টাকার মান কমছেই

০৫ ডিসেম্বর,২০১৭

টাকার মান কমছেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশের টাকার মান কমছেই।বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপের পরও মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা কমানো যাচ্ছে না।

আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে সোমবার প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮২ টাকা ৩০ পয়সা, যেখানে এক মাস আগে লাগত ৮০ টাকা ৮০ পয়সা, এক বছর আগে খরচ করতে হত ৭৮ টাকা ৭০ পয়সা।

সাধারণ ক্রেতা পর্যায়ে ৮২ টাকা ৩০ পয়সা দিয়েও ডলার মিলছে না। ব্যাংকগুলো এর চেয়ে দুই থেকে আড়াই টাকা করে বেশি নিচ্ছে। গতমাসের শেষ দিকে তা ৮৫ টাকাতেও উঠেছিল।

এই পরিস্থিতিতে ঘোষিত বিনিময় হার মেনে না চলায় ২৬টি ব্যাংককে কারণ দর্শাতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জবাব সন্তোষজনক না হলে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী জরিমানা করারও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।

বাজার স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিনই ডলার ছাড়ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবারও দেড় কোটি ডলার বাজারে ছাড়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৭১ কোটি ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তাতে লাভ খুব বেশি হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, গত এক মাসে ডলারের বিপরীতে ২ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে বাংলাদেশের টাকা; এক বছরে কমেছে সাড়ে ৪ শতাংশ।

ডলারের বিপরীতে টাকার এই দরপতনে রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয়ে কিছু সুবিধা পাওয়া গেলেও আমদানি খাতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে বাড়ছে পণ্যমূল্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের মতে, দেশে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সরঞ্জামের আমদানি বেড়েছে। আমদানি খরচ মেটাতে ডলারের চাহিদাও বেড়েছে, ফলে স্বাভাবিক কারণেই বাড়ছে ডলারের বিনিময় হার।
তবে ডলারের দরের এই ঊর্ধ্বগতি যে পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়,তা ধরা পড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে।

এদিকে, ডলার শক্তিশালী হওয়ায় আগে প্রবাস থেকে পাঠানো মুদ্রা ভাঙিয়ে যে টাকা পাওয়া যেত, ডলার শক্তিশালী হওয়ায় এখন তার চেয়ে বেশি পাওয়া যাচ্ছে। আবার পণ্য রপ্তানি করে পাওয়া ডলার ভাঙালেও বেশি টাকা মিলছে।

টাকা শক্তিশালী থাকা অবস্থায় রপ্তানিকারকদের তুলনায় আমদানিকারকরা বেশি লাভবান হচ্ছিলেন। কারণ টাকার মূল্যে হিসাব করলে সব পণ্যের আমদানি খরচ কম পড়ছিল।

চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে অর্থাৎ জুলাই-নভেম্বর সময়ে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে ৫৭৬ কোটি ৮৫ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

আর অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশের আয় হয়েছে ১১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ শতাংশের বেশি।

এই চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৩০ শতাংশের মত।

মন্তব্য

মতামত দিন

অর্থনীতি পাতার আরো খবর

বড়পুকুরিয়ায় কয়লা গায়েব নিয়ে তোলপাড়!

নিজস্ব প্রতিনিধিআরটিএনএনদিনাজপুর: দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় কয়লা গায়েবের ঘটনায় চলছে তোলপাড়। নথিপত্রের হিসাব অনুযায়ী, খনি থে . . . বিস্তারিত

‘ভল্টের স্বর্ণ হেরফের হয়নি, সম্পূর্ণ ভুল বোঝাবুঝি’

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা স্বর্ণ নিয়ে অনিয়মের কথা যেভাবে দুনিয়া কাঁপানোভাবে প্রকাশিত হয় . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com