ব্রেকিং সংবাদ: |
  • আমি নিজ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে পারি না: মাহাথির
  • বিএনপি নির্বাচন বয়কট করেছে বলে গণতন্ত্র বন্ধ থাকেনি: কাদের
  • মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আসুন ঐক্যবদ্ধ হই: ফখরুল

বিএনপি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবে: মওদুদ

১২ ফেব্রুয়ারি,২০১৮

মওদুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে যতদিন পর্যন্ত মুক্তি দেয়া না হবে, ততদিন পর্যন্ত বিএনপি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে কাজ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

সোমবার বিকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ‘স্বাধীনতা হলে’ এক আলোচনা সভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। ‘খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাজা : প্রতিহিংসার রাজনীতি’ শীর্ষক এই আলোচনার আয়োজন করে ‘নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম’ নামের একটি সংগঠন।

কারাগারে সরকার খালেদা জিয়ার সঙ্গে ‘অমানবিক আচরণ করছে’ অভিযোগ করে আলোচনা সভায় মওদুদ বলেন, ‘তাকে প্রতিটি দিন জেলে রাখার জন্য ক্ষমতাসীনদের দশ লক্ষ ভোট কমে যাচ্ছে। খালেদা জিয়া সরকারের প্রতিহিংসার শিকার। তাদের উদ্দেশ্য বেগম জিয়াকে কষ্ট দিতে হবে। কিন্তু তাকে যতই কষ্ট দেবেন, আপনাদের ভোট ততই কমবে।’

তিনি বলেন, ‘যতদিন তিনি জেলখানায় থাকবেন আপনাদের ভোট কমে যাবে। নেতাদের জেলে রাখলে জনপ্রিয়তা কমে না বরং বাড়ে।’

প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কি ভাবছে জানি না, কে তাদের বুদ্ধি দিলো যে জেলখানায় পাঠাতে হবে। জেলে পাঠালেই মনে হয়, বিএনপি একেবারেই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু বিএনপি আরও বেশি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ আছে। যে কোনও সময়ের তুলনায় বিএনপি সবচেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ এবং সংগঠিত।’

সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে খালেদা জিয়ার প্রতি নির্যাতন করতে ‘পরিত্যক্ত অন্ধকার স্যাঁতস্যাঁতে ঘরে’ রেখেছে বলেও অভিযোগ করেন দলটির এই নীতি নির্ধারক।

খালেদা জিয়া মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলন’ চলবে জানিয়ে মওদুদ বলেন, ‘আমরা এই আন্দোলন চালিযে যাবো যতদিন নেত্রী মুক্ত না হন। তাকে মুক্ত করেই আমরা আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। বেগম জিয়া ছাড়া দেশে কোনও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না। তিনি ছাড়া দেশের মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। এজন্য তার মুক্তি প্রয়োজন।’

কারাগারে গেলেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোবলে কোনও ধরনের আঘাত লাগেনি জানিয়ে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘দেশের জনগণ যা ভাবছে, সরকার তার উল্টো ভাবছে। তারা ভাবছে, খালেদা জিয়াকে যতদিন বেশি জেলে রাখা যায় ততই তার এবং বিএনপির মনোবল ভেঙে যাবে। কিন্তু আমরা তার সঙ্গে দেখা করে দেখেছি, খালেদা জিয়ার মনোবল বিন্দুমাত্র কমেনি। বরং আরও বেড়ে গেছে বলে আমাদের কাছে মনে হয়।’

কুমিল্লায় নাশকতার মামলায় খালেদা জিয়াকে শ্যোন এরেস্ট দেখানোর প্রসঙ্গ তুলে সিনিয়র এই আইনজীবী বলেন, ‘পত্রিকায় দেখেছি, তাকে শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয়েছে। করে দেখুক। এবার আমরা ছাড়বো না। যে আন্দোলন সূচনা করেছি, এটা চলবে। যে কোনও ভাবেই হোক আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনকে সামনের দিকে এগিয়ে নেবো।’

সরকার বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সাড়া না দিলে ভবিষ্যতে কঠোর আন্দোলনের ইঙ্গিত দেন বিএনপির এই নীতি নির্ধারক। তিনি বলেন, ‘একটা পর্যায়ে গেলে আমাদের চরম কর্মসূচি দিতে হবে, যদি সরকার আমাদের দাবি না মানে। তখন আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনকে সফল করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বানোয়াট, মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে কারা অন্তরালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর পরিণাম, পরিস্থিতি এবং রাজনীতি ভবিষ্যতে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করবে, যাতে করে সরকার তখন বাধ্য হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন করার জন্য।’

সরকার খালেদা জিয়ার ডিভিশনপ্রাপ্তি নিয়ে প্রথম থেকেই মিথ্যাচার করেছে অভিযোগ করে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘তিনদিন তাকে অমানবিক পরিবেশে ডিভিশন না দিয়ে রাখা হলো- এটি সংবিধান পরিপন্থি। আমি নিজেও কারাগারে গেলে আমাকে ডিভিশন দিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। তখন তো কিছু জিজ্ঞাসা করা হলো না। হঠাৎ বেগম জিয়ার সময়ে আইন কোথা থেকে এলো নতুন করে।’

তিনি বলেন, ওখানে খুব মশা। সেগুলো কে মারবে। খালেদা জিয়ার নির্জন কারাবাস সংবিধান পরিপন্থি। সরাসরি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বেগম জিয়াকে তিনটি কারণে প্রথম দিন থেকেই প্রথম শ্রেণিতে রাখা উচিত ছিলো।’

খালেদা জিয়াকে কারাগারে কষ্ট দিতে রায়ের কপি দেয়ায় গড়িমসি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মওদুদ।

তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবারে আমরা রায়ের কপি চেয়েছি আপিল ফাইল করতে। তারা এটা নিয়ে গড়িমসি করছে। প্রত্যাশা কিছু রবিবার পাবো। বিচারক কোর্ট ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। আজকে এখন পর্যন্ত শুনি নাই আমরা পেয়েছি কি না। একেকটা দিন দেরি করলে বেগম জিয়া একটি দিন বেশি কষ্ট পাবেন- এটি তাদের মনের ইচ্ছা মনে হয়। জেলখানায়ও যদি মানবিক আচরণ না করে তাহলে তো বলবো, এই সরকার অমানবিক সরকার মানবতা বোধ নেই।’

এ সময় আপিল করলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া সাজার রায় টিকবে না বলেও দাবি করেন মওদুদ।

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সহ সভাপতি নাসির উদ্দিন হাজারীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা রহমত উল্লাহ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।

মন্তব্য

মতামত দিন

রাজনীতি পাতার আরো খবর

‘বিএনপির অত্যাচার নির্যাতনের চিত্র জাতীয় পার্টি তুলে ধরতে পারে’

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: বিএনপির আমলে জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতাকর্মীদের ওপর যে অত্যাচার নির্যাতন হয়েছিল তার চিত্র দ . . . বিস্তারিত

‘এই উলঙ্গ সরকারকে শায়েস্তা করার জন্য সংগ্রামের বিকল্প নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, ‘আমি আগেও বলেছি আওয়ামী লীগ উলঙ্গ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com