বর্তমান সংসদের নৈতিক বৈধতা নেই, তৃতীয়বার গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে তারা: মির্জা ফখরুল

০২ ফেব্রুয়ারি,২০১৯

ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: বর্তমান সংসদের নৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সংসদের নৈতিক বৈধতা নেই। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের মাধ্যমে তৃতীয়বারের মত গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে আওয়ামী লীগ।

শনিবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ সব কথা বলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত প্রার্থীরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিবেন না।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে ফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ নিশ্চয়তা দেন। ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে এ বৈঠক হয়।

এছাড়া, ৩০ ডিসেম্বর প্রহসনের নির্বাচন অভিযোগ করে ৬ ফেব্রুয়ারি একঘণ্টা কালো ব্যাজ ধারণ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোটার ও প্রার্থীদের গণশুনানির কর্মসূচি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল গণফোরামের দুই নির্বাচিত সংসদ সদস্যের শপথ নেয়া না নেয়ার আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে শপথ না নেয়ার বিষয়ে নিশ্চয়তা দিলেন মির্জা ফখরুল।

প্রধানমন্ত্রীর চা-চক্রে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যাবে কি না?- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ভোট ডাকাতির পর আয়োজিত চা চক্রে যাওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি না।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠিতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ইকবাল সিদ্দিকী, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, জগলুল হায়দার আফ্রিক, রেজা কিবরিয়া প্রমুখ।

ড. কামাল হোসেন দেশে ফেরার পর এটাই ঐক্যফ্রন্টের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

এর আগে, বুধবার গণফোরামের নির্বাচিত দুই প্রার্থীর সংসদে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে কোনো বক্তব্য না রাখলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ‘শতভাগ’ ঐক্যবদ্ধ বলে দাবি করেছেন গণফোরামের সভাপতি ও জোটের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮ আসনে নিরঙ্কুশ জয় পায়। আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পায় ৮টি আসন। নির্বাচনে ভোট ডাকাতির ও ব্যালট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত প্রার্থীরা শপথগ্রহণ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্তে রয়েছেন।

ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থীরা শপথ নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেন প্রথমে শপথের পক্ষে সায় দিলেও ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

তবে ঐক্যফ্রন্টের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে নারাজ ছিলেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত গণফোরামের দুই প্রার্থী। ঢাকার একটি পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমনটি জানিয়েছেন নির্বাচিত প্রার্থী সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান।

তবে দুই প্রার্থীর এই সাক্ষাৎকার গণমাধ্যমে আসার পরপরই সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত এমপিদের শপথ নেয়ার খবরকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও ফ্রন্টের প্রধান সমন্বয়ক মোস্তফা মোহসীন মন্টু।

গত সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, একটি অবাধ সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন তথা জনগণের ভোটের অধিকার আদায়ের লক্ষে জাতীয় ঐক্য গঠিত হয়েছিল। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য সুদৃঢ় ও অটুট আছে।

তিনি বলেন, গণফোরাম তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো কোনো নির্বাচিত সংসদ সদস্য সংসদে যোগদান করছে-এ ধরনের সংবাদ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। যা অসত্য ও ভিত্তিহীন।

গণফোরামের এ নেতা বলেন, সংসদে যোগ দেয়ার বিষয়ে গণফোরামে কোনো সিদ্ধান্ত হয় নাই। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো সংসদ সদস্য শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। পত্র-পত্রিকায় বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য না দেয়ার জন্য তিনি সকলকে অনুরোধ জানান।

মন্তব্য

মতামত দিন

রাজনীতি পাতার আরো খবর

২২ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট অডিটরিয়ামে গণশুনানি করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) সুপ্রিম কোর্ট অডিটরিয়ামে গণশুনানি কর্মসূচি পালন করবে জাতীয় . . . বিস্তারিত

জামায়াতে ইসলামীর নতুন সংগঠন হলে সেখানে ‘ইসলাম’ শব্দ থাকবে?

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: বাংলাদেশে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের পদ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com