আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করতে হবে: মির্জা ফখরুল

০৯ নভেম্বর,২০১৮

আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করতে হবে:মির্জা ফখরুল

নিজেস্ব প্রতিনিধি
আরটিএনএন
রাজশাহী: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া নির্বাচনের তফসিল গ্রহণযোগ্য হবে না। এখন সংকট আরও কঠিন, আরও ভয়াবহ। আন্দোলনের মাধ্যমেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবি আদায় করতে হবে।

শুক্রবার রাজশাহী মাদ্রাসা ময়দানে জাতীয় ঐক্য আয়োজিত সমাবেশে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘শত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে আপনার উপস্থিত হয়েছেন। পথে পথে বাধা অতিক্রম করে আপনারা গণতন্ত্রের জন্য এসেছেন। এখন সংকট আরও কঠিন, আরও ভয়াবহ। আজকে প্রশ্ন, গণতন্ত্র থাকবে কি থাকবে না। আমাদের কথা বলার অধিকার, ভোট দেওয়ার অধিকার থাকবে কিনা, তা প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে এই স্বৈরাচার সরকার আটকে রেখেছে। তিনি অসুস্থ, হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল, সেখান থেকে তাঁকে জেলখানায় নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি। তারা পুলিশ দিয়ে, বন্দুক-পিস্তল দিয়ে মানুষকে গণতন্ত্রের অধিকার থেকে বঞ্চিত রেখেছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে জনগণের মধ্যে এক্য গড়ে বাংলাদেশের মুক্তি জন্য লড়াই করছি। সে জন্য আমরা সংলাপে বসেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবে, দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে। কিন্তু তারা তা করেনি।

ফখরুল বলেন, সব জাতীয় নেতারা আমরা এক হয়েছি। গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করার জন্য। কারণ গণতন্ত্র মানে দেশনেত্রী, দেশনেত্রী মানে গণতন্ত্র।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য, এই দেশের জন্য নিজের সারাটা জীবন উজার করে দিয়েছেন খালেদা জিয়া। অল্প বয়সে নিজের স্বামীকে হারিয়েছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নির্যাতিত হয়েছেন। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছেন।

এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা কি খালেদা জিয়ার মুক্তি চান? আপনারা কি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার চান? আপনারা কি ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চান? এ সময় সবাই হাত তুলে ফখরুলের সঙ্গে চাই চাই বলে আওয়াজ তুলেন।

সমাবেশে জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, আমরা নির্বাচনে যেতে চাই, আমাদের উসকানি দেবেন না। ৭ দফা না মানলে দেশে নির্বাচন হবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, সরকার ক্ষমতা ছাড়তে চায় না, তাই সংলাপ সফল হয়নি। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়া ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেছিলেন বলে তা গ্রহণযোগ্য হয়নি, এবারও তাঁকে ছাড়া নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।

ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে এই প্রথম যোগ দিলেন এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে রাজপথে আন্দোলনের বিকল্প নেই।

এই সমাবেশে শারীরিক অসুস্থতার কারণে গণফোরামের সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন যোগ দেননি। তবে তিনি মোবাইল ফোনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। গণফোরাম থেকে সুব্রত চৌধুরী ও মোস্তফা মহসিন মন্টুসহ দলের অন্য নেতারা সমাবেশে যোগ দেন।

এর আগে ২৪ অক্টোবর সাত দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য সামনে রেখে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে সিলেটের রেজিস্টারি মাঠে সমাবেশ করা হয়। ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. কামাল হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

২০১৮ সালের মাঝামাঝি থেকে এ ধরনের একটি ঐক্য গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বৈঠকের পর বৈঠক, নানা হিসাব-নিকাশের পর ঐক্য প্রক্রিয়ায় আসা দলগুলো অভিন্ন দাবি ও লক্ষ্যে এক হয়। এই সব দাবি দাওয়া নিয়ে গত ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সংলাপে ড. কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দেন।

মন্তব্য

মতামত দিন

রাজনীতি পাতার আরো খবর

বন্দী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলখানায় বন্দী বিএনপি চেয়ারপর্সনের বিরুদ্ধে ধর্মীয় উস্কানির এক . . . বিস্তারিত

জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের মূল্য দিতে সবার জন্য কাজ করবো: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণের প্রদত্ত আস্থ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com