বঙ্গভবনে শপথ নিলেন প্রধানমন্ত্রী ও নতুন মন্ত্রিপরিষদ

০৭ জানুয়ারি,২০১৯

বঙ্গভবনে শপথ নিলেন প্রধানমন্ত্রী ও নতুন মন্ত্রিপরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির বাসভবন বঙ্গভবনে শপথ বাক্য পাঠ করলেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও নতুন মন্ত্রিপরিষদের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীগণ।

সোমবার বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তাদেরকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

এর আগে, নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথের মধ্য দিয়ে তাদের অভিষেকের সব প্রস্তুতি নিয়েছিল বঙ্গভবন।

এ শপথের মধ্যে দিয়েই টানা তৃতীয়বারের মত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিলো আওয়ামী লীগ।

আর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা চতুর্থ মেয়াদে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিয়ে গড়লেন ইতিহাস।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে সর্বপ্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শপথ পড়ান। তারপর ক্রমান্বয়ে মন্ত্রীগণ, প্রতিমন্ত্রীগণ ও উপমন্ত্রীগণ রাষ্ট্রপতির সাথে শপথ পড়েন।

শপথ নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত তাঁর বোন শেখ রেহানা, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেত্রী সাজেদা চৌধুরী ও কয়েকজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

এর আগে রোববার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ৪৭ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভার নাম এবং দফতন বণ্টনের কথা জানানো হয়।

এবারই প্রথমবার শপথের আগে মন্ত্রীদের তালিকা ও দফতর বণ্টনের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নতুন ও পুরাতনের সমন্বয়ে গঠিত শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় এবার ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন উপমন্ত্রী আছেন।

বিদায়ী সরকারে থাকা ৩৬ জনের নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি। আর নতুন সরকারের প্রথমবারের মতো সরকারের দায়িত্ব পালন করছেন ৩১ জন।

এবার মহাজোটের শরিক দলের কোনো নেতাকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি। শুধু আওয়ামী লীগ নেতারাই থাকছেন মন্ত্রিসভায়।

দরবার হলে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ মঞ্চ সাজানো হয়েছিল ফুল দিয়ে।

একসঙ্গে শপথ নেয়ার সুবিধার জন্য বসানো হয়েছিল মাইক স্ট্যান্ড। শপথ অনুষ্ঠান শেষে বঙ্গভবনের মাঠে ছিল আপ্যায়নের ব্যবস্থা।

পদস্থ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, কূটনীতিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ অতিথিদের দাওয়াতপত্র দেয়া হয়েছিল।

মন্ত্রীরা ও তাঁদের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় হচ্ছে—মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আ ক ম মোজাম্মেল হক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ওবায়দুল কাদের, কৃষি মন্ত্রণালয় মো. আবদুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আসাদুজ্জামান খাঁন, তথ্য মন্ত্রণালয় ড. হাছান মাহমুদ, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় আনিসুল হক, অর্থ মন্ত্রণালয় আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় মো. তাজুল ইসলাম, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ডা. দীপু মনি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কে আবদুল মোমেন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এম এ মান্নান, শিল্প মন্ত্রণালয় নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় গোলাম দস্তগীর গাজী, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় জাহিদ মালেক, খাদ্য মন্ত্রণালয় সাধন চন্দ্র মজুমদার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় টিপু মুনশি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নুরুজ্জামান আহমেদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় শ. ম. রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় মো. শাহাব উদ্দিন, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, ভূমি মন্ত্রণালয় সাইফুজ্জামান চৌধুরী, রেলপথ মন্ত্রলণালয় মো. নূরুল ইসলাম সুজন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় স্থপতি ইয়াফেস ওসমান এবং ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মোস্তাফা জব্বার।

১৯ জন প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন—শিল্প মন্ত্রণালয় কামাল আহমেদ মজুমদার, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ইমরান আহমদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জাহিদ আহসান রাসেল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় নসরুল হামিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় মো. আশরাফ আলী খান খসরু, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মন্নুজান সুফিয়ান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় মো. জাকির হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মো. শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ জুনাইদ আহমেদ পলক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ফরহাদ হোসেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় স্বপন ভট্টাচার্য, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জাহিদ ফারুক, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় মো. মুরাদ হাসান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় শরীফ আহমেদ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় কে এম খালিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ডা. মো. এনামুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় মো. মাহবুব আলী এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।

তিনজন উপমন্ত্রী হচ্ছেন—পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় হাবিবুন নাহার, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ কে এম এনামুল হক শামীম এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

মন্তব্য

মতামত দিন

রাজনীতি পাতার আরো খবর

পদ ছেড়ে দল পুনর্গঠন চান মওদুদ-মোশাররফ

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে নেতাকর্মীদের অবস্থান করাতে না পারার ব্যর্থতা স্বীকার করে দ . . . বিস্তারিত

বহু স্বৈরাচার দেখেছি একজনও টিকতে পারেনি, ভোটাধিকার হাইজ্যাকাররাও পারবে না: ড. কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহবায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন বলেন, ‘৩০ ডিসেম্ব . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com