মায়ানমারের সেনাসহ ১৬ জন গ্রেপ্তার

১১ ফেব্রুয়ারি,২০১৮

মায়ানমারের সেনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: ধরে নিয়ে ১০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করে গণকবর দেয়ার ঘটনায় মায়ানমারের সাত সেনা সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে মায়ানমার সরকার। রয়টার্সে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশের দুই দিনের মাথায় রবিবার মায়ানমার সরকারের এক মুখপাত্রের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা আসল। যদিও এই প্রতিবেদনের সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো সম্পর্ক নেই বলে মায়ানমার সরকারের ওই মুখপাত্র জানান।

গত শুক্রবার রয়টার্সে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে একটি গ্রামে ১০ রোহিঙ্গাকে ধরে নিয়ে সেনা সদস্য ও গ্রামবাসীরা হত্যা করে গণকবর দেয়। এই ঘটনা অনুসন্ধান করতে গিয়ে রয়টার্সের দুই সাংবাদিক মায়ানমার এর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। রাষ্ট্রীয় গোপনীয় তথ্য প্রকাশের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বিচার চলাকালেই এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সেই প্রতিবেদন প্রকাশের পর আজ রবিবার সরকারের একজন মুখপাত্র দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিলেন।

জো হিতে নামের মায়ানমার সরকারের এই মুখপাত্র বলেছেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনায় সাতজন সেনা সদস্য, তিনজন পুলিশ সদস্য ও ছয়জন গ্রামবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় তদন্ত করা হচ্ছে। দেশটির সরকারের দাবি রয়টার্সের প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই থেকেই এই তদন্ত প্রক্রিয়া চলছিল।

গত ১০ জানুয়ারি দেশটির সেনাবাহিনী জানায়, সেনাবাহিনীর উপর সন্ত্রাসী হামলাকারী ২০০ জন সন্ত্রাসীর মধ্যে ওই ১০ রোহিঙ্গাও ছিল। যদিও রয়টার্সের পক্ষ থেকে অনুসন্ধানে বৌদ্ধ ও মুসলিম গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে কয়েকজনকে তরবারি নিয়ে হামলা করে বৌদ্ধ গ্রামবাসী। বাকিদের গুলি করে হত্যা করে সেনারা। এখন সেনাবাহিনী বলছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত বছর আগস্টে মায়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর চৌকিতে হামলার পর থেকে রোহিঙ্গা গ্রামবাসীদের উপর হামলা চালাতে থাকে মায়ানমার সেনাবাহিনী। এতে অন্তত সাত লাখ লোক শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এই ঘটনাকে জাতিগত নিধন ও গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র।

এর আগে রোহিঙ্গা মুসলিমকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে মায়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে বলা হচ্ছে, ‘তোমরা (রোহিঙ্গা) আমাদের সঙ্গে কথা বলবে না। তোমরা আমাদের কেউ না। আমাদের ভূখণ্ড ছেড়ে বাংলাদেশে চলে যাও।’

রবিবার সকালে জিরো লাইন থেকে রোহিঙ্গাদের সরে যেতে মায়ানমারের সেনাবাহিনী কাটাতারের বেড়ার কাছে এসে মাইকিং করে। গত কয়েক দিন থেকেই বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্র সীমান্তের জিরো লাইনে এ নির্দেশনা দিয়ে তারা মাইকিং করছে। বান্দরবান সীমান্তের জিরো লাইনে থাকা ৬ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা রয়েছে।

মায়ানমার থেকে সর্বশেষ পর্যায়ে যেসব রোহিঙ্গা নারীপুরুষ বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারীদের ভাষ্যমতে, মাইকিং করে বলা হচ্ছে, ‘মায়ানমার তোমাদের দেশ নয়। তোমরা বাঙালি। তোমাদের দেশ বাংলাদেশ। ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তোমরা মায়ানমার ছেড়ে চলে যাও। না গেলে তোমাদের গুলি করে হত্যা করা হবে।’

এ ঘটনার পর রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জিরো লাইন স্পর্শকাতর হওয়ায় এসব রোহিঙ্গাদের কোথাও সরিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। গত বছরের ২৫ আগস্ট মায়ানমারের রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নেন।

এদের মধ্যে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২০ হাজার বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান নেন, যার ৬ হাজারই তুমব্র সীমান্তের জিরো লাইনে। ইতোমধ্যে ইউএনএইচসিআর’র সহায়তায় জানুয়ারিতে উপজেলার সাপমারা ঝিড়ি, বড় ছনখোলা, দোছড়ি ও ঘুনধুম সীমান্তের বাহির মাঠ এলাকায় অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে সরিয়ে নেয়। তবে জিরো লাইনের ৬ হাজার রোহিঙ্গাকে কোথাও সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়নি।

উখিয়ার বালুখালী মাদ্রাসার সামনে দেখা হয় মায়ানমারের রাচিদংয়ের ধইনচ্যাপাড়ার বাসিন্দা সাইফুল্লাহর সঙ্গে।
তিনি বলেন, ‘মাইকিং করে চলে যেতে বলছে। আবার অতর্কিত এসেও ঘরে আগুন দিচ্ছে। গুলি করছে। বার্মার মগরা যা ইচ্ছা তা-ই করছে।’

উখিয়ার কুতপালং এলাকায় টেলিভিশন উপকেন্দ্রের সামনে দেখা হয় মায়ানমারের মংডু জেলার থামি থেকে আসা দিলারার তিনি বলেন, ‘আমাদের পাড়ায় প্রায় ৫০০ পরিবার ছিল। গত এক সপ্তাহে ২১ জনকে কেটে হত্যা করা হয়েছে। এরপর গতকাল (শুক্রবার) থেকে আবার মাইকিং করে আমাদের ১২ তারিখের মধ্যে চলে যেতে বলছে। তাই আর সেখানে থাকার সাহস পাইনি। দুইদিনেই আমাদের পুরো পাড়া সাফ হয়ে গেছে। সবাই বাংলাদেশে চলে এসেছে।’

তিনি আরো বলেন, মঙ্গলবার মধ্যে রোহিঙ্গাদের মায়ানমার ছাড়ার আহ্বান জানিয়ে দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে মায়ানমার ছেড়ে না গেলে গুলি করে মেরে ফেলা হবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

জিরো লাইনের রোহিঙ্গা আরিফ ও দিল মোহাম্মদ জানান, এতদিন তারা ভালই ছিলেন। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে মায়ানমারের সেনাবাহিনী ও বিজিপি প্রায়ই ফাঁকা গুলিবর্ষণ করছে। তুমব্র সীমান্তের ওপারে ঢেকুবুনিয়া এলাকায় নতুন করে বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে।

মন্তব্য

মতামত দিন

রাজনীতি পাতার আরো খবর

অরফানেজে খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়লো

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জ . . . বিস্তারিত

গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মহাসমাবেশ করবে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: গণতন্ত্র এবং মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সারাদেশের আইনজীবীদের সম্পৃক্ত করার মাধ্য . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com