চুরির বাকি অর্থ আদায়ের পরই তদন্ত প্রতিবেদন: অর্থমন্ত্রী

১৬ জানুয়ারি,২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

আরটিএনএন

ঢাকা: চুরি হওয়া রিজার্ভের অবশিষ্ট টাকার সম্পূর্ণ সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।


ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি এবং ব্রিটিশ মেয়রদের একটি প্রতিনিধি দল সোমবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এরপর অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন।


তিনি বলেন, কিছু টাকা ফেরত পেয়েছি বাকি টাকার বিষয়ে ফিলিপাইনের পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত পাওয়ার পরই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।


ড. ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশের বিষয়ে এর আগে তিনি বেশ কয়েকবার সময় বেধে দিয়েছিলেন। এর মাঝে ফিলিপিন্স কর্তৃপক্ষও প্রতিবেদনটি চেয়ে পাঠায়। কিন্তু বিষয়টি গোপনীয় বলে তা ফিলিপিন্স কর্তৃপক্ষকে দিতে অস্বীকার করে সরকার।


রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের সময় হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘হয় নাই। ফিলিপিন্সের সঙ্গে কিছু বিষয় সমাধান হলে প্রতিবেদন প্রকাশ করবো।’


এদিকে বাংলাদেশের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপিন্সের যে ব্যাংক থেকে জালিয়াতদের হাতে গেছে সেই রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংক (আরসিবিসি) বলছে, এ ঘটনায় তাদের কোনো দায় নেই।


গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে (নিউইয়র্ক ফেড) রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৮০০ কোটি টাকা) চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে দুই কোটি ডলার চলে যায় শ্রীলংকায় আর বাকি ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার যায় ফিলিপাইনে।


শ্রীলংকা থেকে দুই কোটি ডলার ফেরত পাওয়া গেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। চুরি হওয়া ১ কোটি ৫২ লাখ ডলার ফিলিপাইন থেকে ফেরত পাওয়ায় বাকি রয়েছে আরও ৬ কোটি ৫৮ লাখ ডলার।


সাম্প্রতিক কালের অন্যতম বৃহৎ সাইবার চুরির এই ঘটনা বাংলাদেশের মানুষ জানতে পারে ঘটনার এক মাস পর, ফিলিপিন্সের একটি পত্রিকার খবরের মাধ্যমে। বিষয়টি চেপে রাখায় সমালোচনার মুখে গভর্নর ড. আতিউর রহমান পদ ছাড়তে বাধ্য হন। পরিবর্তন আসে ব্যাংকটির উচ্চ পর্যায়ে।


এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনকে (আরসিবিসি) ২ কোটি ১০ লাখ ডলার জরিমানা করে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চুরির এ ঘটনায় আরবিসির ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফিলিপাইনের অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং কাউন্সিল মামলা করেছে।


রিজার্ভ চুরির বিষয়ে ফিলিপিন্সের সিনেট কমিটির তদন্তের মাধ্যমে কিম অং নামের এক ক্যাসিনো ব্যবসায়ী দেড় কোটি ডলার সে দেশের সরকারের হাতে ফেরত দেন। আদালতের প্রক্রিয়া শেষে ওই অর্থ বাংলাদেশের হাতে আসে।


গত ২৯ নভেম্বর এক বিবৃতিতে আরসিবিসি জানিয়েছে, রিজার্ভের চুরি যাওয়া বাকি অর্থ তারা ফেরত দেবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের অবহেলার কারণেই রিজার্ভের অর্থ চুরি হয়েছে বলে দাবি করে ব্যাংকটি।


এ ঘটনায় গত ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত ২২ মার্চ এ কমিটি তাদের কাজ শুরু করে এবং ৩০ মে অর্থমন্ত্রীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করে।


বাকি অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ফিলিপিন্স সফর করে এলেও বাকি প্রায় সাড়ে ৬ কোটি ডলার ফেরত পাওয়ার বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় রিজাল ব্যাংককে ২০ কোটি ডলার জরিমানা করেছে ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করলেও বাংলাদেশের পাওনা বাকি অর্থ ফেরতের বিষয়ে তাদের কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে অর্থমন্ত্রী বিশ্বাস করেন বাকি অর্থও ফেরত পাওয়া যাবে। হয়তো কিছুটা সময় লাগবে।

মন্তব্য

মতামত দিন

অর্থনীতি পাতার আরো খবর

রাষ্ট্রীয় মদদেই রিজার্ভ চুরি হয়েছে: এফবিআই

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা রাষ্ট্রীয় মদদেই হয়েছে বলে জানিয়েছেন এফবিআই’র এক . . . বিস্তারিত

বাংলাদেশ ব্যাংকে অাগুন নিছক দুর্ঘটনা: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক আরটিএনএন ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকে আগুন লাগার ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদু . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com