বিচারবিভাগের স্বাধীনতা আবারো প্রশাসনের হাতে, একে মুক্ত করা গেল না: ফখরুল

১২ ডিসেম্বর,২০১৭

বিচারবিভাগের স্বাধীনতা আবারো প্রশাসনের হাতে, একে মুক্ত করা গেল না: ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিচারবিভাগের স্বাধীনতা আবারো প্রশাসনের হাতে, একে মুক্ত করা গেল না।

মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বিচার বিভাগের যতটুকু স্বাধীনতা ছিল তাও কেড়ে নিয়েছে সরকার। ফলে জনগণের ন্যায় বিচার প্রাপ্তির আর কোনো আশা রইল না।

গুমের প্রতিকার পেতে এখন আর আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই: ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গুমের প্রতিকার পাওয়ার একমাত্র সুযোগ ছিল আদালতে সরকার সেটাও সরকার দখলে নেয়ায় এখন আর আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।

রবিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সৌদি আরবে জিয়া পরিবারের বিনিয়োগের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন: মির্জা ফখরুল
সৌদি আরবে জিয়া পরিবারের ১২’শ কোটি ডলারের বিনিয়োগের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এই খবরের বিষয়ে আলাপ করেছি। কেউ কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। কারণ খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভা হয়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের একহাত নিলেন। তারা নাকি সৌদি আরবে জিয়া পরিবারের ১২’শ কোটি ডলারের বিনিয়োগের খবর প্রকাশ করেনি। এটা প্রধানমন্ত্রীর এক ধরনের মিথ্যাচারের রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই নয়।

মির্জা ফখরুলের অভিযোগ ‘বর্তমান সরকার মিথ্যাচারের রাজনীতি করে। বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য যা কিছু দরকার তাই করছে। যে ক্ষমতায় আসতে চাচ্ছে তাকেই গুম করে দেওয়া হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে। একটি কথা খুব স্পষ্ট- বাংলাদেশের মানুষ আর কখনো ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন হতে দেবে না। আমরা নির্বাচন চাই। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। তাই নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে।

মির্জা ফখরুল সরকারের উদ্দেশে বলেন, প্রত্যাশা করি আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হউক, কথায় কথায় আন্ডারইস্টিমেট করবেন না। দেশের মানুষ সব কিছু মেনে নেবে তা ভাববেন না। এরাই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বৈরচারকে বিদায় করেছে, এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় পাকহানাদারদের বিদায় করতে লড়াই করেছে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মিথ্যাচার, অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করে কি অর্জন করতে চান। আবার নির্বাচন করতে চান। বিএনপিকে নির্বাচন করতে দেয়া যাবে না, নির্বাচন ও রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চান। যে সংসদে ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয় সেই সংসদ বাংলাদেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে না। যে আইন তৈরি করা হয়, সংবিধান যেভাবে পরিবর্তন করা হয় সেটা জনগণের জন্য আইন কিংবা সংবিধান নয়। আর এটাই বাস্তবতা।

ক্ষমতায় যেতে যারা বাঁধা দেবে ও দিচ্ছে তাদেরকে গুম করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার উল্লেখ করে বিএনপির

মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ নতুন করে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে মানুষকে বোকা বানিয়ে অধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চায়। মূলত আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখন তাদের আসল চেহারায় ফিরে আসে। সেই চেহারা হচ্ছে ধ্বংসাত্মক ও ফ্যাসিস্ট। মনে রাখতে হবে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের যে লড়াই তা অসম। তবে আমরা এখন নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্দোলন করে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিএনপির জন্য আন্দোলনই এক মাত্র পথ। অথচ প্রধানমন্ত্রী কথার জালে বিএনপিকে দিনে নয়াপল্টন এবং রাতে গুলশান অফিসে আটকে রেখেছে।

মির্জা ফখরুলের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিবেন। প্রশ্নটা হচ্ছে আপনি কোন বিচারকের কাছে বিচার চাইবেন, তাদের কি সেই বিচার বিভাগ ও বিবেক আছে। যারা বিচারের আগেই ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথার ফাঁদে পড়ে আন্দোলন ব্যাহত না করতে বিএনপিকে পরামর্শ দেন তিনি।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সবাই আজ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ক্ষুব্ধ তবে আমি ততোটা ক্ষুব্ধ নই। কারণ ইতিমধ্যে রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় উনি উনার পিতাকে ছাড়িয়ে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী আপনি বলেছেন প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন আর হবে না, তাহলে ভয়টা কোথায়? তবে সম্প্রতি কিছু অসঙ্গতিপূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলের প্রতি উদ্দেশ্য করে বলেছেন বিএনপি নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে আসবে। আসলেই কী এটা উনার বক্তব্য নাকি ভারতের কারো কাছ থেকে পাওয়া নির্দেশ?

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সভাপতি অধ্যাপক রেহেনা প্রধান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, জাতীয়তাবাদী মুত্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. ইকবাল হাসান, অ্যাডভোকেট আজাদ মাহমুদ, শাহজাদা আলম, মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, সাহিদুর রহমান তামান্না প্রমুখ।

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন আর চায় না। আগামী নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ, কোনও দলীয় সরকারের অধীনে নয়।’

মন্তব্য

মতামত দিন

রাজনীতি পাতার আরো খবর

‘নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে জাতীয় পার্টির সমর্থন নেই’

নিজস্ব প্রতিনিধিআরটিএনএনরংপুর: জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার নি . . . বিস্তারিত

সোহেল ৫ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: প্রিজন ভ্যান থেকে আসামি ছিনতাই ও পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা দানের মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com