সর্বশেষ সংবাদ: |
  • প্রার্থিতা নিয়ে খালেদা জিয়ার বিভক্ত আদেশের পূর্ণাঙ্গ আদেশ না লিখেই প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোয় তা আবার সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে ফেরত পাঠিয়েছেন প্রধান বিচারপতি
  • নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণহানি ও মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় নির্বাচন কমিশন বিব্রত, আর কোনো অঘটন কাম্য নয় : সিইসি
  • ভোট ৫০ ভাগ সুষ্ঠু হলেই সরকারি দলকে নির্বাচনে খুঁজে পাওয়া যাবে না, তাই সন্ত্রাসের আশ্রয় নিয়েছে আওয়ামী লীগ : ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ
  • নাশকতার মামলায় রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ
  • বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ

পুঁজিবাদের ভবিষ্যত এবং বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক অবস্থা

০৫ ডিসেম্বর,২০১৮

পুঁজিবাদের ভবিষ্যত এবং বর্তমানে বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আরটিএনএন
ওয়াশিংটন: পল কলিয়ার বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী উন্নয়নশীল অর্থনীতিবিদ দের মধ্যে অন্যতম এবং আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। অর্থনীতি নিয়ে তার লেখা ব্যক্তিগত এবং আবেগ প্রবণ বইতে তিনি বর্তমান পশ্চিমা বিশ্বের উচ্চ আয় নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করেছেন।

তার লক্ষ্যবস্তু ছিল সমসাময়িক পুঁজিবাদের ব্যর্থতা নিয়ে। যদিও সকলে পল কলিয়ারের মতামতের সাথে একমত হবেন না কিন্তু অন্তত একটি বিষয়ে সকলেই তার সাথে একমত হবেন আর তা হচ্ছে- ‘বিলাসী বস্ত্রের আড়ালে আমাদের সমাজ গুলোতে গভীর ফাটল বিদ্যমান। এটি আমাদের লোকজনের মধ্যে নতুন উদ্বিগ্নতা এবং নতুন ধরণের ক্ষোভ বাড়িয়ে দিচ্ছে আর অন্যদিকে রাজনীতির জন্য নতুন আবেগ সৃষ্টি করছে।’

পল কলিয়ার বলেন- ‘উদ্বিগ্নতার সামাজিক ভিত্তিমূলে ভৌগলিক, শিক্ষা এবং নৈতিকতা রয়েছে।’ আর এই ফাটল যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরো বেশী দৃশ্যমান যার শুরু হয়েছে ব্রেক্সিটের মাধ্যমে আর শেষ হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার মাধ্যমে।

আর যুক্তি শেষ পর্যন্ত এ দিকে মোড় নেয় যে, সত্যিকার অর্থ ঠিক কোথায় ভুল রয়েছে। পল কলিয়ারের বইয়ের সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক দিক হচ্ছে, তিনি অর্থনীতিকে নৈতিকতার ভিত্তি হিসেবে খুব কমই বর্ণনা করেছেন।

তার বইয়ের মূল কথা হচ্ছে ‘পারস্পারিক বাধ্যবাধকতা’ যা সহযোগিতা মূলক বিশ্ব, সভ্য সমাজ, নৈতিক ব্যবসা ইত্যাদির জন্য অত্যন্ত জরুরী।

সকলেই একমত হবেন যে, পারস্পারিক বাধ্যবাধকতা ধীরে ধীরে ক্ষয় হচ্ছে যা একটি ফলপ্রসূ সামাজিক আয়োজনের উপর নির্ভর করছে। তথাপি অর্থনৈতিক শক্তি এখনো কাজ করছে। বিশ্বায়ন এবং প্রযুক্তিগত আবিষ্কার শহুরে জীবনে অভ্যস্ত উচ্চ শিক্ষিতদের এক কাতারে নিয়ে আসছে।

আবার শিক্ষিত মানুষদের সফলতা এবং তাদের স্থিতিশীল বৈবাহিক সম্পর্ক বর্তমান অভিজাত তন্ত্রের এ যুগে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে সংক্রামিত হচ্ছে। চূড়ান্ত ভাবে বর্তমানের পুঁজিবাদ কিছু বিকারগ্রস্ত নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে যেমন, শৃঙ্খলা-মুক্ত অর্থনীতি, অপরিশোধিত কর, নিয়ন্ত্রণ-হীন ব্যবসা আর অব্যবস্থাপনা মূলক অভিবাসনের উপর।

