মুন সিনেমা হলকে ১০০ কোটি টাকা দেবে অর্থ মন্ত্রনালয়: অ্যাটর্নি জেনারেল

০৮ অক্টোবর,২০১৮

 মুন সিনেমা হলকে ১০০ কোটি টাকা দেবে অর্থ মন্ত্রনালয়: অ্যাটর্নি জেনারেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: পুরান ঢাকার মুন সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের রায় এসেছিল। তবে ওই সম্পত্তির অর্থ পাননি মালিকপক্ষ। সম্পত্তির মূল্য হিসেবে সরকার থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা মুন সিনেমা হলের মালিক ইতালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেডকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগে সোমবার এই তথ্য জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এই প্রক্রিয়ার জন্য তিন মাস সময় চাওয়া হলে আদালত আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিষয়টি মুলতবি রেখেছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক চিঠির বরাতে আদালতকে জানানো হয়েছে, সংশোধিত বাজেট থেকে ওই অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক। অন্যদিকে মুন সিনেমা হলের মালিকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি ও সাইফুল্লাহ মামুন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, মুন সিনেমা হল ও এর সম্পত্তির মূল্য বাবদ ৯৯ কোটি ২১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৪ টাকা ২৭ পয়সা পরিশোধের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অনুকূলে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরে আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি বলেন, সরকারকে ওই অর্থ আগামী ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করতে বলেছেন আদালত।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক বলেন, আদালত বিষয়টি ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক চিঠির বরাতে জানানো হয়েছে, সম্পূরক বাজেট থেকে ওই অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারী ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ আদেশে বলেছেন, মুন সিনেমা হলের জমি ও তার ওপর গড়ে তোলা স্থাপনার বর্তমান মূল্য হিসেবে ৯৯ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। ইতালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেডকে তিন কিস্তিতে ওই অর্থ পরিশোধ করতে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে বলা হয়েছে। তবে প্রথম কিস্তিতে ২৫ কোটি, দ্বিতীয় কিস্তিতে ২৫ কোটি এবং বাদবাকি টাকা তৃতীয় কিস্তিতে আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে দিতে বলেছে আদালত।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। ইতালিয়ান মার্বেল কোম্পানির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ।

পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে একসময়ের মুন সিনেমা হলের মূল মালিক ছিল ইতালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি। মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই সম্পত্তি ‘পরিত্যক্ত’ ঘোষণা করা হয় এবং পরে শিল্প মন্ত্রণালয় ওই সম্পত্তি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে ন্যস্ত করে। ইতালিয়ান মার্বেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাকসুদুল আলম ওই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করলেও বিষয়টি আটকে যায়।

১৯৬৪ সালে ১১ ওয়াইজঘাট ঠিকানায় মুন সিনেমা হল প্রতিষ্ঠা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের পর সিনেমা হলটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি ঘোষণা করা হয়। সিনেমা হলটি ফেরত পেতে হাইকোর্টে প্রথম রিট হয় ১৯৭৬ সালে। হাইকোর্ট ১৯৭৭ সালের ১৫ জুন মুন সিনেমা হলকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে জারি করা প্রজ্ঞাপনকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়। সিনেমা হলটি ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হলে ১৯৯৭ সালের ৭ অক্টোবর মার্শাল ল রেগুলেশন জারির মাধ্যমে পরিত্যক্ত সম্পত্তির সম্পূরক বিধান জারি করা হয়।

ওই বিধানে হাইকোর্টের দেয়া রায় বাতিল করা হয়। এর পর বেশ কয়েকবার মুন সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ তার সম্পত্তি ফেরত চেয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করে। কিন্তু মার্শাল ল রেগুলেশনের সম্পূরক বিধানের কারণে ব্যর্থ হয়। পরে মার্শাল ল রেগুলেশন প্রত্যাহারের দাবিতে কোম্পানিটি ১৯৯৪ সালে হাইকোর্টে আবারও রিট মামলা করে।

১৯৯৪ সালের ৭ জুন হাইকোর্ট এ আবেদনটি খারিজ করে রায় দেন। পরে ২০০০ সালে পঞ্চম সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং মুন সিনেমা হল ফেরতের দাবিতে হাইকোর্টে রিট মামলা করা হয়। এরই মধ্যে ২০০১ সালে এ সিনেমা হলের জায়গাটি ১ টাকা প্রতীকী মূল্যে সরকার মুক্তিযোদ্ধাকল্যাণ ট্রাস্টকে দান করে। মুক্তিযোদ্ধাকল্যাণ ট্রাস্ট মুন সিনেমা হলের জায়গায় মুন কমপ্লেক্স তৈরির জন্য ডেভেলপার কোম্পানি বাবুলী কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী বাবুলী কনস্ট্রাকশন লিমিটেড সাত তলা ভবন নির্মাণের পর তা সেলামি মূল্যে বিক্রির পর ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করবে। এর পর ট্রাস্ট সেখান থেকে ভাড়া আদায় করবে। চুক্তি অনুযায়ী কোম্পানিটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সাত তলা ভবনের বিশাল কমপ্লেক্স তৈরি করেছে।

পরে ২০০০ সালে পঞ্চম সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং মুন সিনেমা হল ফেরতের দাবিতে হাইকোর্টে যে রিট মামলা করা হয় ২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট তার রায় হদেয়। রায়ে হাইকোর্ট পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করেন। মোশতাক, সায়েম ও জিয়ার ক্ষমতাগ্রহণ সংবিধানপরিপন্থী ঘোষণা করা হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয় ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। পাশাপাশি ৯০ দিনের মধ্যে ইটালিয়ান মার্বেলকে মুন সিনেমা হল ফেরত দিতে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে নির্দেশ দেয়া হয়। এ অবস্থায় সম্পত্তি ফিরে পেতে ২০১২ সালের ১০ জানুয়ারি ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেড মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করে। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগ ওই সম্পত্তি অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ এক প্রকৌশলীকে দিয়ে জমি ও স্থাপনার মূল্য নির্ধারণ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেয়। এর ধারাবাহিকতায় এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আজ ওই আবেদন নিষ্পত্তি করে এই আদেশ দেয়া হল।

মন্তব্য

মতামত দিন

অর্থনীতি পাতার আরো খবর

গ্যাসের দাম ফের বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: আবারও বাড়ছে গ্যাসের দাম। আর এ ঘোষণা আসবে শিগগিরই। এর আওতায় পড়বে শিল্প-কারখানা, বাণিজ্যিক প . . . বিস্তারিত

১০ বছরে বেপজার অধীনে বিনিয়োগ ৩ গুণ বেড়েছে

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: সরকারের গৃহীত বিভিন্ন বিনিয়োগ-বান্ধব উদ্যোগের কারণে গত ১০ বছরে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ কর্ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com