প্রবৃদ্ধি তথ্যের সাথে বাস্তবতার সংগতি নেই: বিশ্বব্যাংক

০৯ এপ্রিল,২০১৮

প্রবৃদ্ধির তথ্যের সাথে বাস্তবতার সংগতি নেই: বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: প্রবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের তথ্যের সাথে বাস্তবতার সংগতি নেই বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শের-ই বাংলানগরে ‘বাংলাদেশ ডেভলাপমেন্ট আপডেট’ ঘোষণা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ অফিসের লিড ইকনোমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন। এ সময় বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি চিমিয়াও ফানসহ অন্যান্য কর্মকতারা উপস্থিত ছিলেন।

জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধি অনেকটা অভ্যন্তরিণ বাজার নির্ভর। এ বছর যে হারে অভ্যন্তরিণ ভোগ বেড়েছে সে হারে রপ্তানি বা শিল্পের উৎপাদন বাড়েনি। রপ্তানি কিছুটা বাড়লেও তা তৈরি পোশাক রপ্তানি নির্ভর। তৈরি পোশাক বহির্ভূত রপ্তানির বিশেষ কোন উন্নতি হয়নি।

তবে কৃষিতে কিছুটা উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। সাম্প্রতিক সময়ে কৃষকরা ধানের দাম পাওয়ার কারণে কৃষকরা উৎপাদনে মনোযোগি হয়েছে। বিনিয়োগ বেড়েছে। এ কারণে ধান চাষের জমিও বেড়েছে। ফলে এবার কৃষির অবদান বাড়বে। কৃষিতে সঙ্কার কথাও তুলে ধরেন বিশ্বব্যাংকের লিড ইকনোমিষ্ট। তার মতে, কৃষি থেকে মানুষ অন্য খাতে চলে গেছে কর্মসংস্থানের সন্ধানে। কিন্তু অন্যখাতে কর্মসংস্থান সেই হারে বাড়েনি।

সরকারি হিসাবে শিল্পে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৭-১৮ বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শিল্পে প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ৯৭ শতাংশ। চলতি বছরে প্রবৃদ্ধি ১৩ দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা থেকে বলা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে এটা অবাস্তব। বেসরকারি বিনিয়োগ যেখানে বাড়েনি, উৎপাদন ক্ষমতা বাড়েনি। বরং আগের উৎপাদন ক্ষমতার উপর নির্ভর করে উৎপাদন ব্যবস্থা আবর্তিত হচ্ছে, সেখানে শিল্পের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির ভিত্তি কি-এমন প্রশ্ন রাখেন বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিনিধি।

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালক প্রবাসীদের আয়। গত বছর প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের ধস ছিল। এ বছর কিছুটা বেড়েছে। তবে এ বৃদ্ধি গত বছর যে হারে কমেছিল, এখন পর্যন্ত সে হারে বাড়েনি বলেও উল্লেখ করা হয়। তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগের ফলে প্রবাসী আয় বেড়েছে। বেক্সিটের প্রভাবও কেটে উঠছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি মূদ্রার বিনিময় হারও অনেকটা বাংলাদেশে পক্ষে এসেছে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আবারও অস্থিরতা তৈরি হলে বাংলাদেশে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও মনে করেন ড. জাহিদ হোসনে।

দারিদ্র দূরিকরণ সুষম হারে হচ্ছে না। দেশের উত্তর ও দক্ষিণের যে বৈষম্য আছে তা এখনো বিদ্যমান। উত্তরাঞ্চলে অতি দারিদ্র্যতা বেড়েছে। রাজশাহী ও খুলনা বিভাগেও দারিদ্র দূরিকরণে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হচ্ছে না। শহরাঞ্চলে দারিদ্রের সংখ্যাও বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয় বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে।

মন্তব্য

মতামত দিন

অর্থনীতি পাতার আরো খবর

গার্মেন্ট শ্রমিকদের দাবি ১২ হাজার, মালিকরা দিতে চান অর্ধেক

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিজেদের আগের দাবি থেকে সরে এসেছেন শ . . . বিস্তারিত

কাঁচা মরিচের চড়া দামে উদ্বিগ্ন ক্রেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: গেল ঈদুল ফিতরের সপ্তাহ খানেক পর বেড়েছিল কাঁচা মরিচের দাম। এখন পর্যন্ত তা অব্যাহত রয়েছে। নি . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com