বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডিসহ ১০ জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড

১০ সেপ্টেম্বর,২০১৮

বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডিসহ ১০ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিনিধি
আরটিএনএন
ঢাকা: অর্থ পাচার মামলায় আলোচিত বিসমিল্লাহ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরী, তার স্ত্রী ও গ্রুপের চেয়ারম্যান নওরীন হাবিবসহ নয়জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক আতাবুল্লাহ এ আদেশ দেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের ৩০ কোটি ৬৭ লাখ ২৩ হাজার ৩৭৩ টাকা জরিমানা করে হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন বিসমিল্লাহ গ্রুপের পরিচালক ও খাজা সোলেমানের বাবা সফিকুল আনোয়ার চৌধুরী, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকবর আজিজ মুতাক্কি, মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবুল হোসেন চৌধুরী, ব্যবস্থাপক রিয়াজউদ্দিন আহম্মেদ, নেটওয়ার্ক ফ্রেইট সিস্টেম লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন এবং জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা মোস্তাক আহমদ খান এবং এস এম শোয়েব-উল-কবীর।

উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আসামিদের বিরুদ্ধে এ মামলা করে। পরে তদন্ত শেষে নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিলে আদালত আমলে নিয়ে ২০১৬ সালে বিচার শুরু করেন। দুদকের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন মোশাররফ হোসেন কাজল।

দণ্ডপ্রাপ্ত খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরীসহ নয় আসামি পলাতক রয়েছেন বলে জানান দুদকের আদালত পরিদর্শক আশিকুর রহমান। আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

মামলা সূত্রে, বিসমিল্লাহ গ্রুপের প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১২ মামলায় ৫৪ জনকে আসামি করে দুদক। দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন বলা হয়, বিসমিল্লাহ গ্রুপ ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো মিলে মোট ১ হাজার ১৭৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। এর মধ্যে ফান্ডেড দায় (স্বীকৃত বিলের বিপরীতে) ৯৯০ কোটি ৩ লাখ টাকা এবং ননফান্ডেড অর্থের পরিমাণ ১৮৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

তারা সবচেয়ে বেশি টাকা আত্মসাৎ করে জনতা ব্যাংকের। বিসমিল্লাহ গ্রুপ জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখা থেকে ফান্ডেড ৩০৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ও ননফান্ডেড ২৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, মগবাজার শাখা থেকে ১৭৭ কোটি ১০ লাখ ফান্ডেড ও ননফান্ডেড এক কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং এলিফ্যান্ট রোড শাখা থেকে ফান্ডেড ১৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে।

এ ছাড়া প্রাইম ব্যাংক মতিঝিল শাখা থেকে ফান্ডেড ২৬৫ কোটি ৪০ লাখ ও ননফান্ডেড টাকা ৬১ কোটি আট লাখ, প্রিমিয়ার ব্যাংক মতিঝিল শাখা থেকে ফান্ডেড ২৩ কোটি ২২ লাখ ও ননফান্ডেড ৩৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা, যমুনা ব্যাংক লিমিটেডের দিলকুশা শাখা থেকে ফান্ডেড ১০৮ কোটি ৪৪ লাখ ও ননফান্ডেড ৪৬ কোটি দুই লাখ টাকা এবং শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ইস্কাটন শাখা থেকে ৯৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা ফান্ডেড ও ১০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ননফান্ডেড হিসাবে অর্থ আত্মসাৎ করেছে।

সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে একটি কেলেঙ্কারির নাম বিসমিল্লাহ গ্রুপ। ২০১৩ সালে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিসমিল্লাহ গ্রুপ। তারা এই টাকা তুলে নেয় ৫টি ব্যাংক থেকে। গ্রুপের এমডি খাজা সোলায়মান চৌধুরী ও তার স্ত্রী এবং গ্রুপের চেয়ারম্যান নওরিন হাবিব এ অর্থ আত্মসাতে জড়িত। তারাও পালিয়েছেন দেশ ছেড়ে। এ ঘটনায় বিসমিল্লাহ গ্রুপের ১৩ জন ও ৫টি ব্যাংকের ৪১ জন ব্যাংকারকে আসামি করে ১২টি মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। এর মধ্যে ১০টি মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ চলছে। বাকি তিনটি মামলায় পুনরায় অধিকতর তদন্তের জন্য দুদকে পাঠানো হয়েছে। যে ১০টি মামলায় বিচারকাজ চলছে, সে মামলাগুলোয় প্রাথমিক পর্যায়ে সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান রয়েছে।

মন্তব্য

মতামত দিন

অর্থনীতি পাতার আরো খবর

ছয় গ্রেডে যৎসামান্য মজুরি বেড়েছে, শ্রমিকরা কী মানবেন?

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: বাংলাদেশ মজুরি কাঠামো নিয়ে সংকট নিরসনে সরকারের একটি পর্যালোচনা কমিটি সব পক্ষের সাথে জরুরি বৈঠকে . . . বিস্তারিত

পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন দমাতে ছয় গ্রেডে মজুরি বাড়ানোর ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: সরকার গঠনের শুরুতেই বেতন-ভাতা বাড়ানোসহ বিভিন্ন দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের টানা আন্দোলনের মুখে . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com