সর্বশেষ সংবাদ: |
  • নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে: মাহবুব তালুকদার
  • সাতদিন আগে থেকেই নির্বাচনি মাঠে সেনাবাহিনী থাকবে: ইসি
  • শেষ টেস্ট জিতে সিরিজ ড্র করল টাইগাররা

ই-কমার্স কি পাল্টে দেবে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য

১০ সেপ্টেম্বর,২০১৮

ই-কমার্স কি পাল্টে দেবে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য

নিউজ ডেস্ক
আরটিএনএন
ঢাকা: বাংলাদেশে ই-কমার্সের এক নম্বর জায়গাটি এরই মধ্যে চীনের আলিবাবা’র দখলে। বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আমাজনও।

আর সম্প্রতি এই বাজারে ঢুকেছে পূর্ব ইউরোপের আরেকটি বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউভি। বড় বড় বিদেশি কোম্পানিগুলো কেন হঠাৎ এতটা আগ্রহী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ নিয়ে? খবর বিবিসির

বাংলাদেশে ই-কমার্সের অবস্থা আসলে কী? ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট রেজোয়ানুল হক জামির সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানার চেষ্টা করেছেন বিবিসি বাংলা:

বাংলাদেশে ই-কমার্সের অবস্থা কি?
বাংলাদেশে ই-কমার্স বাড়ছে খুবই দ্রুত। গত তিন বছর ধরে এই খাতের প্রবৃদ্ধি প্রায় একশো ভাগ। অর্থাৎ প্রতি বছর প্রায় দ্বিগুন হয়ে যাচ্ছে এই খাত।

ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের হিসেব অনুযায়ী এই খাতে মাসে এখন প্রায় সাতশো কোটি টাকা লেন-দেন হচ্ছে। অর্থাৎ বার্ষিক লেন-দেন এখন আট হাজার কোটি টাকার বেশি।

একশো ভাগ প্রবৃদ্ধির হার অব্যাহত থাকলে সামনের বছর এটি হবে ১৬ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা।

ইক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট রেজোয়ানুল হক জামি বলেন, বাংলাদেশে এই মূহুর্তে সাড়ে সাতশোর মতো প্রতিষ্ঠান ই-কমার্সের সঙ্গে যুক্ত।

ই-কমার্সে কী ধরণের পণ্য বা সেবার লেন-দেন হচ্ছে
সব ধরণেই পণ্যই এখন বাংলাদেশে অনলাইনে কেনা-বেচা হয়। এর মধ্যে পচনশীল দ্রব্য- ফলমূল শাকসব্জি যেমন আছে, তেমনি কাপড়-চোপড় ইলেকট্রনিক দ্রব্যও আছে।

তবে উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ই-কমার্স এখনো একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে। অনলাইনে অর্ডার দেয়া গেলেও এখনো নগদ অর্থেই লেন-দেন বেশি। এটাকে বলা হয় ক্যাশ অন ডেলিভারি।

অর্ডার অনলাইনে দেয়া হলেও কল সেন্টার থেকে ফোন করে সেটি আবার নিশ্চিত করা হয়। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান পণ্য কাস্টমারের কাছে পৌঁছে দিয়ে ক্যাশ টাকায় পেমেন্ট নিয়ে আসে। কাজেই পূর্ণাঙ্গ ই-কমার্স বাংলাদেশে এখনো সেভাবে চালু হয়নি।

ইক্যাবের রেজোয়ানুল হক জামি বলেন, ‘একারণে বাংলাদেশে ই কমার্স এখনো অন্য ব্যবসার তুলনায় খুব সস্তায় সেবা দিতে পারছে না। তাদের ব্যবসার খরচ এখনো সেভাবে কমিয়ে আনা যায়নি। কিন্তু তারপরও এর যে গ্রোথ হচ্ছে, তার কারণ বড় বড় শহরে বাইরে গিয়ে কেনা-কাটার যে ঝক্কি, তার চেয়ে বাসায় বসে অনলাইনে কেনা-কাটার স্বাচ্ছন্দ্যটা পছন্দ করছেন অনেকে।’

