ইসলামী ব্যাংক

নামসহ আমূল পরিবর্তনে এক গুচ্ছ পরিকল্পনা নতুন পর্ষদের

০৭ জানুয়ারি,২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

আরটিএনএন

ঢাকা: ইসলামী ব্যাংকের নামসহ আমূল পরিবর্তনে এক গুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে নতুন পরিচালনা পর্ষদ। এর ফলে ব্যাংকটির ইতিহাসে কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসছে। গত বৃহস্পতিবার পরিচালনা পর্ষদের সভায় তিনটি বড় পদে পরিবর্তন আনার পরই এই নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করা হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ব্যাংকের পর্ষদ ও নির্বাহী পর্যায়ে আরো পরিবর্তন আসছে। প্রধান কার্যালয়সহ শাখা পর্যায়েও এ পরিবর্তনের ঢেউ লাগবে। ব্যাংক পরিচালনার নীতিমালায়ও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এ সবের পাশাপাশি ব্যাংকের নামেও আংশিক পরিবর্তন আনা হতে পারে। এসব বিষয়ে ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পরিষদ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।


গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডিসহ পরিচালনা পর্ষদ ও পর্ষদ নিয়ন্ত্রিত কমিটিগুলোয় বড় পরিবর্তন আনা হয়। অচিরেই তারা ব্যাংক পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন। এরপর থেকে শুরু হবে পরবর্তী পরিবর্তনের পালা।


ব্যাংকের এ পরিবর্তন সম্পর্কে নতুন চেয়ারম্যান আরাস্তু খান বলেন, ‘আমি এখনো দায়িত্ব নিইনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছুদিন ব্যাংকের সার্বিক বিষয় দেখতে হবে। তারপরই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করা হবে। তিনি বলেন, আমি এর আগেও অনেক ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। এ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইসলামী ব্যাংককে আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। এ কাজে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আমি সবার সহযোগিতা চাই।’


আরাস্তু খান আরো বলেন, ‘বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংক এটি। এর মাধ্যমে যাতে দেশের সেবা করা যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’


ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ পাওয়া নতুন এমডি আবদুল হামিদ মিঞা বলেন, ‘এখনো আমি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমোদনের কাগজ পাইনি। আর কাজে যোগদান করার আগে পর্যন্ত কিছুই বলা যাবে না। আমি একজন ব্যাংকার। সরকারি খাতের বড় বড় ব্যাংকে কাজ করেছি। ফলে বড় ব্যাংক পরিচালনার অভিজ্ঞতা আমার আছে। ইসলামী ব্যাংকে কাজের ধরন একটু ভিন্ন। সেগুলোও আমার জানা আছে। আমি ব্যাংকটিকে প্রফেশনালভাবে পরিচালনা করে আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব।’


সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়,  বর্তমান সরকার  ক্ষমতাসীন হওয়ার পরই ইসলামী ব্যাংকের ওপর নজর দেয়। পরে ব্যাংকটি সংস্কারের ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে প্রথমে ব্যাংকের পর্ষদে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরইমধ্যে সরকার সমর্থক লোকদের ব্যাংকের পর্ষদে বসানো হয়েছে। ব্যাংকের এমডি পদে এই প্রথম পরিবর্তন করে একজন সাধারণ ব্যাংকারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


সূত্রগুলো আরো জানায়, বর্তমানে ব্যাংকটির নাম হচ্ছে ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’। এই নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড’ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশের একটি ব্যাংক, অথচ বাংলাদেশ নামটি রয়েছে শেষ অংশে, এটি হতে পারে না। ব্যাংকটি যে বাংলাদেশের এটি বোঝাতে দেশের নামটিই আগে হওয়া উচিত। সে কারণেই নাম পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা হচ্ছে। তবে নাম পরিবর্তন হলেও ব্যাংকটি পরিচালিত হবে ইসলামী শরিয়াভিত্তিতে। এর নীতিনির্ধারণ হবে দেশের স্বার্থে ও উদ্যোক্তাদের স্বার্থে। গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়। এ পরিবর্তনের ফলে ব্যাংকটির আরো উন্নয়ন ঘটবে। নেতিবাচক কিছুই হবে না।


