মঙ্গলবার মুক্তি পেতে পারেন খালেদা জিয়া

১২ মার্চ,২০১৮

মঙ্গলবার মুক্তি পেতে পারেন খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: জামিন পেলেও সোমবার জেল থেকে বেরুতে পারছেন না বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আরও একদিন অপেক্ষার পর মুক্ত বাতাসের স্বাদ পেতে পারেন তিনি।

জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এবং সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন আরটিএনএনকে বলেন, ‘আরও আনুষ্ঠানিকতা বাকি আছে। বেইলবন্ড বানাতে হবে, সেটি জেলখানায় পৌঁছাতে হবে। আপনারা আশা করতে পারেন আগামীকাল তিনি মুক্তি পাবেন।’

বিএনপির সূত্র জানায়, নতুন করে শ্যোন অ্যারেস্ট না দেখালে বেগম জিয়ার মুক্তিতে কোনও বাধা নেই। আদালতের জামিন আদেশের পর শ্যোন অ্যারেস্টের মতো কোনও ঘটনার আশঙ্কাও করছেন না তারা।

এদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘সরকার যদি জামিনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করে, তাহলে আগামীকালই বেগম খালেদা জিয়া কারাগার থেকে বের হতে পারবেন।’

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার দুপুরে শুনানি শেষে এ বিষয়ে আদেশ দেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, দুদকের পক্ষে খুরশিদ আলম খান এবং খালেদা জিয়ার পক্ষে জয়নুল আবেদীন।

আগের দিন রোববার খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি ওইদিনের কার্যতালিকায় রাখার আদেশ দিয়েছিলেন। তবে মামলার নথি না পৌঁছানো ও আদালতের দেওয়া ১৫ দিন সময় শেষ না হওয়ায় আদেশের জন্য সময় পিছিয়ে সোমবার দিন ধার্য করা হয়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ আদালত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। এরপর থেকে খালেদা জিয়া পুরনো ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

আদালত এই মামলায় বিএনপি প্রধানের ছেলে তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামির ১০ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

এরপর খালেদার আইনজীবীরা তার জামিনের আবেদন করেন। জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হলেও মামলার নথি উচ্চ আদালতে না যাওয়ায় আদেশ দেননি আদালত।

সর্বশেষ গত ২২ ফেব্রুয়ারি আদালত নথি পাঠাতে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেন।

যে ৪টি কারণে খালেদা জিয়ার জামিন

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে যেসব যুক্তিতে জামিন দেয়া হয়েছে তা স্পষ্টভাবে আদালত উল্লেখ করেছেন বলেই জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

চারটি যুক্তি গ্রহণ করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার দুপুরে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকে চার মাসের জামিন দেন।

এজন্য কোন চারটি যুক্তি গ্রহণ করা হয়েছে তাও জানান আদালত।

যুক্তিগুলো হলো, প্রথমত এই মামলায় খালেদা জিয়াকে সংক্ষিপ্ত সাজা দেওয়া হয়েছে, সাধারণত সাত বছরের কম মেয়াদের সাজা হলে জামিন পাওয়া যায়।

দ্বিতীয়ত মামলাটি শুরু থেকেই মোকাবিলা করে আসছেন খালেদা জিয়া্, তৃতীয়ত শুরু থেকেই তিনি জামিনে ছিলেন এবং চতুর্থত তিনি অসুস্থ। ৭৩ বছর বয়সে নানা রোগে আক্রান্ত।

এসব যুক্তি গ্রহণ করেই জামিন দেওয়া হলো খালেদা জিয়াকে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। এরপর পুরান ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে খালেদা জিয়াকে সেখানে রাখা হয়।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল দায়ের করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এর পরই গত ২২ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জামিন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেন। সেইসঙ্গে স্থগিত করেন খালেদা জিয়ার অর্থদণ্ড।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হয়। শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার মামলার নথি নিম্ন আদালত থেকে হাইকোর্টে এসে পৌঁছানোর পরই আদেশ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

এ মামলায় মোট আসামি ছয়জন। তার মধ্যে তিনজন পলাতক। এই তিনজন হলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

মন্তব্য

মতামত দিন

রাজনীতি পাতার আরো খবর

রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, গণমাধ্যমের জন্য এটি হুমকি নয়: তথ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনআলমডাঙ্গা: তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যেই ডিজিটাল নিরাপত্তা . . . বিস্তারিত

নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করতেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সৃষ্টি : মেনন

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি বলেছেন, ‘নি . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com