বাংলাদেশে ই-কমার্সের বড় প্রতিষ্ঠান কারা
এই মূহুর্তে বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান হচ্ছে দারাজ। চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা এটা কিনে নিয়েছে। দারাজ শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগে গড়ে উঠা প্রতিষ্ঠান।

ই-কমার্সে এর পরে যারা আছে তারা সবাই বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান। যেমন আজকের ডিল, বাগডুম, প্রিয় শপ, রকমারি, পিকাবু এবং অথবা।

পূর্ব ইউরোপের একটি বড় ই কমার্স কোম্পানি সম্প্রতি বাংলাদেশে ঢুকেছে। এর নাম কুভি। এরা বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।

আমাজন বাংলাদেশে আসার জন্য বেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু সরাসরি হয়তো বাংলাদেশের বাজারে এখনই ঢুকছে না।

ই ক্যাবের রেজোয়ানুল হক জামি জানান, আমাজন বাংলাদেশে গার্মেন্টস সেক্টরে যারা উৎপাদক আছেন, তাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ করতে চাচ্ছেন। যার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশ থেকেই তাদের প্রোডাক্ট সোর্সিং করতে চায়।

বাংলাদেশে বহু বছর ধরেই ওয়াল মার্টের সোর্সিং অফিস আছে। এ ছাড়াও চীনে আলিবাবার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী টেনসেন্ট, তারাও আগ্রহী বাংলাদেশ নিয়ে।

তারা বিভিন্নভাবে বাংলাদেশের মার্কেট যাচাই করছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠান কবে আসবে, কিভাবে আসবে, এখনো জানা যাচ্ছে না।

ই-কমার্সের প্রসারে প্রধান বাধাগুলো কী?
মূলত তিনটি সমস্যার কথা বলছেন রেজোয়ানুল হক জামি।

প্রথমত, এখনো পর্যন্ত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুরোপুরি আস্থায় নিতে পারছেন না মানুষ।

দ্বিতীয় সমস্যা হচ্ছে বাংলাদেশে নির্ভরযোগ্য ডেলিভারি ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ সম্প্রতি চেষ্টা শুরু করেছে, কিন্তু এখনো পর্যন্ত তারা সারা বাংলাদেশে ই-কমার্স ডেলিভারির ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি।

আরেকটি বড় সমস্যা যেটি, তা হলো, কোন নির্ভরযোগ্য পেমেন্ট সিস্টেমও নেই। বড় বড় শহরগুলোতে সীমিত পরিসরে ই-কমার্স চালু করা গেলেও দেশের ৭০ ভাগ গ্রামীণ মানুষ এর আওতার বাইরে।

গ্রামীণ মানুষকে তাহলে কিভাবে ই-কমার্সের আওতায় আনা সম্ভব
বাংলাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে যে ডিজিটাল সেন্টারগুলো আছে, তার মাধ্যমে ই-কমার্সকে সেখানে পৌঁছে দেয়ার একটি উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

ইক্যাবের রেজোয়ানুল হক জামি বলেন, এই উদ্যোগটির নাম একশপ। ইতোমধ্যে ছয়শ ইউনিয়নে এটি চালু করা হয়েছে।

একশপ একটি অনলাইন লজিস্টিক এবং মার্কেটিং নেটওয়ার্ক। এর মাধ্যমে ক্রেতাদের সঙ্গে বিক্রেতাদের যোগাযোগ ঘটিয়ে দেয়া হয়।

বাংলাদেশের সব বড় ই-কমার্স প্লাটফর্ম এর সঙ্গে যুক্ত। এটির মাধ্যমে একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্রেতা-বিক্রেতারাও অনলাইনে ব্যবসায়িক লেন-দেনের জন্য যুক্ত হতে পারবেন।

মন্তব্য

মতামত দিন

অর্থনীতি পাতার আরো খবর

আদমজীতে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, আহত অর্ধশত

নিজস্ব প্রতিনিধিআরটিএনএননারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের রফতানিমুখী একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বক . . . বিস্তারিত

দশ বছরের মধ্যে দরিদ্রমুক্ত হবে দেশ: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, আগামী দশ বছরের মধ্যে দেশ দরিদ্রমুক্ত হবে। সেলক্ষ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com