জেনারেল এরশাদের মন্ত্রী ছিলাম, কখনো জাপা করিনি: অর্থমন্ত্রী

১১ জুন,২০১৮

সামরিক এরশাদের মন্ত্রী ছিলাম, কখনো জাপা করিনি: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: জাপা সদস্য সেলিম উদ্দিন মুহিতকে জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী উল্লেখ করায় বিষয়টিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘ভবিষ্যতে কেউ আমাকে জাপার সদস্য বা মন্ত্রী বললে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সোমবার জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সমাপনী আলোচনায় অর্থমন্ত্রী জাপার উদ্দেশ্যে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এসময় তিনি নিজেকে জাপার সদস্য বা মন্ত্রী নয়, সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদের সামরিক সরকারের মন্ত্রী বলে উল্লেখ করেন।

এর পর সম্পূরক আলোচনায় মুহিত বলেন, ‘অতীতেও জাপার পক্ষ থেকে এমন কথা উচ্চারণ করা হয়েছে। আমি কোনও দিন জাতীয় পার্টির সদস্য ছিলাম না। মন্ত্রীও না। জেনারেল এরশাদের সামরিক সরকারের মন্ত্রী ছিলাম আমি। তখন জাতীয় পার্টির জন্মও হয়নি।’

জাপা সদস্যরা ভবিষ্যতে এ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে মনে রাখবেন বলেও এসময় আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। এর পর পরই সংসদে ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় জাপার জ্যেষ্ঠ সাংসদ কাজী ফিরোজ রশীদ মুহিতের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন।

ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘মুহিত সাহেব যে জাপার জন্মের আগেই এরশাদের সামরিক সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে বাজেট দিয়েছিলেন এটি আমরা রেকর্ডে রাখছি। অর্থমন্ত্রীর মতো একজন জ্ঞানী-গুণী মানুষকে জাপা ভবিষ্যতে সুযেগ থাকলেও স্থান দেবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় পার্টির সদস্যদের বিরুদ্ধে অর্থমন্ত্রীকে আদালতে যেতে হবে না। তবে ব্যাংক লুটপাটকারীদের সুরক্ষা দেয়ার দায়ে মুহিত সাহেবকে ভবিষ্যতে আদালতে যেতে হতে পারে।’

এসময় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ফিরোজ রশীদের মাউথপিস বন্ধ করে দিয়ে তাকে ছাঁটাই প্রস্তাবের প্রাসঙ্গিক আলোচনা করতে বলেন।

একই আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর ধমকানোতে ক্ষোভ প্রকাশ করে জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিন বলেন, 'আমি তাকে (অর্থমন্ত্রী) জাতীয় পার্টির আমলের মন্ত্রী কথাটি বলিনি। তিনি খুবই শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। ছেলে বড় হলে যেমন বাবা তাকে শাসন করতে পারেন না। তেমনি তিনি বয়স্ক হলেও অন্য সংসদ সদস্যদের ধমকানো তাঁর সঠিক হয়নি।

এ সময় সম্পূরক বাজেট সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, গতবার সম্পূরক বাজেট  নিয়ে যে সকল আলোচনা হয়েছিল, তাতে আমার ইচ্ছা ছিল সম্পূরক বাজেটকে আরেকটু অর্থবহ করা। সেটা বিস্তৃত আলোচনার ব্যবস্থা করা। এটা এ বছর আমি করতে পারিনি সেজন্য খবুই দুঃখিত। আশা করছি ভবিষতে এ ধরনের একটা ব্যবস্থা হবে।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, সম্পূরক বাজেটে আমরা যে পরিবর্তন করেছি, সেটা খুবই সামান্য। মোটামুটিভাবে আগে বিভিন্ন বিভাগে যে ক্ষমতা এই সংসদ দিয়েছিল সেটা যতদূর সম্ভব রক্ষা করেছি। তবে কিছুটা আয়-ব্যয় এদিকে-সেদিক হয়েছে। সেটিজে জায়েজ করতে সম্পূরক বাজেট উত্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্তব্য

মতামত দিন

রাজনীতি পাতার আরো খবর

আমরা আর উদারতা দেখাবো না: নাসিম

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাস . . . বিস্তারিত

বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচন অর্থহীন: নোমান

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, সরকার আমাদের রেখে নির্বাচন পরিচালনার য . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com