৪১ সেকেন্ডের ভাইভায় প্রমোশন, কোন পথে ইসলামী ব্যাংক?

১২ জানুয়ারি,২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

আরটিএনএন

ঢাকা: ইসলামী ব্যাংক এতোদিন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরিবর্তিত নতুন কর্তারা বলেছেন ব্যাংক নীতিতে পরিবর্তন আসবে না। শরিয়া ভিত্তিতেই চলবে।


সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বা চাকরিচ্যুত করা হবে না । কর্মকর্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। অন্য ধর্মের লোকদেরও চাকরি দেওয়া হবে। এসব আশা জাগানো বক্তব্য দায়িত্ব নেওয়ার পরই বলেছেন, নতুন চেয়ারম্যান, এমডি।


কিন্তু বাস্তবে কী ঘটছে? এই বক্তব্যের প্রতিফলন কাজের ক্ষেত্রে কতটা থাকছে? আশা, আশঙ্কায় পরিণত হচ্ছে কিনা? না হয়নি। ‘কোনো নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করেই নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড।


সোমবার পর্যন্ত ২৬ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়ে বিভিন্ন শাখায় পোস্টিংও দেওয়া হয়েছে। দেশের একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর তালিকা অনুযায়ী আরো ২৫০জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।


দায়িত্ব নিয়ে নতুন চেয়ারম্যান এমডি যা বলেছেন, এই দু’টি ঘটনায় তার প্রতিফলন আছে? এক কথায় উত্তর দেওয়া যায় ‘নেই’। তার মানে কথা ও কাজের মিল নেই বা থাকছে না।


ব্যাংকের নতুন নেতৃত্ব, নতুন নিয়োগ দেবে- এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তাদের মতো করে ব্যাংক পরিচালনার জন্য, নিজেদের পছন্দের লোক অবশ্যই প্রয়োজন আছে। তাই বলে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়মমাফিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে না? ৫৫ মিনিটে ৭৫ জনের ভাইভা নেবে?


এমন তো না যে, ইসলামী ব্যাংক কর্মীশূন্য হয়ে পড়েছে, কাজের লোক পাওয়া যাচ্ছে না। তাই পরীক্ষা নেওয়ার সময় নেই, ভাইভা নেওয়ার সময় নেই। তড়িঘড়ি করে পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ দিতে হবে। পর্যাপ্ত ও যোগ্য লোকবল ছিল বলেই তো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের এক নম্বর ব্যাংক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে।


এখন যাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তারা যদি যোগ্য হতেন, তবে পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ত না। নিয়োগ প্রক্রিয়া দেখে সন্দেহ করার যথেষ্ট যৌক্তিকতা আছে যে, অযোগ্য-অদক্ষ দলীয় লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। মালিকানায় আসা বৃহৎ ব্যবসায়ী গ্রুপের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা শুরু করেছেন নতুন চেয়ারম্যান, এমডি।


পদোন্নতি এক বছর ধরে আটকে আছে, এই বিবেচনায় ৪১ সেকেন্ডে একজনের ভাইভা নিয়ে পদোন্নতি দিতে হবে? পদোন্নতি দেওয়া তো এত জরুরি কাজ হতে পারে না।

আগে এই পদ্ধতির প্রতিষ্ঠানে কাজও করেননি। নতুন প্রতিষ্ঠান, নতুন পদ্ধতি, সবকিছু বোঝার জন্যও তো সময় প্রয়োজন। সে রকম কোনও সময় না নিয়ে এমন তড়িঘড়ি নিয়োগ, পদোন্নতি আশঙ্কা তৈরি করছে ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নিয়ে।


বেসরকারি ব্যাংক সরকার পরিচালনা করে না। ইসলামী ব্যাংকে যা ঘটছে, সরকার বলতেই পারে যে, তার দায় নেই। বলতেই পারে যে, এমডি, চেয়ারম্যান, পরিচালনা পরিষদ করছে সবকিছু। বাস্তবতা হলো, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘটছে সবকিছু। সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী গ্রুপ যে সিংহভাগ মালিকানায় চলে এসেছে, তাও এমনি এমনি ঘটেনি।


ফলে প্রশ্নটি খুব বড় করে সামনে আসছে যে, সরকার কি সৎ উদ্দেশ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধী থেকে ‘মুক্ত’ করল ইসলামী ব্যাংক, না কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে দিয়ে ‘দখল’ করানো হলো? ‘দখল করানো হয়নি’- ওপরে উল্লিখিত দু’টি ঘটনা তা বলে না।


জামায়াত ‘মুক্ত করা’ আর ঘনিষ্ঠ লোকজন দিয়ে ‘দখল’ করা- দু’টি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। প্রত্যাশা ছিল ‘মুক্ত করা’র পথে হাঁটবে সরকার। বাস্তবে হাঁটছে ‘দখল’ করার পথে। যা আগামীতে প্রতিষ্ঠান দখলের প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত বহন করছে।


ইসলামী ব্যাংকের আগের নেতৃত্ব কখনো দিতে বাধ্য হয়েছে, কখনো ইচ্ছে করে হাতে রাখার জন্যে সংকট থেকে বাঁচার জন্য এসব ঋণ দিয়েছে। এসব ঋণের অনেকগুলোই ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তাও হয়তো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব ছিল, বিপুল লাভ থেকে। পরিবর্তিত নেতৃত্বের এই সময়ে, নিয়োগ-পদোন্নতি স্টাইলে যদি ‘ঋণ’দেওয়া শুরু করা হয়, তবে পরিণতি কী হবে? সোনালী, জনতা, রূপালী, অগ্রণী বা বেসিক ব্যাংকে পরিণত হবে ইসলামী ব্যাংক?

মন্তব্য

মতামত দিন

অর্থনীতি পাতার আরো খবর

এফবিসিসিআই নির্বাচন ১৪ মে অনুষ্ঠিত হবে: আপিল বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ২০১৭-১৯ মেয়াদের নির্বাচন আগামী ১৪ মে অনুষ্ঠিত হতে আইনগত . . . বিস্তারিত

রাষ্ট্রীয় মদদেই রিজার্ভ চুরি হয়েছে: এফবিআই

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা রাষ্ট্রীয় মদদেই হয়েছে বলে জানিয়েছেন এফবিআই’র এক . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com