সিটিং সার্ভিস বন্ধে সরকারের পিছুটান, ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য চলছেই

২০ এপ্রিল,২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: ১৫ দিনের জন্য সিটিং সার্ভিস বন্ধের সিন্ধান্ত স্থগিত করেছে সরকার। বাস মালিকদের সাথে আলোচনার পর বিআরটিএ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তবে ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য কমেনি।

সিটিং সার্ভিস নামে চললেও বাড়তি ভাড়া আদায় চলছেই। বাস মালিক সমিতির পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রাজধানীতে গত শনিবার থেকে সিটিং সার্ভিস বন্ধ করতে মাঠে নামেন বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই দিন থেকেই প্রায় ৪০ শতাংশ বাস-মিনিবাস রাস্তায় নামেনি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে যাত্রীরা।

সাধারণ যাত্রী ও যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন ব্যক্তিরা বলছেন, এবার ভাড়া কমানোর কথা বলে সিটিং সার্ভিস বন্ধ করা হয়। কিন্তু ভাড়া কমেনি। মূলত যাত্রীদের জিম্মি করে বাড়তি ভাড়া আদায়ের জন্য এটা মালিকদের কারসাজি।

বিআরটিএর কর্মকর্তা ও যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজ করেন এমন ব্যক্তিরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় সিটিং সার্ভিস অব্যাহত রাখার যে সিদ্ধান্ত বুধবার নেওয়া হয়েছে, তা অনেকটাই অবাস্তব। এর ফলে পরিবহন মালিকেরা বন্ধ বাস চালু করে দিতে পারেন। তবে বাড়তি ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য থেকেই যাবে। আর ভ্রাম্যমাণ আদালত সীমিত হলেও এত দিন বাড়তি ভাড়া আদায় রোধে যে তৎপরতা চালাচ্ছিল, বৃহষ্পতিবার এই সিদ্ধান্তের কারণে শিথিল হয়ে পড়ছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, এর আগেও ২০ বছরের পুরোনো ও লক্কড়ঝক্কড় বাস-মিনিবাস বন্ধে অভিযান চালানো হয়। সিএনজিচালিত অটোরিকশা মিটারে চলতে বাধ্য করতেও বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়েছে সরকার। এমনকি বাসের বাড়তি ভাড়া আদায় রোধেও একাধিকবার ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামে। অন্যদিকে প্রতিবারই যাত্রীদের জিম্মি করে মালিক-শ্রমিকেরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। যার ফলে মাঝপথে সরকার অভিযান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

বুধবার বিআরটিএ কার্যালয়ের বৈঠকে মালিক-শ্রমিক ও বিআরটিএ কর্মকর্তাদের বাইরে শুধু দুজন ছিলেন। তারা হলেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ও সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ইলিয়াস কাঞ্চন তার বক্তব্যে নির্ধারিত ভাড়ার হার কার্যকর এবং যেসব মালিক বাস বন্ধ রেখে দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, অতীতে সরকার অনেক উদ্যোগ নিয়ে মাঝপথে আটকে গেছে। পরে আর সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। তাই এবার পিছু হটা উচিত হবে না।

সিটিং সার্ভিস ১৫ দিন অব্যাহত রাখার বিষয়ে এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘আপনারা হয়তো বলতে পারেন, আমরা যুক্তি করে এটা করেছি, কিন্তু তা না। এখানে মালিকদের কেউ কথা বলেনি। এটা মালিকদের সিদ্ধান্ত না। সবার কথা শুনে বিআরটিএ চেয়ারম্যান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

মন্তব্য

মতামত দিন

জাতীয় পাতার আরো খবর

‘প্রধান বিচারপতির বিতর্ক রাজনীতি ও বিচার বিভাগে দীর্ঘ মেয়াদে প্রভাব ফেলবে’

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: একজন প্রধান বিচারপতি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নৈতিক-স্খলনসহ অনিয়মের অভিযো . . . বিস্তারিত

প্রধান বিচারপতির নির্দেশে দুদককে দেয়া চিঠি বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান বন্ধের নির্দেশনা দিয়ে . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com