আপনের ৪৯৮ কেজি স্বর্ণ ও ৪২৭ গ্রাম হীরার মজুত কীভাবে?

১৮ মে,২০১৭

নিউজ ডেস্ক

আরটিএনএন

ঢাকা: শুল্ক গোয়েন্দারা বলছেন, আপন জুয়েলার্সের কর্ণধাররা জব্দকৃত সাড়ে ১৩ মন স্বর্ণ এবং ৪২৭ গ্রাম হীরার বৈধ কাগজ দেখাতে পারেননি।


শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর গত কয়েকদিনে দু’দফায় অভিযান চালিয়ে বনানী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামীর পরিবারের মালিকানাধীন আপন জুয়েলার্স এর পাঁচটি বিক্রয় কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়। সেগুলো থেকে অবৈধ সন্দেহে এসব অবৈধ স্বর্ণ এবং হীরা উদ্ধার করার কথা বলা হয়েছিলো।


বৈধ কাগজ দেখানো এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মালিকপক্ষকে তলব করা হয়েছিল।


বনানী দু’জন ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সাফাত আহমেদের বাবা দিলদার আহমেদ এবং তার দুই ভাই আপন জুয়েলার্স এর মালিক।তারা তিন ভাই তলবের কারণে আজ (বুধবার) শুল্ক অধিদপ্তরে গিয়েছিলেন।


তাদের বেশ কয়েক ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের প্রধান ড: মইনুল খান সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তাদের অভিযানে উদ্ধার করা আড়াইশ কোটি টাকা মূল্যের ৪৯৮ কেজি স্বর্ণ এবং ৪২৭গ্রাম হীরার ব্যাপারে মালিকপক্ষ কোন বৈধ কাগজ দেখাতে পারেনি। এরপরও আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য এই মালিকদের বৈধ কাগজ দেখানোর জন্য ২৩শে মে পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। সেদিন তারা বৈধতার প্রমাণ দিতে পারলে আটক স্বর্ণ ছাড়া পাবে।তা নাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে তিনি উল্লেখ করেছেন।


বৈধ কাগজ না থাকলে স্বর্ণ পাচারের অভিযোগে এবং শুল্ক আইনে মামলা হতে পারে বলেও বলা হয়েছে। একইসাথে শুল্ক অধিদপ্তর বলেছে, সাড়ে ১৩ মণ স্বর্ণের মধ্যে খুব বেশি হলে দশ কেজির মতো স্বর্ণ কিছু গ্রাহকের হতে পারে- এটা মালিকরা জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে।ফলে গ্রাহকদের স্বর্ণ বাছাই করে তা ফেরত দেয়ার ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে।


তবে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার পর বেরিয়ে এসেই সাংবাদিকদের মুখে পড়েন দিলদার আহমেদসহ আপন জুয়েলার্স এর তিন মালিক। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে দিলদার আহমেদ দাবি করেছেন, তিনি বৈধভাবে ব্যবসা করেন। তার মতই একইভাবে সারাদেশে অন্য স্বর্ণ ব্যবসায়ীরাও ব্যবসা করেন। তিনি প্রশ্ন করেন -- শুধু তার দোকান কেন বন্ধ করা হলো? সারাদেশের সব দোকান বন্ধ করা উচিত।


তবে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের প্রধান ড. মইনুল খান বলেছেন, তাদের কাছে আপন জুয়েলার্স এর অবৈধ মজুদের ব্যাপারে আগের তথ্য ছিল। এছাড়া বনানীর ধর্ষণের মামলার ক্ষেত্রে পাচার করা স্বর্ণ দিয়ে ব্যবসার করার অভিযোগ এসেছে। ফলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে তারপর শুল্ক গোয়েন্দারা আপন জুয়েলার্স এর ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।


ড. মইনুল খান আরো বলেছেন, স্বর্ণের অন্য ব্যবসায়ীদের আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। স্বর্ণ আমদানির ব্যাপারে জটিলতা দুর করার জন্য তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখেছেন।


তিনি বলেছেন, এ পর্যন্ত পাচার হয়ে আসা স্বর্ণ যা ধরা পড়েছে, সেগুলো দ্রুত নিলামে দিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সরবরাহ করার ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া স্বর্ণ আমদানির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতে হয়। তাতে অনেক সময় লাগে এবং জটিলতা আছে বলে ব্যবসায়ীরা বলেছে। এই জটিলতা দুর করার জন্য শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করেছে।


বিবিসি অবলম্বনে

মন্তব্য

মতামত দিন

জাতীয় পাতার আরো খবর

‘সরকার পরিবর্তনের সময় এসে গেছে’ এরশাদের বক্তব্যে রাজনীতিতে তোলপাড়!

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: গত ১৯ জুলাই পাঁচ দিনের ব্যক্তিগত সফরে দিল্লি যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। রবিবার বিকেলে তিনি . . . বিস্তারিত

যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ হচ্ছে পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ি

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনলন্ডন: বায়ু দূষণ মোকাবেলায় যুক্তরাজ্যে ডিজেল ও পেট্রোলচালিত নতুন যানবাহন ২০৪০ সাল থেকে নিষিদ্ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com