এ ব্যবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কি করা উচিত? পল কলিয়ার দু-রকম পরামর্শ দিয়েছেন: একটি হচ্ছে নৈতিক আর অন্যটি হচ্ছে কৌশলগত। তার নৈতিক পরামর্শের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে- বৈশ্বিক, জাতীয় এবং শিল্প পর্যায়ে পুনরায় পারস্পারিক বাধ্যবাধকতা গড়ে তোলা।

বর্তমানে বিশ্বে পরিমার্জিত দেশ প্রেমের মাধ্যমে বিশ্বের দেশ সমূহকে আবার একত্রিত করা সম্ভব। অন্যদিকে কৌশলগত দিকের ক্ষেত্রে পল কলিয়ার ‘Georgeism’ নামের নতুন ধরণের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরামর্শ দিয়েছেন। ‘Georgeism’ এর অর্থ হচ্ছে জনগণ যা উৎপাদন করে তার মূল্য অবশ্যই তাদের এবং পণ্যটি যে অঞ্চলে উৎপাদিত সে অঞ্চলের সকল জনগণ এর মূল্য পাওয়ার অধিকারী। এ নীতির প্রবক্তা হচ্ছেন হেনরি জর্জ নামের বিখ্যাত একজন অর্থনীতিবিদ।

পল কলিয়ার যুক্তি দেন যে, আমাদের প্রয়োজন ধারের মাধ্যমে কর আদায় করা এবং এতে পুঁজি অন্তর্ভুক্ত থাকবে যা বর্তমানে শুধুমাত্র ভাগ্যবান ব্যবসায়ীরাই পেয়ে থাকেন। তিনি ‘bankslaughter’ নামের নতুন ধরণের ধারণা দেন যা বাণিজ্যিক ব্যাংক গুলোর ব্যবস্থাপকদের সাথে সম্পৃক্ত যারা তাদের ব্যাংক গুলোকে ধ্বংস হতে সহায়তা করে।

পল কলিয়ারের বইটি বিভিন্ন দিক থেকেই প্রশংসার যোগ্য: নৈতিক ভিত্তি সমূহকে অর্থনীতির সাথে সংযুক্ত করা, অর্থনীতির পুরো প্রক্রিয়া কে তুলে ধরা, সামাজিক এবং রাজনৈতিক ইস্যু সমূহকে বিশ্লেষণ করা এবং বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক ভিত্তিমূলে থাকা পুঁজিবাদের বিশ্লেষণ করা ইত্যাদি।

বর্তমান বিশ্বের ফাটল সমূহকে আবার পুন-একত্রিত করা সম্ভবপর নয়। অধিকন্তু, যে শক্তি পশ্চিমা সমাজ সমূহের মধ্যে ফাটল ধরিয়েছে তা অভ্যন্তরীণ ভাবে এবং বহিরাবরণের দিক থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী।

পারস্পারিক বাধ্যবাধকতার অনুভূতি বাতাসে মিলিয়ে গেছে, পুরনো শ্রমের শক্তি পেছনে পড়ে গিয়েছে এবং অ-ধৈর্যশীল অভিজাতদের অহমিকা বেড়েই চলছে যা শুধুমাত্র তাদের রাগ আর ক্ষোভ কেই সামনে নিয়ে এসেছে।

আমাদের এই দুর্দশার সূত্র খুঁজে বের করা আসলেই সহজ এবং আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, সমাধান আর প্রতিকার দেয়ার নাম করে শুধুমাত্র প্রতারণাই করা হচ্ছে। তথাপি আমাদের কে অন্তত ভালো কিছু করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আর শেষে এ কথা বলতে হয় যে, পল কলিয়ারের লেখা ‘The Future of Capitalism’ বইটি সত্যিকার অর্থেই একটি সুন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ বই।

সূত্রঃ বার্তা সংস্থা ফিনান্সিয়াল টাইমসের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান মার্টিন ওল্ফের সম্পাদকীয়
থেকে।

মন্তব্য

মতামত দিন

অর্থনীতি পাতার আরো খবর

আদমজীতে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, আহত অর্ধশত

নিজস্ব প্রতিনিধিআরটিএনএননারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের রফতানিমুখী একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বক . . . বিস্তারিত

দশ বছরের মধ্যে দরিদ্রমুক্ত হবে দেশ: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, আগামী দশ বছরের মধ্যে দেশ দরিদ্রমুক্ত হবে। সেলক্ষ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com