ঈদবাজারে নির্ঘুম রাত বিক্রেতাদের

০৯ জুন,২০১৮

ঈদবাজারে নির্ঘুম রাত বিক্রেতাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: পবিত্র ঈদুল ফিতরের বাকি আর এক সপ্তাহ। রাজাধানী থেকে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু হবে এ সপ্তাহের মাঝ থেকে। তাই রাতভর ঈদের কেনাকাটায় ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছে রাজধানীবাসী। বিক্রির পরিধিও বেড়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের কথা বলে জানা গেছে, রমজানের শুরুতে ক্রেতারা দুপুর থেকে আসতো কিন্তু এখন সকাল থেকেই বেচাকেনা শুরু হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আগেই খোলা হচ্ছে দোকান। বেচাকেনা চলছে মাঝরাত পর্যন্ত।

রাজধানীর মতিঝিল, গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত, মৌচাক, মহাখালীসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ফুটপাতে দোকানে দেখা গেছে উপচেপড়া ভিড়। ক্রেতারা আসছেন, পছন্দমতো জামা-কাপড় কিনছেন।

বিক্রেতারা বলেছেন, সকাল থেকে চলছে কেনাকাটা। বিশ্রামের সময় নেই তাদের। সারাক্ষণই ভিড়। তবে ফুটপাতের অনেক দোকানে একদামে পোশাক বিক্রি হয়। সেখানে সারাদিনই পোশাকের দাম জানিয়ে হাঁকডাক দিতে ব্যস্ত বিক্রেতারা।

রাজধানীর ফুটপাত এলাকা হিসেবে খ্যাত গুলিস্তানে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। এখানের প্রতিটি দোকানে রয়েছে ১০/১৫ জন করে বিক্রেতা। গানের সুরে তারা পণ্যের মূল্য হাঁকাচ্ছেন। এখানে দাম করার কোন সুয়োগ নেই। তারা যে দামে উচ্চ সুরে ডাকছেন সেই দামেই বিক্রি হচ্ছে। একজন শুধু টাকা নিচ্ছেন। এ অবস্থা গত কয়েকদিন ধরে। চলবে আরও কয়েকদিন।

এখানের বিক্রেতাদের চোখে নেই কোন ঘুম। তারা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। তারা বলছেন সারা বছর আমরা বসে থাকি। এ এক মাসই আমাদের বেচাকেনা। আর এ মাসে আয় দিয়েই আমাদের সারা বছর চলতে হয়। তাই রোজার পরে ঘুমানো যাবে।

শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজ ছুটি এবং চাকরিজীবীদের ব্যস্ততার পাশাপাশি একটু দেরীতেই বেতন-বোনাস পাওয়ায়, অনেকেই কেনাকাটা করতে এসেছেন শেষ সময়ে। সেই সাথে পিছিয়ে নেই শিশুরাও। বাবা-মায়ের হাত ধরে তারাও কিনছে পছন্দের পোশাক। পছন্দের পোশাকে একটু আলাদা করে নিজেকে ফুটিয়ে তোলার মাঝেই যেন ঈদের আনন্দ। তাইতো শেষ মূহুর্তেও কেনাকাটার এই মহোৎসব রাজধানীবাসীর।

নিউমার্কেটে বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, সকালে দোকান খুলে সারাদিন বিক্রি করে রাতে দোকানেই থাকছেন অনেকেই। তবে বেচাও হচ্ছে মাঝ রাত পর্যন্ত।

বিক্রেতারা মনে করেন, চাদরাত পর্যন্ত বিক্রির এই প্রবাহ থাকবে। যদিও যারা গ্রামে ঈদ করবেন তারা এই সপ্তাহের মাঝ থেকে বাড়ী ফিরতে শুরু করবেন। রাজধানীরবাসীর ব্যস্ততাও এখন শেষ মূহুর্তের কেনাকাটায়।

রাজধানীর কর্ণফুলি গার্ডেন সিটি, কনকর্ড, মৌচাক মার্কেট, আনারকলি, ফরচুন শপিং সেন্টারসহ বিভিন্ন শপিং কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায় এসব মার্কেটে দেশীয় পোশাকের পাশাপাশি বিদেশী পোশাকও পাওয়া যাচ্ছে।

বঙ্গবাজারে ফুটপাতের ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম বলেন, রোজার মাঝামাঝি সময় থেকে ক্রেতাদের ঢল নেমেছে। তবে গত বছরের তুলনায় কম। স্বল্প দামে ভালো পোশাক বিক্রি হওয়ায় ক্রেতারা দূর-দূরান্ত থেকে এখানে (গুলিস্তানে) আসছেন।

আজিজ সুপার মার্কেটের বিভিন্ন লেভেল ঘুরে দেখা যায়, এ শপিংমলে ক্রেতা সমাগম বেড়েছে। মার্কেটের বিক্রয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুধু রমজান মাসেই নয়; সারা বছরই এ মার্কেটে বেচাবিক্রি ভালো থাকে।

দেশীয় ফ্যাশন হাউসের নিজস্ব বাহারি ডিজাইনের পোশাকের প্রতি সব ক্রেতার আকর্ষণ আছে। এ মার্কেটের গেঞ্জি ও টি-শার্ট সারা দেশে একদরে বিক্রি হয়। এখান থেকে পাইকারি কিনে নিয়ে যান দেশের অন্যান্য এলাকার দোকানিরা।

শেষ সময়ে দেখা গেছে অনেক মার্কেটে পছন্দের পোশাক শেষ হয়ে গেছে। এজন্য ক্রেতারা পছন্দের পোশাক কিনতে এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে ছুটছেন। বিভিন্ন শপিং মলে শিশুদের দেশী আইটেম ৫০০ টাকা থেকে সাতশ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

বাচ্চাদের বিদেশী পোশাক ৫শ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। এছাড়া বাচ্চাদের পাঞ্জাবি পাওয়া যায় ৬শ টাকা থেকে সাড়ে ১২শ টাকায়। রয়েছে বিভিন্ন ডিজাইনের জুতা। পাওয়া যাচ্ছে ৩শ টাকা থেকে ১২শ টাকার মধ্যে।

মন্তব্য

মতামত দিন

অর্থনীতি পাতার আরো খবর

‘পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮০০০ টাকা’

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই মজুরি ডিসেম্বর থেকে কা . . . বিস্তারিত

বাংলাদেশে সবচেয়ে দ্রুত হারে বাড়ছে বিশ্বের ‘অতি ধনী’ মানুষ!

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: বিশ্বে ‘অতি ধনী’ মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ছে বাংলাদেশে। সম্প্রতি প্রকাশ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com