শুল্ক কমলেও বেড়েই চলেছে চালের দাম

১১ সেপ্টেম্বর,২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: গত এক মাসের ব্যবধানে চালে আমদানি শুল্ক ২৬ শতাংশ কমিয়ে মাত্র ২ শতাংশ নির্ধারণ করলেও কমছে না চালের দাম। উল্টো চালের দাম আরো বাড়তি। প্রতি কেজি মোটা ও চিকন চালে মানভেদে এক-দুই টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। অথচ ব্যবসায়ীরা বলেছিলেন, শুল্ক কমলে চালের দাম কমবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শুল্ক কমানোর ফলে চালের আমদানি বেড়েছে, কিন্তু তা মূলত আতপ ও ভারতীয় মোটা চাল। সরু ও মাঝারি চাল আমদানি হচ্ছে কম। এর সুযোগ নিচ্ছে দেশের মিল মালিকেরা। এছাড়া চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখীর জন্য আমদানিকারকদের কারসাজি রয়েছে।

কোরবানীর ঈদের পনের দিন আগে রাজধানীর পাইকারি বাজারে মোটা চাল (ইরি/স্বর্ণা) ৩৯ টাকা হলেও বর্তমানে তা ৪১ টাকা, বিআর-আটাশ চালের কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৪৮ টাকা, মিনিকেট চাল কেজিতে ১ টাকা বেড়ে ৫৫ থেকে ৫৭ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মানভেদে নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়।

বর্তমানে রাজধানীর খুচরাবাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা, বিআর-আটাশ ৫০ থেকে ৫৪ টাকায়, মিনিকেট ৫৮ থেকে ৬০ ও নাজিরশাইল ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম রবিবার সংসদে বলেছেন, চালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই আছে। কোনো রকম বাড়তি দাম নেই।

তিনি বলেন, মায়ানমারের সাথে আমাদের ৩ লাখ টন চালের চুক্তি হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১ লাখ ২০ হাজার টন চাল পাবো। মায়ানমার থেকে চাল আসতে মাত্র তিন দিন সময় লাগে বলেও তিনি জানান।

বর্তমানে বিশ্ববাজারে চাউলের বুকিং রেটের সাথে সাথে পরিবহন ব্যয় ও কতিপয় ক্ষেত্রে চাঁদাবাজির কারণে প্রতি কেজি চালের ওপর পরিবহন ব্যয় দুই থেকে আড়াই টাকা পড়ছে। ঈদের পর থেকে ভারতের অংশে ৬/৭ দিন এবং বাংলাদেশে দৌলতিয়া ঘাট এলাকায় আরো ৫/৬ দিন ধরে যানজটের কারণে প্রতিটন চাউলের ভাড়া ১২শ থেকে ২২শ টাকায় উন্নীত হয়েছে। চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এলাকার কয়েকশ চাউল আমদানিকারকের মতে মূল্যের সাথে সাথে পরিবহন ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী মূল্যের জন্য অনেকটা দায়ী।

অন্যদিকে আমদানিকারকরা জানান, সরকার মূলত অনেক বেশি দামে চাল ক্রয় করার কারণে বেসরকারি পর্যায়ের আমদানিকারকদের বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। তাদেরকেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাছাড়া সরকার চাউলের ওপর শুল্ক কমানোর সংবাদে সাপ্লাইয়ারগণ বুকিং রেট বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে করে আমদানিকারকগণ শুল্ক কমানোর সুবিধা পাচ্ছে না। 

চাল আমদানিকারক আজমীর ট্রেডিংয়ের মালিক মো. ইদ্রিস মিয়া জানান, পাইকারি বাজারে কেজি প্রতি ১ টাকা বাড়লে খুচরা গ্রাম পর্যায়ে তা ৩/৪ টাকা বেড়ে যায়। আবার পাইকারি পর্যায়ে কমলে খুচরা পর্যায়ে কমতে সময় নেয়। এরই মধ্যে দেখা যায়, পাইকারিতে আবার বেড়ে যায়। ফলে খুচরা পর্যায়ে ভোক্তারা সুবিধা পায় না। বিশ্ববাজারে বুকিং রেট বৃদ্ধিসহ মায়ানমারের সাথে সমস্যা এবং সড়ক পথে বিশাল জটের কারণে চালের মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, বছরে চালের চাহিদা প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টন। এরমধ্যে বোরো মৌসুমে ১ কোটি ৯০ লাখ টন চাল উত্পাদিত হয়; কিন্তু এবার হাওর অঞ্চলে অকাল বন্যাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বোরোর উত্পাদন কম হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, গত বোরোতে চালের উত্পাদন ২০ লাখ টন কম হয়েছে। চালের আমদানি বাড়াতে গত ২০ জুন চাল আমদানিতে শুল্কহার ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করে; কিন্তু এরপরও বাজারে তেমন প্রভাব না পড়ায় গত ১৭ আগস্ট আমদানি শুল্ক আবার কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়।

মন্তব্য

মতামত দিন

অর্থনীতি পাতার আরো খবর

আবারও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে!

আবারও পেঁয়াজের দাম বাড়লনিজস্ব প্রতিবেদকআটিএনএনঢাকা: ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার লাসালগাঁওয়ে ৫ দিনে পেঁয়াজের দাম ২৫ শ . . . বিস্তারিত

আমাদের দেশে কেন আইনস্টাইন হবে না, প্রশ্ন জ্বালানি উপদেষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: দেশের নতুন প্রজন্মের মাঝে মেধার বিকাশ ঘটতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com