সূত্রটি জানায়, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কাঠামোয়ও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। শুরুতে এর বেশিরভাগ শেয়ার ছিল বিদেশিদের হাতে। বর্তমানে বিদেশিদের হাতে শেয়ারের পরিমাণ কমে গেছে। অনেক বিদেশি তাদের শেয়ার বিক্রি করে চলে গেছেন। দেশি পরিচালকদের মধ্যে জামায়াত ঘরানার লোকেরাও শেয়ার ছেড়ে দিচ্ছেন।


গত ২১ জুলাই হজরত শাহজালাল ইন্ডাস্ট্রি সিটি লি. ইসলামী ব্যাংক থেকে তাদের পরিচালক পদে নমিনি প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা বলে মোট ৩ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৫টি শেয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বিক্রির কথা বলে ঘোষণা দেয়। গত ৮ আগস্ট তাদের ৩ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৫টি শেয়ার বিক্রি হয়। এখন আর তাদের পক্ষে কোনো পরিচালক নেই।


দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ২০১৫ সালের ১০ জুলাই তাদের ৬৭ লাখ ৩ হাজার ৫৪০টি শেয়ারের মধ্যে ৩৭ লাখ ৩ হাজার ৫৪০টি শেয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বিক্রির ঘোষণা দেয়। জুলাইয়ের মধ্যে তারা তাদের ৩৭ লাখ ৩ হাজার ৫৪০টি শেয়ার বিক্রি হয়। এরপর ৭ সেপ্টেম্বর বাকি ৩০ লাখ শেয়ারের মধ্যে ২৯ লাখ শেয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বিক্রির ঘোষণা দেয়। ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তারা ২৯ লাখ শেয়ার বিক্রি করে। এর কিছুদিন পর ১০ অক্টোবর তাদের বাকি ১ লাখ শেয়ার ২৯ অক্টোবরের মধ্যে বিক্রি করার কথা বলা হয়। আর ২০ অক্টোবরের মধ্যে তাদের ১ লাখ শেয়ার বিক্রি হয়ে যায়। ফলে ওই দুই প্রতিষ্ঠানের কোনো শেয়ার আর ব্যাংকে নেই।


ব্যাংকের স্পন্সর ও পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা আনোয়ার ৩ লাখ ৮০ হাজার শেয়ার ক্রয় করে দিয়েছেন। তিনি ব্যাংকটির সদ্য পদত্যাগী চেয়ারম্যান।


ব্যাংকের স্পন্সর ও পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. দাউদ খান ৮০ হাজার শেয়ার ক্রয় করে দিয়েছেন।


পর্যবেক্ষকরা বলছেন, হঠাৎ বড় ধরনের পরিবর্তনে ইসলামী ব্যাংকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কেননা, এই ব্যাংকটি বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংক। দীর্ঘদিন থেকে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দ্বারাই পরিচালিত হয়ে আসছিল। হঠাৎ করে তারা সরে দাঁড়ানোয় নতুনদের নানামূখী উদ্যোগে ব্যাংকটিতে বড় ধরনের হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে নতুনদের খুবই সতর্কতার সঙ্গে এগুতে হবে।

মন্তব্য

মতামত দিন

অর্থনীতি পাতার আরো খবর

সোনামসজিদ স্থলবন্দর ৮ ও বেনাপোলে ৪ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: পবিত্র ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে টানা ৮দিন ও বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে . . . বিস্তারিত

রিজার্ভে ৩৩ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: বছরের শুরুতেই রেমিট্যান্স খরা। বছরের প্রথম প্রান্তিক শেষে এ খরা রূপ নেয় মহামারিতে। গত ৪ বছ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com