিয়েছিল সাফাত আহমেদ। এজন্য শরীরে শক্তি বাড়াতে আগে ইয়াবা সেবন করে নেয়। শুধু তাই নয়, এমন আরো অনেক তরুণীর সঙ্গে সময়ে-অসময়ে মিলিত হতো।


রিমান্ডে থাকা বনানীর নির্যাতন মামলার প্রধান আসামি সাফাত গোয়েন্দাদের নানা তথ্য দিচ্ছে। পুলিশকে জানিয়েছে, তার অগণিত বান্ধবীর কথা। যাদের সঙ্গে সময়ে-অসময়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে মিলিত হতো সাফাত ও বুধবার রাতে মুন্সীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার তার বন্ধু নাঈম আশরাফ। 


জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, বান্ধবীদের সবাই মডেল, উপস্থাপক, অভিনেত্রী, শিল্পী কিংবা সুন্দরী তরুণী। তবে শুধু সাফাত নিজে নয়, তার বেপরোয়া জীবনযাপন সম্পর্কে গাড়িচালক বিল্লালও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে বলে জানা গেছে। সেই সঙ্গে সাফাতের বডিগার্ড রহমতের কাছ থেকে ওই রাতের ঘটনার সত্যতা পেয়েছে গোয়েন্দারা।


এর আগে, সোমবার রাতে সাফাত আহমেদ ও তার গাড়িচালক বিল্লালকে কিছু সময়ের জন্য মুখোমুখি করেছিলেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তখন সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল জানান, সেই রাতে সাফাত আহমেদ নিজেই বিল্লালকে উপরের রুমে ডেকে নেন। এসময় সাফাত আহমেদ তাকে (বিল্লাল) বাথরুম সংলগ্ন ড্রেসিং রুমে গিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চিত্র ভিডিও করতে বলেন।


বিল্লাল আরো জানায়, সাফাত এবং তার বন্ধু নাঈম আশরাফ যখন দুই তরুণীকে ধর্ষণ করে তখন পুরো দৃশ্য সে (বিল্লাল) মোবাইল ফোনে ধারণ করেছিল। পরে এ ঘটনায় মামলা দায়ের ও মিডিয়ায় একের পর এক খবর ছাপা হতে থাকলে সাফাতের নির্দেশেই তিনি (বিল্লাল) ওই ভিডিও ডিলিট করে দেন।


তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনার রাতে অস্ত্র নিয়েই হোটেলটিতে (দ্য রেইনট্রি) প্রবেশ করেছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন সাফাতের বডিগার্ড রহমত আলী। পুলিশ ইতিমধ্যেই গাড়িচালক বিল্লালের ওই মোবাইল ফোনটি জব্দ করেছে। একই সঙ্গে ডিলেট করা ওই ভিডিও পুনরুদ্ধারের জন্য তদন্ত সংশ্লিষ্টরা সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠিয়েছে।


নির্যাতনের আগে ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করে গত রবিবার সাফাত আহমেদ গোয়েন্দাদের জানিয়েছিল, অভিযোগকারী দুই ছাত্রীর সঙ্গে আসা শাহরিয়ার নামে এক চিকিৎসককে মারধরের দৃশ্য তারা ভিডিও করেছে। আর নির্যাতন করার আগে গাড়ি চালক বিল্লাল হোসেন ওই দুই ছাত্রীর সঙ্গে তাদের ওঠাবসার দৃশ্য ভিডিও করেছেন। তবে এর বাইরে ধর্ষণ করার সময় সেই দৃশ্য গাড়িচালক ভিডিও করেছে কি না তার জানা নেই। 


যদিও রেইনট্রি হোলেটের ৭০১ নম্বর কক্ষে মোবাইল ফোনে ভিডিও করার দৃশ্য এখনও পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি।


প্রসঙ্গত, ২৮ মার্চ বন্ধুর সঙ্গে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে বনানীর ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে নির্যাতনের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই তরুণী। ওই ঘটনায় ৬ মে রাজধানীর বনানী থানায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ (সিরাজগঞ্জের আবদুল হালিম) ও সাদমান সাকিফসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তারা। যাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এদের মধ্যে বুধবার রাতে মুন্সীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া নাঈম আশরাফ ছাড়া বাকিরা সবাই রিমান্ডে।

মন্তব্য

মতামত দিন

জাতীয় পাতার আরো খবর

শাহবাগে সংঘর্ষের ঘটনায় ১২০০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: বৃহস্পতিবার শাহবাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ . . . বিস্তারিত

বিচারকদের আচরণ বিধিমালার ব্যাপারে যেসব দ্বিমত ছিল তা দূর হয়েছে: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘অধস্তন আদালতের বিচারকদের আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধিমালার ব্যা . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com