ভবন ভাঙ্গতে তিনবছর সময় চেয়েছে বিজিএমইএ

০৯ মার্চ,২০১৭

নিউজ ডেস্ক
আরটিএনএন
ঢাকা: পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ জানিয়েছে, তাদের যে অফিস ভবনটি আদালত ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে, সেটি ভাঙ্গার জন্য আদালতের কাছে তারা আরো তিন বছর সময় চাইছে।

এ জন্য একটি পিটিশন এর মধ্যে জমা দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

ঢাকার হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় একটি জলাশয়ের মধ্যে যথাযথ অনুমতি ছাড়াই ১৬ তলা এই ভবনটি নির্মাণ করেছিল বিজিএমইএ। ভবনটির মোট আয়তন ২ লাখ ৬৬ হাজার বর্গফুট। এখানে বিজিএমইএর অফিস, সভাকক্ষ ছাড়াও সদস্যদের জন্য অ্যাপারেল ক্লাব রয়েছে। অন্যান্য ফ্লোরে বেশ কয়েকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে।

আদালতে আইনি লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার পর বিজিএমইএকে আজকের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে, কখন তারা ঢাকার বিজিএমইএ ভবন থেকে তাদের অফিস সরিয়ে নেবে।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আদালত যে রায় দিয়েছেন, আমরা মেনে নিয়েছি। আদালত জানতে চাইছেন, এখান থেকে সরে যেতে আমাদের কতদিন লাগবে। সেখানে আমরা তিনবছর সময় চেয়ে পিটিশন করেছি। আমরা এখানে কিছু জরুরি কাজ করি। এ জন্য আমাদের কিছু সময়ের প্রয়োজন। এখন মহামান্য আদালত যেটা বলবেন, আমরা সেটাই করবো।’

কিন্তু দপ্তর সরাতে কেন এতদিন সময় লাগবে? জিজ্ঞেস করা হলে রহমান বলেন, ‘এটা সাময়িকভাবে সরিয়ে নেয়ার মতো বিষয় না। আমাদের আরেকটা স্থায়ী ভবন তৈরি করে সেখানে স্থায়ীভাবে সরে যেতে হবে। সেজন্যই এই সময় দরকার। আমাদের অফিসটা একেবারে ছোট না, তিনশোর মতো কর্মী আছে। এখানে আমরা ইউডি, ইউপি ও সিও ইস্যু করি। সব সময়েই আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হয়।’

কিন্তু এত লম্বা সময় চাওয়া পুরো বিষয়টি দীর্ঘায়িত করার মতো একটি ব্যাপার হিসাবে অনেকে দেখতে পারেন।

কিন্তু বিজিএমইএ সভাপতি বলছেন, তাদের এ রকম কোনো উদ্দেশ্য নেই। আদালতের রায় তারা মেনে নিয়েছেন। এর মধ্যেই তারা জমি দেখেছেন। কিন্তু সেখানে স্থায়ীভাবে চলে যেতে তাদের সময় দরকার।

তবে ভবন ভাঙ্গার খরচ দিতে আদালত যে আদেশ দিয়েছেন, সে বিষয়টি তারা কি করবেন? জানতে চাওয়া হলে রহমান বলেন, ‘এটা যেহেতু একটি সমিতি, আমাদের বসতে হবে, আলাপ করতে হবে। তারপরে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারবো। আদালতের সঙ্গে, সরকারের সঙ্গে কথা বলতে হবে।’

বিজিএমইএ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংগঠন। কিন্তু রাজউকের অনুমোদন ছাড়া একটি জলাশয়ের মধ্যে ভবন তৈরি করে এখন যে সরে যেতে হচ্ছে। এটা কি একটি ভুল ছিল বলে তারা মনে করেন?

বিজিএমইএ সভাপতি বলছেন, ‘না, আমি কোনভাবেই বলবো না যে আমরা ভুল করেছি। আমরা পাঁচ কোটি ১৭ লাখ টাকা দিয়ে আমরা জমি বরাদ্দ নিয়েছিলাম। তার উপরেই ভবন নির্মাণ করেছি। আমাদের সব কাগজপত্র আছে। তবে আদালতের বিষয় হওয়ায় এই বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না।’

২০১১ সালের ৩ এপ্রিল জমির স্বত্ব না থাকা ও জলাধার আইন লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ করায় বিজিএমইএ ভবন ভাঙ্গার রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে আপিল খারিজ হয়ে যায়। রিভিউ আবেদনও ৫ মার্চ খারিজ হয়ে যায়।

সূত্র: বিবিসি

মন্তব্য

মতামত দিন

অর্থনীতি পাতার আরো খবর

‘খাদ্যের উৎপাদন থমকে গেছে, ঘাটতি মেটাতে আমদানি করছে সরকার’

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: বাংলাদেশে সরকারের খাদ্য মজুদ কম পক্ষে ১০ লক্ষ মেট্রিক টন থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে সেটা কমে সাড় . . . বিস্তারিত

অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন মার্কিন অর্থনীতিবিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনস্টকহোম: ২০১৭ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন মার্কিন অর্থনীতিবিদ রিচার্ড থেয়লার। রয়েল সুইডিশ একাডে . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com