আবগারি শুল্ক নিয়ে সরকারের উচ্চ মহলে চিন্তা ভাবনা চলছে: অর্থ প্রতিমন্ত্রী

১৩ জুন,২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ব্যাংক আমানতের ওপর প্রস্তাবিত আবগারি শুল্ক নিয়ে সরকারের উচ্চ মহলে চিন্তা ভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।

মঙ্গলবার বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

আমাদের প্রধান নেতৃত্ব এবং অর্থমন্ত্রী বোবা-কালা নন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে অনেকে কথা বলেছেন। সংসদ সদস্যদের কথা শুনে এবং বাইরে জনগণের কথার প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে আমরা একটা গ্রহণযোগ্য সমাধানে আসতে পারব।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আবগারি শুল্ক ১৯৪৭ সাল থেকে​ ছিল। আগে কম ছিল, বাড়তে বাড়তে এখন ৫শ’ টাকা ছিল। বাজেটে সেটা আরো বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আগে এ শুল্ক এক হাজার টাকার একাউন্টেও ছিল, এক কোটি টাকার একাউন্ট​ও ছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাজেট নিয়ে ভীতি নেই। আলোচনা-সমালোচনা আছে। সদস্যরা নানাভাবে সংসদে বাজেটের চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। নানা প্রস্তাব দিচ্ছেন। আমি মন্ত্রণালয়ের কর্মী হিসেবে কথা দিচ্ছি সব গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। আমার বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাজেট যখন পাস হবে তখন প্রত্যেকটি বিষয় পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে।’

১৫ শতাংশ ভ্যাটের বিষয়ে অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভ্যাট নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। সবার প্রতি সম্মান রেখে কয়েকটি কথা বলতে চাই। ভ্যাট সারা বিশ্বে এই মুহূর্তে ১৬৯টি দেশে প্রচলিত আছে। সারা বিশ্বে এটা স্বীকৃত, বৈজ্ঞানিক। এটা সবাই গ্রহণ করেছেন। সারা বিশ্বে ভ্যাটের গড় ১৪ দশমিক শূন্য ৮। আমরা সেখানে ১৫–তে আছি। এটা নিয়ে আলোচনা চলতে পারে। কিন্তু ভ্যাটের ন্যায্যতা সাম্যতা নিয়ে প্রশ্ন নেই।’

বাজেটের ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে ক​রি এই ঘাটতিকে ব্যবহার করে আমরা উন্নয়নে মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিতে পারব।’

এম এ মান্নান বলেন, ‘নিম্ন আয়ের মানুষ, ৬০-৭০ ভাগ। তাদের সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, তেল, লুঙ্গি, গামছা কোনো কিছু ভ্যাটের আওতায় নেই। বাসের ভাড়া, ট্রেনের ইকোনমি ক্লাস, লঞ্চের ভাড়া ভ্যাটের আওতায় নেই। তাহলে আমরা কীভাবে অকল্যাণমূলক কাজ করলাম? বৃহদাংশ মানুষের কল্যাণে এটা আমরা করলাম।’

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সাফাই গেয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই ব্যাংকগুলোর মালিক জনগণ। যে টাকা আমরা এদেরকে দিচ্ছি, সেটা জনগণের টাকা আমরা স্বীকার করি। একজন গৃহস্থ যখন তার কোনো সদস্য একটা সমস্যায় পড়ে রোগাক্রান্ত হন, তখন তার পুঁজি দিয়ে খরচ করে। ঠিক সেভাবে আমরা আমাদের ব্যাংকগুলোকে সুযোগ করে দিচ্ছি। আমরা ব্যাংকগুলোর আইন পরিবর্তন করেছি। করপোরেট আইন করেছি। বোর্ড পুনর্গঠন করেছি। বোর্ডে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিজ্ঞ আমলাদের নিয়ে এসেছি। ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক খাত নিয়ে কিছু প্রশ্ন আছে জনগণের। ব্যাংকিং খাত নিয়ে বলা হয় যে, এখানে বিশাল বিশাল অপচয় হয়েছে। ডাকাতি পর্যন্ত বলা হয়। তিনি ব্যাংকগুলোর পক্ষে বলেন, ‘এই ব্যাংকগুলো আমাদের পূর্বপুরুষেরা জনগণের কল্যাণের জন্য করেছিল। গ্রামাঞ্চলে যখন কোনো বাইরের ব্যাংক যেতে চায় না, তখন গ্রামেগঞ্জে, হাটেবাজারে ছোট অনুদানগুলো তারা বিতরণ করছে।’

মন্তব্য

মতামত দিন

অর্থনীতি পাতার আরো খবর

১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি ফের চালু হচ্ছে মার্চে

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: আগামী মাস থেকে অতি দরিদ্র ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা কেজি দরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল দেয়া হবে। বৃহস . . . বিস্তারিত

মার্চ থেকেই আবার চালু হচ্ছে ‘খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি’

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আসছে মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে আবারও ৫০ লাখ হতদরিদ্র . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com