ব্রেকিং সংবাদ: |
  • আমি নিজ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে পারি না: মাহাথির
  • বিএনপি নির্বাচন বয়কট করেছে বলে গণতন্ত্র বন্ধ থাকেনি: কাদের
  • মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আসুন ঐক্যবদ্ধ হই: ফখরুল

প্রেসক্লাবের সামনে ১১টায় বিএনপির মানববন্ধন

১২ ফেব্রুয়ারি,২০১৮

প্রেসক্লাবের সামনে ১১টায় বিএনপির মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আজ মানববন্ধন করবে বিএনপি। কর্মসূচীতে অংশ নিবে ২০ দলীয় জোট বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে। রবিবার দুপুরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ তথ্য সাংবাদিকদের জানান।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ০৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তারেক রহমানসহ বাকিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পর ওই দিনই কড়া নিরাপত্তায় খালেদা জিয়াকে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন।

‘খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির কর্মসূচীতে অংশ নিবে ২০ দলীয় জোট’
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির কর্মসূচী অংশ নিবে ২০ দলীয় জোট বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রবিবার সন্ধ্যায় গুলশানে চেয়ারপাসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সাথে বৈঠক শেষে জানান তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। মিথ্য ও বানোয়াট মামলায় তাকে সাজা দেওয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তাঁরা।

এ ছাড়া বৈঠকে জোটের পক্ষ থেকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সারা দেশে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মুক্তি দাবি করা হয়েছে বলে জানান মির্জা ফখরুল।

বিএনপি নেতা বলেন, বৈঠকে বিএনপির চলমান আন্দোলনের কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশ গ্রহণের বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০ দলীয় জোট। খালেদা জিয়াসহ সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির দাবিতে আগামী দিনে জোটের পক্ষ থেকে সমন্বিত কর্মসূচি দেওয়া হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও জোট সম্প্রসারণে সমমনা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০ দল। তিনি বলেন, ‘২০ দলীয় জোট, এই স্বৈরাচারি সরকারের গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করেছে। আসন্ন নির্বাচনে যেন সব দলের অংশগ্রহণ করতে পারে সেজন্য নিরপেক্ষ ও সহায়ক সরকারের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছে। অবিলম্বে খালেদা জিয়াসহ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের মুক্তি দাবি করা হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকুক বা যেখানেই থাকুক তিনিই জোটের নেত্রী। তিনিই ২০ দলের নেত্রী। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সমন্বয়ক হিসেবে আমি কাজ করেছিলাম। এখনো করছি।’

এদিকে, ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে লন্ডন থেকে টেলিফোনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যোগ দেন বলে জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম। জনগণের জন্য একটা প্লাটফর্ম তৈরির ওপর বিএনপি জোর দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শেষ সংবাদ সম্মেলন করে যে জাতীয় ঐক্য গঠন করার জন্য বলেছেন ২০ দলের নেতারা তার সে বক্তব্য সমর্থন করেছেন।

এর আগে গতকাল শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে খালেদা জিয়াকে ‘ভিত্তিহীন বানোয়াট মামলায়’ সাজা দেওয়ার প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি।

কর্মসূচি শুরু হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সোমবার থেকে। ওই দিন ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে জেলা, মহানগর, থানা ও উপজেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে। পরের দিন আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে জেলা, মহানগর, থানা ও উপজেলায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। শেষের দিন আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে জেলা, মহানগর, থানা ও উপজেলায় অনশন কর্মসূচি পালিত হবে।

বিএনপির পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ২০ দলের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য আবদুল হালিম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, জাগপা সভাপতি অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান, ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, পিপলস লীগের চেয়ারম্যান গরীবে নেওয়াজ, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামী ঐক্যেজোটের (একাংশ) আবদুর রকিব, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন, ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন মুনি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এইচ এম কারুজ্জামান, এনডিপির খন্দকার গোলাম মুর্তজা ও সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ।

এর আগে রবিবার বিকেল ৫টার দিকে বৈঠকটি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান।

এর আগে শনিবার রাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, রবিবার বিকাল ৫টায় ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে। বৈঠকে আগামী দিনে জোটের করণীয় সম্পর্কে আলোচনা হবে। বর্তমান পরিস্থিতির সার্বিক পর্যালোচনা হবে।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় দলের পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে ভাইস-চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুগ্ম-মহাসচিবদের সাথে বিএনপির স্থায়ী কমিটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি এখন আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ। চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবে বিএনপি।

এসময় বৈঠক থেকে বেরিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল এখন আগের চাইতে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল বলেন, লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান টেলিফোনে বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অনুপ্রেরণামূলক। এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পুরোনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিত্যক্ত ও স্যাঁতস্যাঁতে কক্ষে একাকী রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। এমনকি খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত গৃহকর্মী ফাতেমাকেও তার সঙ্গে থাকতে দেওয়া হয়নি। বরং তাকে জেলখানার অন্য একটি কক্ষে থাকতে দেওয়া হয়েছে।

ফখরুল অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়া যে ঘরটিতে আছেন সেটি নড়বড়ে ও ব্রিটিশ আমলে তৈরি হওয়ায় বহু পুরোনো। তিনি অসুস্থ হওয়ার পরেও তাকে ওষুধ দেওয়া হয়নি, তার চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থাও করা হয়নি।

বিএনপির চেয়ারপারসনকে সাজা দেওয়ার প্রতিবাদ করায় দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান দলটির এই নেতা। আন্দোলন করতে গিয়ে যারা গ্রেপ্তার বা আহত হয়েছেন তাদের জন্য সহানুভূতি জানান তিনি। সেইসঙ্গে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করায় সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

মন্তব্য

মতামত দিন

রাজনীতি পাতার আরো খবর

‘বিএনপির অত্যাচার নির্যাতনের চিত্র জাতীয় পার্টি তুলে ধরতে পারে’

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: বিএনপির আমলে জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতাকর্মীদের ওপর যে অত্যাচার নির্যাতন হয়েছিল তার চিত্র দ . . . বিস্তারিত

‘এই উলঙ্গ সরকারকে শায়েস্তা করার জন্য সংগ্রামের বিকল্প নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, ‘আমি আগেও বলেছি আওয়ামী লীগ উলঙ্গ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com